১
নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬২
মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার দলীল
“হে নবী (ﷺ) আপন বিবি, কন্যা ও মুমিন নারীদের বলে দিন, তারা যেন তাদের শরীর ও মুখমণ্ডল চাদর দ্বারা আবৃত করে রাখে।” (সূরা আল আহযাব : ৫৯)
“তারা যেন নিজেদের সাজ সৌন্দর্য প্রকাশ না করে সেইসব জিনিষ ছাড়া যা স্বতঃই প্রকাশ হয়ে পড়ে।” (সূরা আন নূর : ৩১)
“তোমরা যখন তাদের নিকট কিছু চাইবে তা পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের এবং তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা।” (সূরা আল আহযাব : ৫৩)
“নিজেদের ঘরে অবস্থান কর এবং পূর্বতন জাহিলী যুগের মত সাজগোজ দেখিয়ে বেড়িওনা।” (সূরা আল আহযাব : ৩৩) বিশেষ করে মুখমণ্ডল আবৃত করার জন্য সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াত নাযিল হয়েছে। জিলবাব শব্দের বহুবচন [] এর অর্থ চাদর। [] শব্দের অর্থ লটকান। [] এর শাব্দিক অর্থ নিজের উপরে চাদরের খানিক অংশ যেন লটকিয়ে দেয়। ঘোমটা দেয়ার অর্থও এটাই। কিন্তু এই আয়াতের প্রকত উদ্দেশ্য সাধারণভাবে পরিচিত ‘ঘোমটা’ নহে, বরং এর উদ্দেশ্য মুখমণ্ডলকে আবতকরণ। তা ঘোমটার দ্বারা হোক, পর্দা অথবা অন্য যে কোন উপায়ে হোক। এর উপকারিতা এই বর্ণনাতে করা হয়েছে যে, যখন মুসলিম নারী এভাবে আবৃত অবস্থায় বাড়ী থেকে বের হবে, তখন লোকেরা বুঝতে পারবে যে, তারা সম্ভ্রান্ত নারী, নির্লজ্জ ও শ্রীলতাবর্জিত নহে। এই কারণে কেউ তার শ্লীলতার প্রতিবন্ধক হবে না।
ইবনে আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহু) এ আয়াত সম্পর্কে বলেছেন : আল্লাহ তাআলা মুসলিম নারীদেরকে আদেশ করেছেন যে, তারা যখন কোন প্রয়োজনে বাড়ীর বাইরে যাবে, তখন যেন তারা মাথার উপর হতে চাদরের আঁচল ঝুলিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে দেয় এবং একটি মাত্র চোখ খোলা রাখে - এ অত্যন্ত জরুরী।
অপর এক বর্ণনা মতে ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ বলেছেন : স্বাধীনা -ক্রীতদাসী নয় - এমন মেয়েলোক যখন ঘর থেকে বাইরে যাবে, তখন তাদের মুখমণ্ডল ও মাথা আবৃত করে নেবে।
আল্লামা আবু বকর আল-জাস্সাস আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন : এ আয়াত বলে দিচ্ছে যে, যুবতী মেয়েদেরকে পরপুরুষ থেকে নিজেদের মুখমণ্ডলকে ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবু উবায়দা (রাদিআল্লাহু আনহুমা) বলেছেন : মু'মিন মেয়েদের আদেশ করা হয়েছে, তারা যেন তাদের মুখমন্ডল ও মাথা পূর্ণ মাত্রায় ঢেকে রাখে, তবে একটি মাত্র চোখ খোলা রাখতে পারে। এ থেকে জানা যাবে যে, তারা স্বাধীন নারী – ক্রীতদাসী নয়।
ইবনুল আরাবী লিখেছেন : মেয়েরা তাদের মুখমণ্ডলকে এমনভাবে ঢাকবে যে, বাম চক্ষু ছাড়া তাদের শরীরের অপর কোনো অংশ দেখা যাবে না।
আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, “যানবাহন আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল এবং আমরা নবী (ﷺ) -এর সংগে ইহরাম অবস্থায় থাকতাম। যখন লোক আমাদের সামনে আসত, তখন আমাদের চাদর মাথার উপর। হতে মুখের উপর টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার মুখ খুলে দিতাম।” (আবু দাউদ)।
ফাতিমা বিনতে মানার বলেন, “আমরা ইহরাম অবস্থায় কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতাম। আমাদের সংগে আবু বকরের কন্যা আসমা (রাদিআল্লাহু আনহা) ছিলেন। তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেন নাই।” (ইমাম মালিক ও মুয়াত্তা)
মুখমণ্ডল ঢাকা ওয়াজিব, খোলা রাখা নাজায়িয ও হারাম। এ মতের পক্ষে রয়েছেন বিশিষ্ট সাহাবী ও ফকীহ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসসহ বহু সাহাবী, তাবেয়ী এবং শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ইমাম ও আলেমগণ। এক বর্ণনা মতে ইমাম মালেকও এ মতের পক্ষে রয়েছেন।
