hadith book logo

নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭৭

মূলনীতি চার

ইসলাম ধর্ম ন্যায় ও ইনসাফের ধর্ম, এই বিশ্বাস জাগরূক রাখা। আর ন্যায়পরায়ণতা মানে সমমানের দুটি বিষয়ের মাঝে সমতা রক্ষা করা এবং অসম বিষয়গুলোর জন্য নিজ নিজ অবস্থা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন মান নির্ধারণ করা। ইসলাম নিঃশর্ত সমতা-সাম্যের ধর্ম, এই ধারণা ভুল। নিঃশর্ত সাম্যের ধারণা। অনেক ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন মানের বিষয়কে সমমান দান করে, যা মূলতঃ যুলুম ও অবিচার। তবে যারা ইসলাম সাম্যের ধর্ম বলতে, ইসলাম ন্যায়পরায়ণতার ধর্ম বুঝাতে চান, তারা ধারণাগতভাবে সঠিক। কিন্তু তাদের ভাষাটি ভুল। কুরআন। কোথাও নিঃশর্ত সাম্যের আদেশ করেনি। কুরআন, বরং, সব জায়গায় ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দিয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন :

“আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও এহছান (সর্বত্তেম উপায় অবলম্বন) এর আদেশ দেন”। (সূরা নাহল : ৯০)

শরীয়তের বিধানগুলোর ভিত্তি হচ্ছে ন্যায়পরায়ণতা। সুতরাং সমতা রক্ষায় যেখানে ন্যায়বিচার হয় সেখানে শরীয়ত সাম্য রক্ষা করে আর যেখানে ভিন্নতাতারতম্য করাই হয় ইনসাফের দাবি সেখানে শরীয়ত তারতম্য করে। ইসলামে নিঃশর্ত সমতার কোন ধারণা নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন : 

“আপনার রবের কালিমা পূর্ণ সত্য ও ইনসাফপূর্ণ। তার বাণীতে কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ”। (সূরা আনআম : ১১৫)

অর্থাৎ আল্লাহর কালিমা সত্য সংবাদ দান করে এবং ইনসাফপূর্ণ বিধান দেয়। তাই ইসলাম মানবীয় জীবন ও মানবীয় সম্পর্কগুলোকে যে এককের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তা ‘ইনসাফ। সবাইকে ইনসাফ করতে হবে, সবার সাথে। এবং সর্বাবস্থায়। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন :

“কোন সম্প্রদায়ের শত্রতা যেন তোমাদের অন্যায় করতে বাধ্য না করে। ইনসাফ করে যাও। কারণ সেটাই তাকওয়ার সবচেয়ে নিকটবর্তী”। (সূরা মায়িদা : ৮)।