hadith book logo

নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৯

প্রশ্ন : ৫৫) পুরুষ ও নারীদের সম্মিলিত অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব কেন পুরুষদের?

আল কুরআনে আল্লাহ রব্বল আলামীন বলেন, “পুরুষগণ নারীদের পরিচালক এই কারণে যে আল্লাহ তাদের এক পক্ষকে অপর পক্ষের উপর বিশিষ্টতা দান করেছেন এবং এই জন্যও যে পুরুষ তাদের জন্য তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে থাকে।” (সূরা নিসা : ৩৪) ‘পরিচালক’ তাঁকেই বলা হয় যিনি কোন ব্যক্তি, সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। আল্লাহ রবুল আলামীন সৃষ্টিগতভাবেই এই ধরনের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতার ক্ষেত্রে পুরুষদেরকে বিশিষ্টতা দান করেছেন। এই বিশিষ্টতার কারণেই পরিবার সংগঠনের ক্ষুদ্র পরিসর থেকে শুরু করে রাষ্ট্র-সংগঠনের বৃহৎ পরিসর পর্যন্ত নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব পুরুষদের উপরই অর্পিত। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে নারী সাহাবীগণ (রাদিআল্লাহু আনহা) মসজিদে গিয়ে সলাতের জামাআতে শরীক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ঈদের ময়দানে যেতে চাইতেন। যুদ্ধের ময়দানে যাবার আগ্রহও তাঁরা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু কেউ রাষ্ট্র প্রধান হতে চাননি বা মসজিদের ইমাম হতে চাননি বা খলিফা হতে চাননি বা কোন এলাকার গর্ভনর হতে চাননি। যদি তা আল্লাহ এবং তার রসূল (ﷺ) চাইতেন তাহলে রসূল (ﷺ) -এর মৃত্যুর পর তার মেয়ে বা তার বিচক্ষণ স্ত্রীরা এসব দায়িত্ব পেতেন।

আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, ইরানীরা তাদের সম্রাটের মৃত্যুর পর সম্রাট-কন্যাকে সিংহাসনে বসায়। এই খবর শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “যে জাতি কোন নারীর উপর তাদের সামষ্টিক দায়িত্ব অর্পণ করে সে জাতি কিছুতেই কল্যাণ লাভ করতে পারে না।” (সহীহ বুখারী) নারীদেরকে পুরুষ ও নারীদের যৌথ ফোরামের নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ না দেয়াটাকে কেউ কেউ তাঁদের জন্য মর্যাদাহানিকর মনে করে থাকেন। আসলে এটা তাঁদের জন্যে মোটেই মর্যাদাহানিকর ব্যবস্থা নয়। তাঁদের সৃষ্টিগত শারীরিক ও মানসিক অবস্থার সাথে সংগতি রেখেই মহান স্রষ্টা তাঁদের জন্য এই ব্যবস্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস রাখা উচিত যে জ্ঞানময় প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাঁর অসীম জ্ঞান ও বিচক্ষণতার ভিত্তিতে পুরুষ ও নারীদের জন্য যেই কর্মবিভাজন করেছেন এতেই নিহিত রয়েছে মানুষের প্রকৃত কল্যাণ।