hadith book logo

হাদীস সংকলনের ইতিহাস

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২০

ইমাম মুসলিম (র)

ইমাম মুসলিম (র)-এর পূর্ণ নাম আবূল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী। তিনি ২০৪ হিজরী সনে খুরাসান অন্তঃপাতী নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল থেকেই তিনি হাদীস শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। হাদীস শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি মুসলিম জাহানের সব কয়টি কেন্দ্রই গমন করেন। ইরাক, হিজায, সিরিয়া, মিসর প্রভৃতি শহরে উপস্থিত হইয়া তথায় অবস্থানকারী হাদীসের বড় বড় উস্তাদও মুহাদ্দিসদের নিকট হইতে হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহ করেন।

ইমাম বুখারী (র) যখন নিশাপুর উপস্থিত হন, তখন ইমাম মুসলিম (র) তাঁহার সঙ্গ ধারণ করেন। তাঁহার বিরাট হাদীস জ্ঞান হইতে তিনিও যথেষ্ট মাত্রায় অংশগ্রহন করেন। এই শহরে ইমাম বুখারী (র)-এর বিরুদ্ধে প্রবণ প্রচারণা চলিতে শুরু করিলে ইমাম মুসলিম ইহার প্রতিরোধ করিত চেষ্টিত হন। একদিন একটি ঘটনা ঘটিয়া যায়। তিনি তাঁহার হাদীসের উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আযলীর মজলিসে অন্যান্য শিক্ষার্থীর সহিত উপস্থিত ছিলেন। মুহাদ্দিস যাহলী সহসা ঘোষণা করেনঃ

বিশেষ একটি মাসায়ালায় যে লোক ইমাম বুখারীর মত বিশ্বাস করে ও তাঁহার রায় কবুল করে, সে যেন আামার এই মজলিস হইতে উঠিয়া যায়।

ইহা শ্রবণের সঙ্গে সঙ্গে ইমাম মুসলিম উঠিয়া দাঁড়াইলেন এবং নিজের ঘরে ফিরিয়া আসিয়া এই উস্তাদের নিকট হইতে শ্রুত ও গৃহীত হাদীসসমূহের লিখিত সম্পদ ফেরত পাঠাইয়া দিলেন। অতঃপর তিনি যাহলীর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করেন।

ইমাম মুসলিম হাদীস সম্পর্কে বিরাট ও বিশাল জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি যে হাদীসের ইমাম ছিলেন। এ বিষয়ে হাদীসজ্ঞ ব্যক্তিগণ সম্পূর্ণ একমত।

সেকালের বড় বড় মুহাদ্দিসগণ তাঁহার নিকট হইতে হাদীস শিক্সা ও গ্রহণ করিয়াছেন। এই পর্যায়ে আবূ হাতিম আর-রাযী, মূসা ইবনে হারুন, আহমদ ইবনে সালমা, ইয়াহইয়া ইবনে সায়েদ, মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ এবং ইমাম তিরমিযী প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা ইমাম মুসলিমের বিরাটত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে একমত। হাদীসে ইমাম মুসলিমের অতি উচ্চ মর্যাদা ও স্থানের কথা তারা সকলেই স্বীকার করিয়াছেন। উপরস্তু ইমাম মুসলিম (র)-এর মহামূল্য গ্রন্হাবলী ও তাঁহার গভীর পাণ্ডিত্যের কথা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে। তন্মধ্যে তাঁহার সহীহ মুসলিম, আল-মুসনাদুল কবীর ও আল-জামেউল কবীর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইমাম মুসলিম ২৬১ হিজরী সনে ৫৭ বৎসর বয়সে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন।