hadith book logo

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষণীয় ঘটনা

লেখকঃ আহমাদ আবদুল আলী তাহতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর নেতৃত্বে হজ্জ পালন

নবম হিজরীর যিলকদ বা যিলহজ্জ মাসে নবী করিম (সাঃ) সিদ্দিকে আকবর হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে আমিরুল হজ্জ (হাজীদের নেতা) বানিয়ে মক্কায় প্রেরণ করেন। এরপর সূরা তাওবার প্রথমাংশ নাযিল হয়। এতে মুশরিকদের সাথে কৃত চুক্তি অঙ্গীকার সমতার ভিত্তিতে শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এ নির্দেশ আসার পর নবী কারীম (সাঃ) হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে এ ঘোষণা প্রকাশের জন্যে প্রেরণ করেন।

রক্ত এবং ধন-সম্পদ সম্পর্কিত অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে এটাই আরবদের রীতি ছিল (চুক্তির কোন পক্ষ তা রহিত করতে চাইলে হয় সে নিজে এ রহিত করার ঘোষণা দেবে অথবা নিজের গোত্রের কাউকে দিয়ে ঘোষণা করাবে। বংশের বাইরের কোন লোককে দিয়ে ঘোষণা করানো হলে তা মানা হতো না।) হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর সাথে আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর দাজনান মতান্তরে আরজ প্রান্তরে সাক্ষাৎ হয়। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি আমীর নাকি আমীরের অধীন? আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, আমীরের অধীন। এরপর উভয়ে সামনে অগ্রসর হন।

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু লোকদের হজ্জ করান। ১০ই যিলহজ্জ কুরবানীর দিন আলী একা জামরায় দাঁড়িয়ে নবী কারীম (সাঃ)এর নির্দেশ অনুযায়ী সকল প্রকার চুক্তি অঙ্গীকার সমাপ্তির কথা ঘোষণা করেন। চার মাসের সময় দেয়া হয়। যাদের সাথে কোন অঙ্গীকার ছিল না তাদেরও চার মাস সময় দেয়া হয়। তবে মুসলমানদের সাথে যেসব মুশরিক অঙ্গীকার পালনে জটি করেনি এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্যদের সাহায্য করেনি, তাদের চুক্তিপত্র নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়। হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এক দল সাহাবীকে পাঠিয়ে এ সাধারণ ঘোষণা প্রচার করেন, ভবিষ্যতে কোন মুশরিক হজ্জ করতে এবং কেউ নগ্নবস্থায় কাবা ঘর তাওয়াফ করতে পারবে না। (সীরাতুন নবুওয়াত- পৃ: ৫৩৬)