১
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষণীয় ঘটনা
লেখকঃ আহমাদ আবদুল আলী তাহতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৭
পারস্য এবং রোমের ঘটনা
হিজরতের পূর্বে পারস্য এবং রোমের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেই যুদ্ধে রোমের উপর পারস্যরা জয় লাভ করে। এতে মুশরিকরা আনন্দিত হয়। আর তারা এটাই চাচ্ছিল যে, রোমের উপর পারস্যরা বিজয় লাভ করুক। কারণ তারাও তাদের মতো মূর্তি পূজক ছিল। কিন্তু এ বিষয়টি মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ছিল। কারণ, তারা চাইছিল যে, রোমানরা পারসীয়দের উপর জয় লাভ করুক।
কারণ তারা ছিল আহলে কিতাব। এমতাবস্থায় মুশরিকরা নবী (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে বলল, তোমরা আহলে কিতাব এবং নাসারারাও তো আহলে কিতাব। আর আমরা হলাম মূর্খ। অথচ আমাদের পারস্যের ভাইয়েরা তোমাদের ভাইদের উপর জয় লাভ করেছে। সুতরাং তোমরা যদি আমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হও, তাহলে আমরাও তোমাদের উপর জয় লাভ করব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা নিচের আয়াতগুলো নাযিল করেন -
অনুবাদ : ১. আলিফ-লাম-মীম। ২. রোমকরা পরাজিত হয়েছে। ৩. এক নিকটবর্তী স্থানে এবং তারা তাদের এ পরাজয়ের পর শীঘ্রই জয়লাভ করবে। ৪. তিন থেকে নয় বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের মীমাংসা আল্লাহরই (হাতে)। আর সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে ৫, আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি প্রতাপশালী, অত্যন্ত দয়ালু। ৬, এটা আল্লাহর ওয়াদা।
আল্লাহ তার ওয়াদা খিলাফ করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। ৭. তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক অবস্থাটুকুই জানে আর তারা পরকাল সম্পর্কে সম্পূর্ণ গাফিল। ৮. তারা কি নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখে না যে, আল্লাহ তো আসমান, যমীন এবং এতোদুভয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা সবই সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে ও এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। কিন্তু অনেক মানুষই তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎকে অবিশ্বাস করে। (সূরা রূম : আয়াত-১-৮)
অত:পর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কাফেরদের নিকট গিয়ে বললেন, তোমাদের ভাইয়েদের উপর জয় লাভ করার কারণে তোমরা কি আনন্দিত হচ্ছ? না, তোমরা আনন্দিত হয়ো না। আল্লাহ তোমাদের চক্ষুকে শীতল করবেন না। আল্লাহ কসম! আল্লাহ তায়ালা পারস্যদের উপর রোমানদেরকে বিজয় দান করবেন। আমাদের নবী (সাঃ) এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। একথা শুনে উবাই ইবনে খালফ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর দিকে উঠে দাঁড়াল এবং বলল, তুমি মিথ্যা বলেছ।
একথা শুনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, হে আল্লাহর দুশমন! তুই সবচেয়ে বড় মিথ্যক। আমি তোমার কাছে দশটি শক্তিশালী উটনী বন্ধক রাখছি এবং তুমি আমার কাছে দশটি শক্তিশালী উটনী বন্ধক রাখ। যদি রোমানরা জয় লাভ করে তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর যদি পারসিকরা জয় লাভ করে তবে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। তবে এজন্য তিন বছর লাগতে পারে। একথা বলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর নিকট সংবাদ দিলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি যেভাবে উল্লেখ করে বিষয়টি সে রকম নয়।
শব্দটি তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যার উপর প্রযোজ্য হয়। সুতরাং তুমি মেয়াদ বাড়াও। অতঃপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বের হলেন এবং উবাইয়ের সাথে সাক্ষাত করলেন এবং নয় বৎসর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ালেন। পরে দেখা গেল যে, নয় বছরের আগেই রোমানরা পারসিকদের উপর জয় লাভ করেছে। এতে মুসলমানরা আনন্দিত হলো।
