hadith book logo

নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

প্রশ্ন : ২৯) নারীর জ্ঞান অর্জন করা ফরয কেন?

জ্ঞান অর্জন করা নরনারী উভয়ের জন্যেই ফরয, যার দ্বারা তার দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হবে। কারণ, এই জ্ঞান ব্যতীত দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, আর সেই জ্ঞান হল আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রসূল (ﷺ)-এর ব্যাপারে জ্ঞান এবং তাঁর দ্বীন ও শরীয়ত সম্পর্কিত জ্ঞান। এই জ্ঞান দুইভাগে বিভক্ত।

ক. ফরযে আইন :

এই প্রকারের জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও নারীর উপর ফরযে আইন তথা আবশ্যকীয় কর্তব্য; আর তা এমন জ্ঞান, যার দ্বারা দ্বীনের জরুরী বিষয়গুলো জানা ও বুঝা যায়; অথবা অন্যভাবে বলা যায়: এটা এমন জ্ঞান, যা ব্যতীত দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় না। যেমন : সামগ্রিকভাবে আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন সম্পর্কিত বিধানসমূহ, পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কিত বিধানসমূহ, সলাত (নামায) সম্পর্কিত বিধানসমূহ; সুতরাং মুসলিম নারী শিক্ষা লাভ করবে সে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে? কিভাবে সে সলাত (নামায) আদায় করবে? কিভাবে সিয়াম পালন করবে? কিভাবে সে তার স্বামীর হক আদায় করবে? আর কিভাবে সে তার সন্তানদেরকে লালনপালন করবে? এবং এমন প্রত্যেক জ্ঞান, যা তার উপর বাধ্যতামূলক।

খ. ফরযে কিফায়া:

আরেক প্রকার জ্ঞান অর্জন করা যা কিছুসংখ্যক মুসলিম ব্যক্তি অর্জন করলে বাকিরা অপরাধমুক্ত হয়ে যায়; মুসলিম নারীর জন্য এই প্রকার জ্ঞান অর্জনের উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং সেই জ্ঞান অর্জন করে পরিতৃপ্তি লাভ করাটা উত্তম বলে বিবেচিত হবে। কুরআন ও সুন্নাহ এই জ্ঞান অর্জনের প্রশংসায়, তার ফযিলত বা মর্যাদা বর্ণনায় এবং এ প্রকার জ্ঞান ও জ্ঞানীদের গুরুত্ব বর্ণনায় অনেক বক্তব্য নিয়ে এসেছে। আরও বক্তব্য নিয়ে এসেছে অন্যদের উপর তাদের উচ্চমর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায়; কারণ, তাঁরা হলেন নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর উত্তরসূরী।

মুসলিম নারীকে ইসলাম যে সম্মান দান করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হল : ইসলাম নারীর জন্য শিক্ষাগ্রহণ করা ও শিক্ষা প্রদান করার মর্যাদা পুরুষের মর্যাদার মত করে সমানভাবে নির্ধারণ করেছে এবং নারীকে বাদ দিয়ে পুরুষের জন্য কোন বিশেষ মর্যাদা নির্দিষ্ট করেনি। শিক্ষা এবং শিক্ষাগ্রহণের ফযীলত বা মর্যাদা বর্ণনায় বর্ণিত সকল আয়াত ও হাদীস পুরুষ ও নারীকে সমানভাবে মর্যাদাবান বলে অবহিত করে; যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন :

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন।” (সূরা আল-মুজাদালা : ১১)

বল, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?” (সূরা আয-যুমার : ৯)

বল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর।” (সূরা ত্বা-হা ও ১১৪)

অনুরূপ রসূল (ﷺ) -এর বাণী :

যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করার জন্য কোন পথ অবলম্বন করে, এর উসীলায় আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের পথসমূহ থেকে একটি পথে পরিচালিত করেন। নিশ্চয়ই ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য ফিরিশতাগণ তাদের পাখাসমূহ বিছিয়ে দেন। আর আলেমের জন্য আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সকলেই ক্ষমা প্রার্থনা করে। সুতরাং একজন আবেদের (ইবাদতকারীর) উপর আলেমের মর্যাদা তেমনি, যেমন পূর্ণিমার রাতে সকল তারকার উপর চাঁদের মর্যাদা। আর নবীগণ কোন দিনার এবং দিরহামের উত্তরাধিকারী রেখে যাননি; বরং তাঁরা শুধুমাত্র ইলমকে উত্তরাধিকার হিসেবে। রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করল, সে পরিপূর্ণ অংশ (উত্তরাধিকার) গ্রহণ করল।” - (আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)