hadith book logo

নারীদের যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯

প্রশ্ন : ৩৫) নারীদের শিক্ষার গুরুত্ব কি?

ইসলাম শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই শিক্ষা প্রয়োজন। দুনিয়ায় যতদিন ইসলামের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত ছিলো ততদিন পুরুষ এবং নারী উভয়ই শিক্ষার আলোকে আলোকিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

সকল বয়সের মানুষের জন্য একই সিলেবাসভিত্তিক শিক্ষা হতে পারে না। শিশুদের শিক্ষার জন্য স্বতন্ত্র সিলেবাস প্রয়োজন। স্বতন্ত্র সিলেবাস প্রয়োজন কিশোরীদের শিক্ষার জন্য। তেমনিভাবে যুবতীদের জন্য সিলেবাস হতে হবে ভিন্নতর। উচ্চ পর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের আলাদা সিলেবাস হয়ে থাকে। যিনি ইঞ্জিনিয়ার হবেন তার সিলেবাস আর যিনি গৃহিণী হবেন তার সিলেবাস হবে। ভিন্ন। যিনি আইনবিদ হবেন তার সিলেবাস আর যিনি ডাক্তার হবেন তার সিলেবাস থেকে ভিন্ন। অর্থাৎ যিনি কর্মজীবনে যেই প্রফেশন গ্রহণ করবেন তিনি। সেই প্রফেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণ করবেন।

আল্লাহ রব্বল আলামীন নারীদেরকে যেই অংগনে কাজ করার উপযুক্ততা দান করেছেন সেই অংগনের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই তাঁদের জন্য সিলেবাস তৈরী হতে হবে। আদর্শ মুসলিম নারী হিসেবে জীবনযাপন করতে হলে নারীদের অবশ্যই ইসলামের আদর্শিক জ্ঞান থাকতে হবে। ইসলামের জীবনদর্শন ও জীবনবিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে সেই আলোকে তারা কিভাবে তাদের জীবন গড়ে তুলবেন? মানবজাতির নতুন প্রজন্মকে আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তোলার সুমহান কর্তব্য অর্পিত রয়েছে নারীদের উপর। তারা যাতে এই কর্তব্য পালনের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন সেজন্য তাদেরকে পরিপূর্ণভাবে আদর্শিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা জরুরী।

নারীদের নিকট ইসলামকে উপস্থাপন করার কাজ নারীদের দ্বারাই ভালো হওয়ার কথা। নারীরাই পারেন অপরাপর নারীদের সাথে মিশতে, ঘনিষ্ঠ হতে এবং অন্ত রংগ সম্পর্ক গড়ে তুলতে। নারীগণ অবাধে অপরাপর নারীদের নিকট যেতে পারেন, বসতে পারেন এবং পারেন আলাপ করতে। নারী শ্রোতাগণ একজন নারী আলোচককে নিঃসংকোচে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন করে বিভিন্ন বিষয়ে স্বচ্ছতা অর্জন করতে পারেন।

নারী অংগনে ইসলামের জ্ঞান বিস্তারের ক্ষেত্রে নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণ অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। সকল যুগেই এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন বিদূষী মুসলিম নারীগণ। এই যুগেও তাঁদেরকে সেই ভূমিকাই পালন করতে হবে। এইজন্য তাঁদেরকে ইসলামী জীবনদর্শন ও জীবনবিধানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সুশিক্ষিত করে তুলতে হবে।