hadith book logo

নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৮

প্রশ্ন : ৬৪) একজন নারী হিসেবে আখিরাতে আমার মুক্তির উপায়গুলো কি কি?

উকবা ইবন আমর (রাদিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন আমি রসূলে কারীম (ﷺ) -এর সামনে উপস্থিত হলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম যে, মুক্তির উপায় কী, তা বলে দিন। উত্তরে তিনি বললেন তোমার জিহবা তোমার আয়ত্তে রাখ, তোমার ঘরকে প্রশস্ত কর এবং নিজের ভুল-ভ্রান্তির জন্য কান্নাকাটি কর। (জামে আত তিরমিযী) ব্যাখ্যা ও মুক্তির উপায় কী, জিজ্ঞাসা করা হলে রসূলে কারীম (ﷺ) যে তিনটি উপায় ঘোষণা করলেন তার ব্যাখ্যা হলো --

১ম - নিজের জিহবা সংযত রাখা:

জিহবাকে নিজ আয়ত্বে রাখা এবং সঠিক আদর্শানুযায়ী উহাকে ব্যবহার করা। অন্য কথায় মুখে আল্লাহর বিধানের বিপরীত কোন কথা উচ্চারণ না করা। বস্তুত জিহবা নিজের কন্ট্রোলে না থাকার দরুন মানব সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কত যে বিপর্যয় ও ফিতনা-ফ্যাসাদের সৃষ্টি হয়েছে, তার কোন শেষ নেই; পক্ষান্তরে একে সংযত রাখলে, সঠিক আদর্শ অনুযায়ী আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় একে ব্যবহার করলে কত যে বিপদ, গণ্ডগোল ও তিক্ততা হতে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় তারও হিসাব নেই। জিহবা সংযত না থাকলে, তিক্ত কথা বলার অভ্যাস থাকলে কত মানুষের হৃদয় তার জিহবা-তরবারির বিষাক্ত আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় তা বলে। শেষ করা যায় না। এজন্য আল্লাহ এবং তাঁর রসূল, নানাভাবে ও নানা প্রসঙ্গে জিহবাকে সংযত করার নির্দেশ ও উপদেশ দিয়েছেন। বিশেষত সভ্য সমাজের প্রত্যেকটি নাগরিকেরই এটা বিশেষ কর্তব্য -- এটাই ইসলামী জীবনযাপনের বৈশিষ্ট্য।

২য় - নিজের ঘর সব সময় উদার, উন্মুক্ত ও প্রশস্ত রাখা :

যখনই কোন মেহমান আসবে, সে যেন ইসলামী সমাজের কোন ব্যক্তিরই ঘরের দ্বারদেশ হতে প্রতিহত। ও বঞ্চিত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য না হয়। বরং যেন সেই ঘরের সাদর সম্বর্ধনা লাভ করতে পারে। মুসলিম মুসলিমের নিকট যাবে এটা স্বাভাবিক; কিন্তু একজন মুসলিম অপর একজনের কাছে গিয়ে যদি সম্বর্ধনা না পায় তাহলে সামাজিক জীবনে নিবিড় ঐক্য, বন্ধুত্ব, ভালবাসা গড়ে উঠতে পারে না।

তবে সতর্কতা - অবশ্যই আল্লাহর ফরয হুকুম পর্দার কথা এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে। মেহমানদারী বা family get-together-এর নামে নারী-পুরুষ অবাধে মেলামেশা করা যাবে না। প্রয়োজনীয় আলাপ আলোচনার সময় নারী পুরুষ নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। স্বামী বাসায় না থাকলে স্বামীর কোন বন্ধু বা কোন পরপুরুষকে বাসায় মেহমানদারী করার কোন প্রয়োজন নেই এবং ইসলাম এটা কোনভাবে অনুমোদন দেয় না। ঠিক একইভাবে স্ত্রী বাসায় না থাকলে স্ত্রীর বান্ধবী বা কোন পরনারীকে বাসায় মেহমানদারী করারও কোন প্রয়োজন নেই। তবে একজন আরেক জনের বাসায় যাওয়ার আগে অবশ্যই ফোনে যোগাযোগ করে appointment করে যাওয়া উচিত।

৩য় - নিজ কৃতকর্মের জন্য চোখের পানি ঝরানো :

নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর নিকট অনুতপ্ত হয়ে ও ক্ষমা প্রার্থনা করে কান্নাকাটি করতে হবে। ভুলভ্রান্তি, দোষ, অধঃপতন মানুষেরই হয়ে থাকে এবং মানুষ যদি অনুতপ্ত হয় তবে আল্লাহ অপরাধ ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ, ইহা আশা করা যায়। কিন্তু কেউ যদি পাপ করে কিন্তু সেজন্য অনুতপ্ত না হয়, অন্যায়কে অন্যায় মনে না করে, পাপ করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা না করে তবে তা চরম অপরাধ তাতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহর নিকট শিরক ছাড়া সব অপরাধেরই ক্ষমা আছে; কিন্তু হয়ত ক্ষমা নেই এই ধরনের অপরাধের। কাজেই প্রত্যেক ঈমানদার মানুষেরই উচিত নিজ অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, নিজ গুনাহের জন্য আল্লাহর নিকট সর্বক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করা। এই ক্ষমা প্রার্থনাও কৃত্রিম হওয়া উচিত নয়, আন্তরিক নিষ্ঠা সহকারে হওয়া বাঞ্ছনীয়। সেজন্য মহান আল্লাহ তা'আলার দরবারে কান্নাকাটি করা ও চোখের পানি ঝরানো অপরিহার্য।