hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০২

মাতাপিতার ভরণপোষণ

আল্লাহর পর সর্বপ্রথম হক পিতামাতার হক। দ্বীন ইসলামের সঠিক বুঝ না থাকার কারণে সন্তানগণ দুর্ভাগ্যের শিকার হন, নিজেদের সবকিছু ঠিক রেখে তবে পিতামাতার বিষয়টি দয়া করে বিবেচনা করেন। অর্থাৎ পিতামাতার বিষয়টি secondary। নিজের সামাজিক স্টেটাস রক্ষার মোটা খরচের পর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তার একটা সামান্য অংশ এককালীন মাতাপিতার জন্য পাঠানো হয়ে থাকে। তারপরও কড়াকড়ি হিসেব লিখে রাখা হয় এ বছর মোট কত টাকা দেয়া হলো। গত পাঁচ বছরে কত।

কোন কোন সন্তানরা আরো হতভাগ্য। তারা মাতাপিতার খরচ নিয়ে দর কষাকষি করে। এক সন্তান বলে আমি তো তাদের খরচ চালাচ্ছি, অন্য জন খোটা দেয় গত বছর তিনেক তো আমি চালিয়েছি। আরেকজন যোগ দেয়, আমি প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আসছি। কেবল ভাগ্যবান ও বুঝদার ঈমানদার ছেলেটি বলে তোমরা কেউ কিছু দাও বা না দাও, আমার কিছু যায় আসে না। আমার মা-বাবা আমার দায়িত্ব। আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন আমার জন্মদাতাদের সেবা করে আমি ধন্য হতে চাই। তোমাদের আপত্তি না থাকলে আমার প্রভু আমাকে তৌফিক দিয়েছেন যে আমি পিতামাতা উভয়ের দায়িত্ব নিয়ে সৌভাগ্য হাসিল করতে চাই। আমি যদি ঈমানদার হয়ে থাকি তাহলে পিতামাতার খরচ উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে যোগান দিয়ে প্রমাণ করি যে আমার ঈমানের দাবি মজবুত। যদি আমার দাবিতে আমি সৎ থাকি তাহলে এরকম নির্লজ্জ যুক্তি তর্কের আশ্রয় যেন না নেই যে গত দশ বছর আমি তাদের দেখেছি এখন আর পারছি না”। এধরনের খারাপ চিন্তা আসা মানে আমার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ এখন আর আমার হাতে নেই। এটা নিশ্চিত ইবলিসের দখলে। আমার ব্যাপক ধবংসের আগেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এর নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিয়ে আসা উচিত।

যেসব সন্তানের আত্মমর্যাদা আছে, যারা কাপুরুষ নন তারা সর্বদা মাতাপিতার খরচ বহনের জন্য অন্য ভাইবোনদের সাথে প্রতিযোগিতা করবেন। প্রকৃত ঈমানদারগণ এ দায়িত্বপালনে কোন বাহানা খোজে না। যে ভাই বা বোনের বাড়ীতে আমার পিতামাতা থাকছেন সে পরিবারের নিকট কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। আমার পিতামাতার খাতিরে তাদের বেশী বেশী উপহার পাঠানো উচিত। মাঝে মাঝে তাদের জন্য আলাদা করে অর্থ পাঠানো উচিত যাতে তারা কোন কারণে পিতামাতাকে বোঝা মনে না করেন বরং লাভজনক মনে করেন।