কারণ এর দ্বারা কুরআন যেভাবে সংবাদ দিয়েছে ঠিক সেভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে, নবীর নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে এবং আহলে কিতাব রোমানদেরকে আল্লাহ তায়ালা অগ্নিপূজক পারসিকদের উপর বিজয় দান করেছেন। তবে এ ঘটনাটি কখন সংঘটিত হয়েছিল এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, বদরের যুদ্ধের পর। আবার কেউ বলেছেন, হুদাইবিয়ার বছর এবং এ মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (সীরাতুন নবুওয়াত ফী যু-ইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ- ১৩৮৯, ৩৯০)
কারণ তারা ছিল আহলে কিতাব। এমতাবস্থায় মুশরিকরা নবী (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে বলল, তোমরা আহলে কিতাব এবং নাসারারাও তো আহলে কিতাব। আর আমরা হলাম মূর্খ। অথচ আমাদের পারস্যের ভাইয়েরা তোমাদের ভাইদের উপর জয় লাভ করেছে। সুতরাং তোমরা যদি আমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হও, তাহলে আমরাও তোমাদের উপর জয় লাভ করব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা নিচের আয়াতগুলো নাযিল করেন -
অনুবাদ : ১. আলিফ-লাম-মীম। ২. রোমকরা পরাজিত হয়েছে। ৩. এক নিকটবর্তী স্থানে এবং তারা তাদের এ পরাজয়ের পর শীঘ্রই জয়লাভ করবে। ৪. তিন থেকে নয় বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের মীমাংসা আল্লাহরই (হাতে)। আর সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে ৫, আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি প্রতাপশালী, অত্যন্ত দয়ালু। ৬, এটা আল্লাহর ওয়াদা।
আল্লাহ তার ওয়াদা খিলাফ করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। ৭. তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক অবস্থাটুকুই জানে আর তারা পরকাল সম্পর্কে সম্পূর্ণ গাফিল। ৮. তারা কি নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখে না যে, আল্লাহ তো আসমান, যমীন এবং এতোদুভয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা সবই সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে ও এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। কিন্তু অনেক মানুষই তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎকে অবিশ্বাস করে। (সূরা রূম : আয়াত-১-৮)
অত:পর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কাফেরদের নিকট গিয়ে বললেন, তোমাদের ভাইয়েদের উপর জয় লাভ করার কারণে তোমরা কি আনন্দিত হচ্ছ? না, তোমরা আনন্দিত হয়ো না। আল্লাহ তোমাদের চক্ষুকে শীতল করবেন না। আল্লাহ কসম! আল্লাহ তায়ালা পারস্যদের উপর রোমানদেরকে বিজয় দান করবেন। আমাদের নবী (সাঃ) এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। একথা শুনে উবাই ইবনে খালফ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর দিকে উঠে দাঁড়াল এবং বলল, তুমি মিথ্যা বলেছ।
একথা শুনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, হে আল্লাহর দুশমন! তুই সবচেয়ে বড় মিথ্যক। আমি তোমার কাছে দশটি শক্তিশালী উটনী বন্ধক রাখছি এবং তুমি আমার কাছে দশটি শক্তিশালী উটনী বন্ধক রাখ। যদি রোমানরা জয় লাভ করে তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর যদি পারসিকরা জয় লাভ করে তবে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। তবে এজন্য তিন বছর লাগতে পারে। একথা বলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর নিকট সংবাদ দিলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি যেভাবে উল্লেখ করে বিষয়টি সে রকম নয়।
শব্দটি তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যার উপর প্রযোজ্য হয়। সুতরাং তুমি মেয়াদ বাড়াও। অতঃপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বের হলেন এবং উবাইয়ের সাথে সাক্ষাত করলেন এবং নয় বৎসর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ালেন। পরে দেখা গেল যে, নয় বছরের আগেই রোমানরা পারসিকদের উপর জয় লাভ করেছে। এতে মুসলমানরা আনন্দিত হলো।
কারণ এর দ্বারা কুরআন যেভাবে সংবাদ দিয়েছে ঠিক সেভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে, নবীর নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে এবং আহলে কিতাব রোমানদেরকে আল্লাহ তায়ালা অগ্নিপূজক পারসিকদের উপর বিজয় দান করেছেন। তবে এ ঘটনাটি কখন সংঘটিত হয়েছিল এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, বদরের যুদ্ধের পর। আবার কেউ বলেছেন, হুদাইবিয়ার বছর এবং এ মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (সীরাতুন নবুওয়াত ফী যু-ইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ- ১৩৮৯, ৩৯০)