১
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪৮
হাদীস গ্রন্হসমূহের পর্যায় বিভাগ
ইসলামী শরীয়াতের নিয়ম-বিধান ও ইসলামের আদেশ-নিষেধ সবিস্তারে জানিবার একমাত্র উপায় হইতেছে রাসূলের হাদীস। আর রাসূলের হাদীস জানিবারও একমাত্র উপায় হইতেছে রাসূল হইতে শুরু হওয়া বর্ণনাসমূহ যাচাই-বাছাই করা- তাহা স্বয়ং রাসূল হইতে সূচিত কিংবা কোন সাহাবী বা কোন তাবেয়ী হইতে সূচিত হউক না কেন। তবে বর্ণনা ধারার বিশুদ্ধতা, নির্ভূলতা ও অকাট্যতার প্রতি পূর্ণ সজাগ দৃষ্টি অবশ্যই রাখিতে হইবে। আর রাসূলের হাদীসসমূহের বর্ণনা ধারা অনুসন্ধান করা এবং সে সবের যাচাই-বাছাই করার ও বর্তমানকালে সংকলিত হাদীস গ্রন্হসমূহ পর্যালোচনা ছাড়া দ্বিতীয় কোন উপায় থাকিতে পারে না। কেননা বর্তমনা কালে রাসূলের এমন কোন হাদীসের সন্ধান লাভ ও উহার সনদ সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়া= যাহা ইতিপূর্বৈ কোন হাদীষ গ্রন্হেই সংকলিত হয় নাই- একেবারে অসম্ভব ব্যাপার।
অতঃপর সকল প্রকার হাদীস এবং সে সবের সনদ লাভ করার জন্য একালের সমস্ত মানুষকেই কেবলমাত্র সংকলিত ও সুরক্ষিত হাদীস গ্রন্হসমূহেরই আশ্রয় গ্রহণ করিতে হইবে, একান্তভাবে উহারই উপর নির্ভর করিতে হইবে। আর এইজন্য। হাদীসগ্রন্হসমূহ সম্পর্কে আমাদিগকে বিস্তারিত ও সম্যক ধারনা হাসিল করিতে হইবে। জানিতে হইবে সে সবের শ্রেণী, স্থান ও মর্যাদা।
হাদীস গ্রন্হসমূহ প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধতার দিক দিয়া চারটি শ্রেণীতে পর্যায়িত। কেননা হাদীসসমূহই বিভিন্ন পর্যায়ের। সর্বোচ্চ পর্যায়ের হইতেছে সেই সব হাদীস, যাহা বর্ণনা পরম্পরায় পূর্ণ ধারাবাহিকতা সহকারে বর্ণিত () এবং যাহা কবুল করা ও তদানুযায়ী আমল করার ব্যাপারে সমগ্র মুসলিম উম্মত সম্পূর্ণ একমত।
অতঃপর সেই সব হাদীস, যাহা বিভিন্ন সূত্র হইতে বর্ণিত ও প্রাপ্ত, যাহাতে কোন প্রকার সন্দেহ বা সংশয়ের স্পর্শ পর্যন্ত লাগে নাই এবং যাহাকে ভিত্তি করিয়া সমগ্র ফিকাহবিদ আমল করিয়াছেন। অন্তত মক্কা-মদীনার হাদীসবিদগণ যেসব হাদীস সম্পর্কে কোনরূপ মতভেদ প্রকাশ করেন নাই। কেননা এই স্থানদ্বয় খুলাফায়ে রাশেদুনের জীবন যাপন ও কর্মকেন্দ্র, হাদীসের সকল দেশীয় আলিমগণের ইহা মিলনকেন্দ্র- সব সময়ই তাঁহাদের যাতায়াত রিহয়াছে, এক শ্রেণীর পর পরবর্তী শ্রেণীর মুহাদ্দিসদের অবিচ্ছিন্ন যাতায়াত রহিয়াছে এই কেন্দ্রদ্বয়ে। এই কারণে হাদীসে কোন প্রকার বাহ্যিক দোষ বা ভূল রহিয়াছে বলিয়া কিছুতেই ধারণা করা যায় না। আর সেই হাদীস বিরাট মুসলিম জাহানে প্রখ্যাত ও অনুসৃত হইয়া রহিয়াছে সব সময়ই এবং সাহাবী ও তাবেয়ী পর্যায়েল বিপুল সংখ্যক লোক হইতে তাহা বর্ণিতও হইয়াছে।