প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যে শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ইমাম ও আলেমগণের মতে পরপুরুষের সামনে নারীদের মুখমণ্ডল খোলা রাখা নাজায়িয ও হারাম। কোন কোন বর্ণনামতে মালেকী মাযহাবের ইমামগণের ফাতওয়াও তাই। কেবল হানাফী মাযহাবের প্রাচীন ইমামগণের মতে নারীদের মুখমণ্ডল পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু তাদের মতেও সুরমা, অলংকার ও প্রসাধনী দ্বারা সুসজ্জিত মুখমণ্ডল পরপুরুষের সামনে খোলা রাখা নাজায়িয।
এছাড়া বিখ্যাত কুরআনের তাফসীরকারকগণ যেমন : তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে ইবনে জারীর, তাফসীরে গারায়েবুল কুরআন, তাফসীরে কবীর, তাফসীরে বায়যাবী, আহকামুল কুরআন ইত্যাদিতে মুখমণ্ডল আবৃত। করার পক্ষে কুরআনের ব্যাখ্যা করেছেন।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ.) বলেছেন : যে ব্যক্তি তা (নিকাব) আবশ্যকীয়ভাবে গ্রহণ করবে তা তারই জন্য নিয়ামত হবে। আর যে ব্যক্তি ভালোভাবে গ্রহণ করবে সেটা তার জন্য। অতি উত্তম হবে। আর তাই এটা আমার স্ত্রীসহ আমলে আঁকড়িয়ে ধরেছি। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট আশা করছি, তিনি যেন আমাকে। অনুরূপভাবে অথবা যারা এটা গ্রহণ করবে তাদেরসহ তাওফীক দান করেন।
এ যুগের প্রথম সারির ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে ডা. জাকির নায়েক বলেন - নিকাব তাকওয়ার ব্যাপার। যারা করতে পারেন অতি উত্তম আলহামদুলিল্লাহ।
ড. মানজুরে ইলাহী, তিনি মদিনা ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামিক ল’ এর উপর পি.এইচ.ডি করেছেন। তার অভিমত হচ্ছে যারা নিকাব করেন আর যারা নিকাব করেন না এই দুই গ্রুপের মধ্যে যারা নিকাব করেন তাদেরকে অবশ্যই এক ডিগ্রি মর্যাদা বেশী দিতে হবে।
“তারা যেন নিজেদের সাজ সৌন্দর্য প্রকাশ না করে সেইসব জিনিষ ছাড়া যা স্বতঃই প্রকাশ হয়ে পড়ে।” (সূরা আন নূর : ৩১)
“তোমরা যখন তাদের নিকট কিছু চাইবে তা পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের এবং তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা।” (সূরা আল আহযাব : ৫৩)
“নিজেদের ঘরে অবস্থান কর এবং পূর্বতন জাহিলী যুগের মত সাজগোজ দেখিয়ে বেড়িওনা।” (সূরা আল আহযাব : ৩৩) বিশেষ করে মুখমণ্ডল আবৃত করার জন্য সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াত নাযিল হয়েছে। জিলবাব শব্দের বহুবচন [] এর অর্থ চাদর। [] শব্দের অর্থ লটকান। [] এর শাব্দিক অর্থ নিজের উপরে চাদরের খানিক অংশ যেন লটকিয়ে দেয়। ঘোমটা দেয়ার অর্থও এটাই। কিন্তু এই আয়াতের প্রকত উদ্দেশ্য সাধারণভাবে পরিচিত ‘ঘোমটা’ নহে, বরং এর উদ্দেশ্য মুখমণ্ডলকে আবতকরণ। তা ঘোমটার দ্বারা হোক, পর্দা অথবা অন্য যে কোন উপায়ে হোক। এর উপকারিতা এই বর্ণনাতে করা হয়েছে যে, যখন মুসলিম নারী এভাবে আবৃত অবস্থায় বাড়ী থেকে বের হবে, তখন লোকেরা বুঝতে পারবে যে, তারা সম্ভ্রান্ত নারী, নির্লজ্জ ও শ্রীলতাবর্জিত নহে। এই কারণে কেউ তার শ্লীলতার প্রতিবন্ধক হবে না।
ইবনে আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহু) এ আয়াত সম্পর্কে বলেছেন : আল্লাহ তাআলা মুসলিম নারীদেরকে আদেশ করেছেন যে, তারা যখন কোন প্রয়োজনে বাড়ীর বাইরে যাবে, তখন যেন তারা মাথার উপর হতে চাদরের আঁচল ঝুলিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে দেয় এবং একটি মাত্র চোখ খোলা রাখে - এ অত্যন্ত জরুরী।
