১
নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৭১
চ) রাজনৈতিক অধিকার
“আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক।” (সূরা তাওবা ৯ ও ৭১)।
তারা সামাজিক সহায়কই নয়, রাজনৈতিকভাবে ও নারী পুরুষ পরস্পরের সহযোগী। ইসলামে নারীদের ভোট প্রদানের অধিকার দেয়া হয়েছে। সূরা মুমতাহিনার ১২ নং আয়াতে বলা হয়েছে
“ওহে নবী! মুমিন নারীরা যখন আপনার নিকট আনুগত্যের শপথ নিতে আসবে।”
এখানে আরবী শব্দ ‘বাইয়ানা’-এর অর্থ আধুনিক ও বর্তমান ভোটের চেয়েও অধিক ক্ষমতা, কারণ নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) শুধু আল্লাহর রসূলই ছিলেন না। তিনি রাষ্ট্র প্রধানও ছিলেন। এবং নারীরা নবী (ﷺ) -এর নিকট আসতেন এবং তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেনে নিয়ে সম্মতি দিতেন। সুতরাং ইসলাম নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করেছে। এমনকি নারীরা আইন প্রণয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।
নারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিয়েছেন। বুখারীতে পূর্ণ একটা অধ্যায়ই রয়েছে “যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারী”। যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারীরা পানি সরবরাহ করেছেন, সৈন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। এখানে নাসিবা নামের একজন নারীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য যিনি ওহুদ যুদ্ধে প্রিয় নবী (ﷺ) -কে প্রতিরক্ষায় অংশ গ্রহণকারীদের একজন ছিলেন।
যেহেতু কুরআন রয়েছে, “পুরুষ নারীদের সংরক্ষক”, এ কারণে স্বাভাবিক। অবস্থায় নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া উচিত নয়, এটা পুরুষের দায়িত্ব। শুধু প্রয়োজনেই নারীদের অনুমতি প্রদান করা হবে। অর্থাৎ তাঁরা কেবল প্রয়োজনেই যুদ্ধে যাবেন অন্যথায় নন। যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা ১৯০১ সাল থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি লাভ করে এবং তা মাত্র নার্স এর ভূমিকায়। পরবর্তীতে নারী অধিকার আন্দোলন যা ১৯৭৩ সালে শুরু হয়, এ নারী অধিকার আন্দোলন দাবি করল, কেন নারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণের অনুমতি পাবে না? সুতরাং ১৯৭৬ সালের পর আমেরিকার সরকার নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী আমেরিকা প্রতিরক্ষা বিভাগ কর্তৃক যেটা ১৯৯৩ সালের ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত হয়, তাদের একশটি কনভেনশনে ৯০ জন লোক যৌন নিপীড়নের স্বীকার হয়, যার মধ্যে ৮৩ জন নারী। এছাড়া ১১৭ জন অফিসারকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত করা হয়। দেখা যচ্ছে মাত্র একটা কনভেনশনে ৮৩ জন নারী যৌন নিপীড়নের স্বীকার হন। ঐ ১১৭ জন কর্মকর্তার অপরাধ কী ছিল? তারা নারীদের দৌড়াতে বাধ্য করেছিল, তাদের পোশাক ছিনিয়ে নিয়েছিল, তারা তাদেরকে যৌন অঙ্গগুলো অনাবৃত উলঙ্গ অবস্থায় প্যারেড করতে বাধ্য করেছিল। জনসাধারণের সামনে যৌন ক্রিয়া করেছিল। আমরা কী এটাকে নারী অধিকার বলবো? সুতরাং ইসলাম নারীদের শুধু জরুরী অবস্থায় যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করে। তবে তাদের ইসলামী হিজাব, ইসলামী নিয়ম এবং সতীত্ব বজায় রাখতে হবে। ইসলাম নারী-পুরুষের সমঅধিকারে বিশ্বাস করে, সমঅধিকার বলতে সমরূপ বুঝায় না।
