hadith book logo

নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪০

প্রশ্নঃ ১৩৮) স্বামীকে অধিকার দেয়া হয়েছে স্ত্রীকে প্রহার করার, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ব্যাখ্যা কি?

সূরা আন নিসার ৩৪ আয়াতে বলা হয়েছে “আর যখন কোন নারীর অবাধ্যতার আশংকা করো তা হলে তোমরা তাদের (ভালো কথার মাধ্যমে) উপদেশ দাও, (তাতে ফল না হলে) তাদের থেকে বিছানা আলাদা করো, (তাতেও সংশোধন না হলে চুড়ান্ত ব্যবস্থা হিসেবে) তাদের (মৃদু) প্রহার করো, যদি তারা এমনিতেই সংশোধিত হয়, তবে (কষ্ট দেয়ার জন্য) তাদের কোন অজুহাত খুঁজে বেড়িয়োনা।

এই আয়াতের প্রেক্ষাপট : যায়িদ ইবনে জুবায়ের (রা.)-এর কন্যা হাবিবা (রা.)এর বিয়ে হয় সাদ ইবনে রাবী (রা.)-র সাথে। একদিন স্বামী চড় দিলে হাবিবা (রা.) এসে পিতার কাছে অভিযোগ করলে তিনি মেয়েসহ রসূল (ﷺ) -এর কাছে আসেন মিমাংসার জন্য। রসূল আys হাবিবাকে বলেন স্বামীর উপর কিসাস নেয়ার জন্য। একথা শুনে তারা যখন চলে যাচ্ছিলেন তখন এই আয়াত নাযিল হয় যাতে স্বামীর উপর কিসাস নিষিদ্ধ হয়। এর কিছুদিন পরে মদিনার মহিলারা এসে রসূল (ﷺ) -এর স্ত্রীদের কাছে স্বামীদের মারধরের অভিযোগ করলে রসূল (ﷺ) বলেন, দেখা যাচ্ছে বহু মহিলা মুহাম্মাদের পরিবারের কাছে তাদের স্বামীদের সম্পর্কে অভিযোগ করছে, ওরা (মারধরকারী স্বামীরা) মোটেই তোমাদের মধ্যে ভালো লোক নয়। রসূলুল্লাহ নিজের জীবনে শুধু প্রথম ২টা ব্যবস্থা নিয়েছেন, তিনি জীবনে কোন স্ত্রীকে প্রহার করেন নি, এমনকি বকাও দেন নি। রসূল (ﷺ) বলেছেন, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম, সে সবচেয়ে বেশী পূর্ণ ঈমানদার। আর তোমাদের মধ্যে ভালো লোক হলো সেই সে তার স্ত্রীর নিকট সবচেয়ে ভালো। রসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ভালো লোক হলো সে, যে তার স্ত্রী ও পরিবারের জন্য ভালো। আর আমি নিজের পরিবারের জন্য তোমাদের তুলনায় অনেক ভালো। এরপরে কারো পক্ষে স্ত্রীকে প্রহার করা কিভাবে সম্ভব?