ইহার পর হইতেছে সেই সব হাদীসের স্থান, যাহা বিশুদ্ধ প্রমাণিত, যাহার সনদ উত্তম-নির্দোষ, হাদীসবিদগণ সেই সব হাদীস সম্পর্কে এই সাক্ষ্যই দিয়াছেন। উহা পরিত্যক্তও হয় নাই। বরং উহা গ্রন্হে সংকলিত হওয়ার পূর্ব ও পরে সব সময়ই কার্যত অনুসৃত হইয়াছে। হাদীসের ইমামগণ পূর্ব হইতেই উহার বর্ণনা শুরু করিয়াছেন। ফিকাহবিদগণ উহার ভিত্তিতে ফিকাহ রচনা করিয়াছেন, উহার উপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করিয়াছেন।
অতঃপর সকল প্রকার হাদীস এবং সে সবের সনদ লাভ করার জন্য একালের সমস্ত মানুষকেই কেবলমাত্র সংকলিত ও সুরক্ষিত হাদীস গ্রন্হসমূহেরই আশ্রয় গ্রহণ করিতে হইবে, একান্তভাবে উহারই উপর নির্ভর করিতে হইবে। আর এইজন্য। হাদীসগ্রন্হসমূহ সম্পর্কে আমাদিগকে বিস্তারিত ও সম্যক ধারনা হাসিল করিতে হইবে। জানিতে হইবে সে সবের শ্রেণী, স্থান ও মর্যাদা।
হাদীস গ্রন্হসমূহ প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধতার দিক দিয়া চারটি শ্রেণীতে পর্যায়িত। কেননা হাদীসসমূহই বিভিন্ন পর্যায়ের। সর্বোচ্চ পর্যায়ের হইতেছে সেই সব হাদীস, যাহা বর্ণনা পরম্পরায় পূর্ণ ধারাবাহিকতা সহকারে বর্ণিত () এবং যাহা কবুল করা ও তদানুযায়ী আমল করার ব্যাপারে সমগ্র মুসলিম উম্মত সম্পূর্ণ একমত।
অতঃপর সেই সব হাদীস, যাহা বিভিন্ন সূত্র হইতে বর্ণিত ও প্রাপ্ত, যাহাতে কোন প্রকার সন্দেহ বা সংশয়ের স্পর্শ পর্যন্ত লাগে নাই এবং যাহাকে ভিত্তি করিয়া সমগ্র ফিকাহবিদ আমল করিয়াছেন। অন্তত মক্কা-মদীনার হাদীসবিদগণ যেসব হাদীস সম্পর্কে কোনরূপ মতভেদ প্রকাশ করেন নাই। কেননা এই স্থানদ্বয় খুলাফায়ে রাশেদুনের জীবন যাপন ও কর্মকেন্দ্র, হাদীসের সকল দেশীয় আলিমগণের ইহা মিলনকেন্দ্র- সব সময়ই তাঁহাদের যাতায়াত রিহয়াছে, এক শ্রেণীর পর পরবর্তী শ্রেণীর মুহাদ্দিসদের অবিচ্ছিন্ন যাতায়াত রহিয়াছে এই কেন্দ্রদ্বয়ে। এই কারণে হাদীসে কোন প্রকার বাহ্যিক দোষ বা ভূল রহিয়াছে বলিয়া কিছুতেই ধারণা করা যায় না। আর সেই হাদীস বিরাট মুসলিম জাহানে প্রখ্যাত ও অনুসৃত হইয়া রহিয়াছে সব সময়ই এবং সাহাবী ও তাবেয়ী পর্যায়েল বিপুল সংখ্যক লোক হইতে তাহা বর্ণিতও হইয়াছে।
ইহার পর হইতেছে সেই সব হাদীসের স্থান, যাহা বিশুদ্ধ প্রমাণিত, যাহার সনদ উত্তম-নির্দোষ, হাদীসবিদগণ সেই সব হাদীস সম্পর্কে এই সাক্ষ্যই দিয়াছেন। উহা পরিত্যক্তও হয় নাই। বরং উহা গ্রন্হে সংকলিত হওয়ার পূর্ব ও পরে সব সময়ই কার্যত অনুসৃত হইয়াছে। হাদীসের ইমামগণ পূর্ব হইতেই উহার বর্ণনা শুরু করিয়াছেন। ফিকাহবিদগণ উহার ভিত্তিতে ফিকাহ রচনা করিয়াছেন, উহার উপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করিয়াছেন।