একটি উদাহরণ
মনে করি একটি শ্রেণীতে ২ জন ছাত্র A এবং B এক পরীক্ষায় যৌথভাবে তারা প্রথম হয়েছে। তারা ৮০% নম্বর পেয়েছে। A ও B দুজনই ১০০ জনের মধ্যে প্রথম হয়েছে। যখন প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করা হলো এবং দেখা গেল, ১০টি প্রশ্ন প্রতিটিতে পূর্ণ নম্বর ১০ করে। প্রথম প্রশ্নে A ১০ এর মধ্যে ৯ পেয়েছে B পেয়েছে ৭, প্রথম প্রশ্নে A ছাত্রটি B এর চেয়ে ভাল। দুই নম্বর প্রশ্নে A পেয়েছে ১০ এ ৭ এবং B পেয়েছে ৯। দ্বিতীয় প্রশ্নে B ছাত্রটি A এর চেয়ে ভাল। ৩নং প্রশ্নে উভয়ে সমান। যোগ করে A ও B সমান নম্বর ১০০-র মধ্যে ৮০। সংক্ষেপে A ও B ছাত্রদ্বয় সমান যদিও কোন প্রশ্নে A ভাল কোনটিতে B ভাল। একইরূপে দৃষ্টান্তটি ধরে, আল্লাহ পুরুষকে বেশি দিয়েছেন। মনে করি ঘরে একজন চোর ঢুকেছে, তখন আমি কি বলবো যে আমি নারী অধিকারে বিশ্বাসী, আমি কি আমার মাতাকে, বোনকে অথবা কন্যাকে বলবো যাও এবং চোরের সাথে যুদ্ধ কর? না, বরং স্বাভাবিকভাবে আমি তার সাথে যুদ্ধ করবো, যদি প্রয়োজন হয় তারা হয়তো হস্তক্ষেপ করবে। স্বাভাবিক অবস্থায় আল্লাহ যেহেতু পুরুষকে শারীরিকভাবে অধিক শক্তি দিয়েছেন, তাকেই সামনে অগ্রসর হতে হবে এবং চোরকে ঠেকাতে হবে। সুতরাং এখানে শারীরিক শক্তিতে পুরুষ নারীর চেয়ে এক ডিগ্রী উপরে। আরেকটি দৃষ্টান্ত- যেখানে পিতা-মাতাকে সম্মান দেবার প্রশ্ন, যেখানে সন্তানদের মাতাকে পিতার চেয়ে ৩ গুণ সম্মান দিতে হবে। এখানে নারীদের পুরুষের চেয়ে উপরে রাখা হয়েছে। অতএব গড়ে সমান। ইসলাম ক্ষমতায় বিশ্বাস করে, সমরূপতায় নয়। ইসলামে গড়ে নর-নারী সমান।
তারা সামাজিক সহায়কই নয়, রাজনৈতিকভাবে ও নারী পুরুষ পরস্পরের সহযোগী। ইসলামে নারীদের ভোট প্রদানের অধিকার দেয়া হয়েছে। সূরা মুমতাহিনার ১২ নং আয়াতে বলা হয়েছে
“ওহে নবী! মুমিন নারীরা যখন আপনার নিকট আনুগত্যের শপথ নিতে আসবে।”
এখানে আরবী শব্দ ‘বাইয়ানা’-এর অর্থ আধুনিক ও বর্তমান ভোটের চেয়েও অধিক ক্ষমতা, কারণ নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) শুধু আল্লাহর রসূলই ছিলেন না। তিনি রাষ্ট্র প্রধানও ছিলেন। এবং নারীরা নবী (ﷺ) -এর নিকট আসতেন এবং তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেনে নিয়ে সম্মতি দিতেন। সুতরাং ইসলাম নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করেছে। এমনকি নারীরা আইন প্রণয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।
নারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিয়েছেন। বুখারীতে পূর্ণ একটা অধ্যায়ই রয়েছে “যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারী”। যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারীরা পানি সরবরাহ করেছেন, সৈন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। এখানে নাসিবা নামের একজন নারীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য যিনি ওহুদ যুদ্ধে প্রিয় নবী (ﷺ) -কে প্রতিরক্ষায় অংশ গ্রহণকারীদের একজন ছিলেন।
