hadith book logo

নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫৮

প্রশ্ন : ১৫৬) বিনা ওযুতে কি কুরআন ধরতে পারবে এবং পড়তে পারবে?

বিনা ওযুতে কুরআন ধরতে পারবে এবং অবশ্যই পড়তে পারবে। তবে ও ছাড়া কুরআন স্পর্শ করার বিধিনিষেধ ফিরিশতাদের জন্য নাকি মানুষের জন্য তা অনেকের কাছে পরিষ্কার না। কুরআনের যে আয়াতে বলা হয়েছে যে এটি যারা পবিত্র তারা ছাড়া কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। এখানে ফিরিস্তাদের বুঝানো হয়েছে যারা সবসময় পবিত্র থাকে এবং লাওহেমাফুজে যে কুরআনের মুল কপিটি আছে তা ফিরিস্তারা ছাড়া কেউ স্পর্শ করতে পারে না। ইসলামে পবিত্রতা এবং ওযু এক নয়। ইসলামে শুধুমাত্র দুটি ইবাদত করতে ওযু লাগে আর তা হচ্ছে সলাত আদায় করতে এবং কাবা ঘর তাওয়াফ করতে যার সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে।

তবে কুরআন ওযু ছাড়া স্পর্শ করা যাবে কিনা তা নিয়েও বেশ মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন জন, যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম হাম্বল, ইমাম মালেকসহ বিভিন্ন মনীষী বিভিন্ন মত দিয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) মনে করেন, বিনা ওযুতে কুরআন ছোঁয়া নিষিদ্ধ, তবে কাপড়ে পেঁচানো থাকলে বা কাপড়ের আবরণ থাকলে ধরতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে বেশীরভাগ ইমামের মতামত হচ্ছে ওযূ ছাড়া কুরআন অবশ্যই স্পর্শ করা যাবে। এবং তিলাওয়াতও করা যাবে। ইমাম শাফেয়ী (রহ.)বলেন, খালি দু মলাটই কাপড়ের কাজ করে, তাই আলাদা কাপড় না হলেও চলবে। ইমাম হাম্বল (রহ.) মনে করেন, কুরআন ওযূ ছাড়া স্পর্শ করতে কোনো সমস্যা নেই, তবে আরবি লিখিত অংশে হাত দেয়া যাবে না। তবে ইমাম মালেক (রহ.) বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য ও শিক্ষকেরা শেখানোর নিমিত্তে কুরআনের যে কোনো অংশই ওযূ ছাড়া স্পর্শ করতে পারবে। তাঁর মতে, এক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা রাখলে কোনো না কোনোভাবে তাদের শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া দুটোতেই বাঁধার সৃষ্টি হতে পারে যা তাদের জন্য কুরআন থেকে দূরে সরে যাওয়ার পথ সৃষ্টি করতে পারে। তাই শিক্ষা দেয়া ও গ্রহণ করার ব্যাপারে তিনি বেশ উদার। এভাবে দেখা যায়, এ বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত বর্তমান তবে ইবনে হাজার আসকালানী, যিনি এ বিষয় নিয়ে অনেক আলোচনা করেছেন। তিনি মত প্রদান করেছেন যে, কুরআন। ওযু ছাড়াও তিলাওয়াত করা যায়। ওযু ব্যতীত কুরআন স্পর্শ করা যাবে কিনা তা নিয়ে অনেক মতানৈক্য থাকলেও একটি বিষয়ে সকলে একমত আর তাহলো ওযূসহ কুরআন তিলাওয়াত উত্তম। এখন টেকনলোজির যুগ। আমরা জানি কুরআন অনেক আগেই কম্পিউটারে এবং অনলাইনে চলে এসেছে। আজকাল মানুষ কুরআন তিলাওয়া করা, তিলাওয়া শুনা, অর্থ পড়া, তাফসীর পড়া ইত্যাদি সবই ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, আইফোন, স্মার্টফোন ইত্যাদিতে ব্যবহার করে আর তা হাতে ধরেই করে থাকে। এখন প্রশ্ন এই ডিভাইজগুলোর মধ্যে তো সম্পূর্ণ কুরআন রয়েছে এবং তখন কেউ প্রশ্ন তুলে না যে এই ইলেকট্রনিক কুরআন ধরতে বা পড়তে ওযু লাগবে কিনা? প্রশ্ন শুধু কাগজের বাইন্ড করা কপিটি নিয়ে।