hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩০

শয়তানের প্ররোচনা

আমরা জানি শয়তান নানাভাবে আমাদেরকে প্ররোচনা দিয়ে থাকে। তবে সে খুব সহজেই দুর্বল ঈমানের অধিকারীদেরকে প্ররোচনা দিতে পারে কিন্তু শক্ত ঈমানদারদের খুব সহজে ধোকা দিতে পারে না, তখন সে ভিন্ন পথ অবলম্বন করে। যেমন : আমি একজন খুবই পরহেজগার লোক অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনকে নিয়োজিত করেছি। কিন্তু দেখা গেল শয়তান আমার মনের মধ্যে এমন চিন্তা ঢুকিয়ে দিল যে - “তুমি তো ইসলামের জন্য অনেক কিছু করেছে, সারাদিন এর জন্যই কাজ করছে, নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছো, এখন তুমি দুই একটা গুনাহ করলে তেমন কিছু আসে যাবে না, কারণ তোমার ত্যাগের কাছে এই দুই একটা গুনাহ তেমন কিছুই না”। তখন আমরা শয়তানের এই ধরণের ধোকায় পরে মনে করতে পারি যে ঠিকই তো আমি তো সব কিছু করছি দ্বীনের জন্য, আমি সুদ লেনদেন করছি, সুদে বাড়ি কিনছি, গাড়ি কিনছি তাও দ্বীনের জন্য, এতে দ্বীন উপকৃত হবে, এতে তো দোষের কিছু দেখছি না। এভাবে আস্তে আস্তে আমরা কবীরাহ গুনাহর সাথে জড়িয়ে যাচ্ছি।

মহান আল্লাহ তাআলা যে সকল নির্দেশ সরাসরি কুরআনে দিয়ে দিয়েছেন তা কোন ভাবেই অমান্য করা যাবে না। আর আমাকে যদি একান্তই নিরুপায় হয়ে কুরআনের কোন আদেশ অমান্য করতে হয় তাহলে যেন নিজের একার বুদ্ধিতে না করি, সেই বিষয়ে যথেষ্ট সময় ব্যয় করে বিভিন্ন অথেন্টিক স্কলারদের সাথে পরামর্শ করি কারণ সমস্ত ফরয হুকুমের ব্যাপারে আল-কুরআনে এবং সহীহ হাদীসে সমাধান রয়েছে। যেমন কোন কোন অবস্থায় সলাত ছেড়ে দেয়া যাবে, কোন কোন অবস্থায় সিয়াম ছেড়ে দেয়া যাবে ইত্যাদি সবই পরিষ্কারভাবে রয়েছে। আমরা একজন সাহাবীর ঘটনা জানি যে, তিনি রসূল (ﷺ) -এর কাছে এসে বলেছিলেন যে, তিনি যিনা করতে চান। রসূল (ﷺ) তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর আর তিনি তা করেননি বরং এই ধরণের ইচ্ছার জন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন এবং তাওবা করেছিলেন।