hadith book logo

নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭২

প্রশ্ন : ৬৮) ইসলাম নারীদের অধিকারের কথা বলে, তাহলে কেন তাদেরকে পর্দায় রাখতে চায় এবং কেন পুরুষ এবং নারীদের আলাদা রাখতে চায়?

কেন ইসলাম পর্দায় বিশ্বাস করে এবং কেন পুরুষ এবং নারীদের অবাধ মেলামেশায় বিশ্বাস করে না। পর্দা আছে এবং পর্দা নেই এমন দু'টি সমাজকে বিশ্লেষণ করা যাক। যে দেশে সবচেয়ে বেশি অপরাধ হয় সে দেশটি হল যুক্তরাষ্ট্র। এফ.বি. আই (FBI) ১৯৯০ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৯০ সালে সেখানে এক হাজার দুইশত পঞ্চাশ জন নারী ধর্ষিতা হয়েছে। এটি হল কেবল প্রতিবেদনের তথ্য। ধর্ষণের মাত্র ১৬% রিপোর্টের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা হল ৬,৪০,০০০ নারী যারা ধর্ষিত হয়েছে। সংখ্যাটিতে ৩৬৫ দ্বারা ভাগ করলে দেখা যায় প্রতিদিন ১,৭৫৬ জন নারী আমেরিকায় ১৯৯০ সালে ধর্ষিতা হয়। ১৯৯১ সালে (১৯৯৩ সালের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী) ১.৩ জন প্রতি মিনিটে ধর্ষিত হয়। আমরা কি জানি, কেন? আমেরিকা নারীদের অধিক অধিকার দিয়েছে এবং তারা অধিক হারে ধর্ষিতা হচ্ছে। ১৬% অভিযোগের মাত্র শতকরা ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় যার ৫০% কে বিচারের আগেই ছেড়ে দেয়া হয়। মানে হল ০.৮% ধর্ষণের মামলা গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ একজন একশত বিশটি ধর্ষণ করলে ধরা পড়ার আকাঙ্খ মাত্র ১ বার। ১২০টি ধর্ষণ করলে একবার মাত্র ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকলে কে না চেষ্টা করবে। আবার এরও অর্ধেক পরিমাণে মামলার শাস্তি ১ বছরেরও কম। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে আছে- “ধর্ষণের জন্যে যাবতজীবন কারাদণ্ড, যদি ১ম বার ধরা পড়ে তবে তাকে সুযোগ দেয়া হোক এবং ১ বছরের কম শাস্তি দেয়া হোক।”

যদি ধর্ষণের মোট সংখ্যা হিসাব করা হয়, তাহলে প্রতি কয়েক মিনিটেই ১টি হয়ে দাঁড়াবে। একটি সহজ প্রশ্ন যদি করা হয় ও যদি যুক্তরাষ্ট্রের সকল নারী হিজাব পড়েন তাহলে কি ধর্ষণের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকবে, বাড়বে, নাকি কমবে? ইসলামকে সামগ্রিকভাবে বুঝা উচিত। যেখানে নারীরা হিজাব পড়তে এবং পুরুষদেরকে দৃষ্টি অবনত রাখতে বলা হয়েছে এবং এর পরেও যদি কেউ ধর্ষণ করে, তাহলে তার মৃত্যুদণ্ডকে কি আমরা বর্বর আইন বলতে পারি?