১
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষণীয় ঘটনা
লেখকঃ আহমাদ আবদুল আলী তাহতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৭
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর মর্যাদা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু একদা ইহুদীদের শিক্ষালয়ে গেলেন। সেখানে ধর্মীয় আলোচনা হচ্ছিল। ঐ বিদ্যালয়ে ফানহাস' নামক একজন বড় পণ্ডিত ছিল। আর তার সাথে ‘আশইয়া' নামক একজন বড় আলেম ছিল। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু স্থির ফানহাসকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমার অমঙ্গল হোক। আল্লাহকে ভয় কর এবং ইসলাম গ্রহণ কর। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তুমি জান যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ নবী আল্লাহর রাসূল। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সত্য নিয়ে এসেছেন।
তোমরা তাওরাত এবং ইঞ্জিলে তাঁর আলোচনা পেয়েছ। ফানহাস বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আমাদের মুখাপেক্ষী, আমরা তার মুখাপেক্ষী নই। আমরা তাঁর এরূপ কাকুতি-মিনতি করি না যেমন তিনি আমাদের কাছে কাকুতি মিনতি করেন। আমরা তাঁর নিকট মোটেই মুখাপেক্ষী নই। কারণ আমরা ধনবান। তিনি যদি ধনী হতেন তাহলে আমাদের নিকট ঋণ চাইতেন না। যেমন আপনার নবী (সাঃ) সুদ হতে বিরত রাখতে চাচ্ছেন অথচ আল্লাহ নিজেই সুদ দিচ্ছেন। তিনি যদি ধনীই হবেন তাহলে আমাদের সুদ দিতে চাইবেন কেন? এ কথা শুনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রেগে গেলেন তার গালে সজোরে চড় মারলেন এবং বললেন : হে আল্লাহর দুশমন! যদি তোমাদের মাঝে চুক্তি সম্পাদিত না হতো তাহলে তোমার মাথা উড়িয়ে দিতাম।
এরপর ফানহাস নবী কারীম (সাঃ) এ নিকট গিয়ে বিচার দিয়ে বলল, দেখ তোমার সাথী আমার সাথে কী ব্যবহার করেছে। নবী (সাঃ) বললেন, হে আবু বকর! এমন কী হলো যে, তুমি এরূপ করলে? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, আল্লাহর দুশমন ভয়ানক কথা বলেছে। সে মনে করে আল্লাহ গরীব আর তারা ধনী। এজন্য তার চেহারায় আঘাত করেছি। ফাহনাম অস্বীকার করে বলল, না, আমি এরূপ বলিনি। তখন আল্লাহ ফাহনামকে মিথুক প্রমাণ করত এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে সত্য প্রমাণ করত এ আয়াত অবতীর্ণ করেন।
নিশ্চয় আল্লাহর তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে : আল্লাহ দারিদ্র আর আমরা ধনী। শীঘ্রই আমি লিখে রাখবো তারা যা বলেছে এবং নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যার বিষয়টিও এবং আমি বলব, তোমরা উত্তপ্ত আযাব ভোগ কর। (সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৮১) (তাফসীরে কুরতুবী, ৪/২৯৫)
তোমরা তাওরাত এবং ইঞ্জিলে তাঁর আলোচনা পেয়েছ। ফানহাস বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আমাদের মুখাপেক্ষী, আমরা তার মুখাপেক্ষী নই। আমরা তাঁর এরূপ কাকুতি-মিনতি করি না যেমন তিনি আমাদের কাছে কাকুতি মিনতি করেন। আমরা তাঁর নিকট মোটেই মুখাপেক্ষী নই। কারণ আমরা ধনবান। তিনি যদি ধনী হতেন তাহলে আমাদের নিকট ঋণ চাইতেন না। যেমন আপনার নবী (সাঃ) সুদ হতে বিরত রাখতে চাচ্ছেন অথচ আল্লাহ নিজেই সুদ দিচ্ছেন। তিনি যদি ধনীই হবেন তাহলে আমাদের সুদ দিতে চাইবেন কেন? এ কথা শুনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রেগে গেলেন তার গালে সজোরে চড় মারলেন এবং বললেন : হে আল্লাহর দুশমন! যদি তোমাদের মাঝে চুক্তি সম্পাদিত না হতো তাহলে তোমার মাথা উড়িয়ে দিতাম।
এরপর ফানহাস নবী কারীম (সাঃ) এ নিকট গিয়ে বিচার দিয়ে বলল, দেখ তোমার সাথী আমার সাথে কী ব্যবহার করেছে। নবী (সাঃ) বললেন, হে আবু বকর! এমন কী হলো যে, তুমি এরূপ করলে? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন, আল্লাহর দুশমন ভয়ানক কথা বলেছে। সে মনে করে আল্লাহ গরীব আর তারা ধনী। এজন্য তার চেহারায় আঘাত করেছি। ফাহনাম অস্বীকার করে বলল, না, আমি এরূপ বলিনি। তখন আল্লাহ ফাহনামকে মিথুক প্রমাণ করত এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু কে সত্য প্রমাণ করত এ আয়াত অবতীর্ণ করেন।
নিশ্চয় আল্লাহর তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে : আল্লাহ দারিদ্র আর আমরা ধনী। শীঘ্রই আমি লিখে রাখবো তারা যা বলেছে এবং নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যার বিষয়টিও এবং আমি বলব, তোমরা উত্তপ্ত আযাব ভোগ কর। (সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৮১) (তাফসীরে কুরতুবী, ৪/২৯৫)