অপর এক বর্ণনা মতে ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ বলেছেন : স্বাধীনা -ক্রীতদাসী নয় - এমন মেয়েলোক যখন ঘর থেকে বাইরে যাবে, তখন তাদের মুখমণ্ডল ও মাথা আবৃত করে নেবে।
আল্লামা আবু বকর আল-জাস্সাস আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন : এ আয়াত বলে দিচ্ছে যে, যুবতী মেয়েদেরকে পরপুরুষ থেকে নিজেদের মুখমণ্ডলকে ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবু উবায়দা (রাদিআল্লাহু আনহুমা) বলেছেন : মু'মিন মেয়েদের আদেশ করা হয়েছে, তারা যেন তাদের মুখমন্ডল ও মাথা পূর্ণ মাত্রায় ঢেকে রাখে, তবে একটি মাত্র চোখ খোলা রাখতে পারে। এ থেকে জানা যাবে যে, তারা স্বাধীন নারী – ক্রীতদাসী নয়।
ইবনুল আরাবী লিখেছেন : মেয়েরা তাদের মুখমণ্ডলকে এমনভাবে ঢাকবে যে, বাম চক্ষু ছাড়া তাদের শরীরের অপর কোনো অংশ দেখা যাবে না।
আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, “যানবাহন আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল এবং আমরা নবী (ﷺ) -এর সংগে ইহরাম অবস্থায় থাকতাম। যখন লোক আমাদের সামনে আসত, তখন আমাদের চাদর মাথার উপর। হতে মুখের উপর টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার মুখ খুলে দিতাম।” (আবু দাউদ)।
ফাতিমা বিনতে মানার বলেন, “আমরা ইহরাম অবস্থায় কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতাম। আমাদের সংগে আবু বকরের কন্যা আসমা (রাদিআল্লাহু আনহা) ছিলেন। তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেন নাই।” (ইমাম মালিক ও মুয়াত্তা)
মুখমণ্ডল ঢাকা ওয়াজিব, খোলা রাখা নাজায়িয ও হারাম। এ মতের পক্ষে রয়েছেন বিশিষ্ট সাহাবী ও ফকীহ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসসহ বহু সাহাবী, তাবেয়ী এবং শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ইমাম ও আলেমগণ। এক বর্ণনা মতে ইমাম মালেকও এ মতের পক্ষে রয়েছেন।
প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যে শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ইমাম ও আলেমগণের মতে পরপুরুষের সামনে নারীদের মুখমণ্ডল খোলা রাখা নাজায়িয ও হারাম। কোন কোন বর্ণনামতে মালেকী মাযহাবের ইমামগণের ফাতওয়াও তাই। কেবল হানাফী মাযহাবের প্রাচীন ইমামগণের মতে নারীদের মুখমণ্ডল পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু তাদের মতেও সুরমা, অলংকার ও প্রসাধনী দ্বারা সুসজ্জিত মুখমণ্ডল পরপুরুষের সামনে খোলা রাখা নাজায়িয।
এছাড়া বিখ্যাত কুরআনের তাফসীরকারকগণ যেমন : তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে ইবনে জারীর, তাফসীরে গারায়েবুল কুরআন, তাফসীরে কবীর, তাফসীরে বায়যাবী, আহকামুল কুরআন ইত্যাদিতে মুখমণ্ডল আবৃত। করার পক্ষে কুরআনের ব্যাখ্যা করেছেন।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ.) বলেছেন : যে ব্যক্তি তা (নিকাব) আবশ্যকীয়ভাবে গ্রহণ করবে তা তারই জন্য নিয়ামত হবে। আর যে ব্যক্তি ভালোভাবে গ্রহণ করবে সেটা তার জন্য। অতি উত্তম হবে। আর তাই এটা আমার স্ত্রীসহ আমলে আঁকড়িয়ে ধরেছি। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট আশা করছি, তিনি যেন আমাকে। অনুরূপভাবে অথবা যারা এটা গ্রহণ করবে তাদেরসহ তাওফীক দান করেন।
এ যুগের প্রথম সারির ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে ডা. জাকির নায়েক বলেন - নিকাব তাকওয়ার ব্যাপার। যারা করতে পারেন অতি উত্তম আলহামদুলিল্লাহ।
ড. মানজুরে ইলাহী, তিনি মদিনা ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামিক ল’ এর উপর পি.এইচ.ডি করেছেন। তার অভিমত হচ্ছে যারা নিকাব করেন আর যারা নিকাব করেন না এই দুই গ্রুপের মধ্যে যারা নিকাব করেন তাদেরকে অবশ্যই এক ডিগ্রি মর্যাদা বেশী দিতে হবে।