যেহেতু কুরআন রয়েছে, “পুরুষ নারীদের সংরক্ষক”, এ কারণে স্বাভাবিক। অবস্থায় নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া উচিত নয়, এটা পুরুষের দায়িত্ব। শুধু প্রয়োজনেই নারীদের অনুমতি প্রদান করা হবে। অর্থাৎ তাঁরা কেবল প্রয়োজনেই যুদ্ধে যাবেন অন্যথায় নন। যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা ১৯০১ সাল থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি লাভ করে এবং তা মাত্র নার্স এর ভূমিকায়। পরবর্তীতে নারী অধিকার আন্দোলন যা ১৯৭৩ সালে শুরু হয়, এ নারী অধিকার আন্দোলন দাবি করল, কেন নারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণের অনুমতি পাবে না? সুতরাং ১৯৭৬ সালের পর আমেরিকার সরকার নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী আমেরিকা প্রতিরক্ষা বিভাগ কর্তৃক যেটা ১৯৯৩ সালের ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত হয়, তাদের একশটি কনভেনশনে ৯০ জন লোক যৌন নিপীড়নের স্বীকার হয়, যার মধ্যে ৮৩ জন নারী। এছাড়া ১১৭ জন অফিসারকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত করা হয়। দেখা যচ্ছে মাত্র একটা কনভেনশনে ৮৩ জন নারী যৌন নিপীড়নের স্বীকার হন। ঐ ১১৭ জন কর্মকর্তার অপরাধ কী ছিল? তারা নারীদের দৌড়াতে বাধ্য করেছিল, তাদের পোশাক ছিনিয়ে নিয়েছিল, তারা তাদেরকে যৌন অঙ্গগুলো অনাবৃত উলঙ্গ অবস্থায় প্যারেড করতে বাধ্য করেছিল। জনসাধারণের সামনে যৌন ক্রিয়া করেছিল। আমরা কী এটাকে নারী অধিকার বলবো? সুতরাং ইসলাম নারীদের শুধু জরুরী অবস্থায় যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করে। তবে তাদের ইসলামী হিজাব, ইসলামী নিয়ম এবং সতীত্ব বজায় রাখতে হবে। ইসলাম নারী-পুরুষের সমঅধিকারে বিশ্বাস করে, সমঅধিকার বলতে সমরূপ বুঝায় না।
একটি উদাহরণ
মনে করি একটি শ্রেণীতে ২ জন ছাত্র A এবং B এক পরীক্ষায় যৌথভাবে তারা প্রথম হয়েছে। তারা ৮০% নম্বর পেয়েছে। A ও B দুজনই ১০০ জনের মধ্যে প্রথম হয়েছে। যখন প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করা হলো এবং দেখা গেল, ১০টি প্রশ্ন প্রতিটিতে পূর্ণ নম্বর ১০ করে। প্রথম প্রশ্নে A ১০ এর মধ্যে ৯ পেয়েছে B পেয়েছে ৭, প্রথম প্রশ্নে A ছাত্রটি B এর চেয়ে ভাল। দুই নম্বর প্রশ্নে A পেয়েছে ১০ এ ৭ এবং B পেয়েছে ৯। দ্বিতীয় প্রশ্নে B ছাত্রটি A এর চেয়ে ভাল। ৩নং প্রশ্নে উভয়ে সমান। যোগ করে A ও B সমান নম্বর ১০০-র মধ্যে ৮০। সংক্ষেপে A ও B ছাত্রদ্বয় সমান যদিও কোন প্রশ্নে A ভাল কোনটিতে B ভাল। একইরূপে দৃষ্টান্তটি ধরে, আল্লাহ পুরুষকে বেশি দিয়েছেন। মনে করি ঘরে একজন চোর ঢুকেছে, তখন আমি কি বলবো যে আমি নারী অধিকারে বিশ্বাসী, আমি কি আমার মাতাকে, বোনকে অথবা কন্যাকে বলবো যাও এবং চোরের সাথে যুদ্ধ কর? না, বরং স্বাভাবিকভাবে আমি তার সাথে যুদ্ধ করবো, যদি প্রয়োজন হয় তারা হয়তো হস্তক্ষেপ করবে। স্বাভাবিক অবস্থায় আল্লাহ যেহেতু পুরুষকে শারীরিকভাবে অধিক শক্তি দিয়েছেন, তাকেই সামনে অগ্রসর হতে হবে এবং চোরকে ঠেকাতে হবে। সুতরাং এখানে শারীরিক শক্তিতে পুরুষ নারীর চেয়ে এক ডিগ্রী উপরে। আরেকটি দৃষ্টান্ত- যেখানে পিতা-মাতাকে সম্মান দেবার প্রশ্ন, যেখানে সন্তানদের মাতাকে পিতার চেয়ে ৩ গুণ সম্মান দিতে হবে। এখানে নারীদের পুরুষের চেয়ে উপরে রাখা হয়েছে। অতএব গড়ে সমান। ইসলাম ক্ষমতায় বিশ্বাস করে, সমরূপতায় নয়। ইসলামে গড়ে নর-নারী সমান।