hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন

আমরা অনেকেই জীবনের শুরুতে সতর্কতার অভাবে কিছু ভুল করে ফেলি। যেমন :

১) শুধু নিজেদের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে চিন্তা করি।

২) সন্তানদের একাডেমিক ক্যারিয়ার নিয়ে অর্থাৎ ভাল স্কুল, ভাল কলেজ বা ভাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে চিন্তা করি।

৩) প্রথমে স্ত্রীর পার্টটাইম চাকুরী তারপর ফুলটাইম চাকুরী অথবা ফুলটাইম পড়াশোনা ইত্যাদি।

৪) বিশেষ করে মহিলারা আশেপাশের পরিবেশ থেকে নানাভাবে নানারকম পরামর্শের দ্বারা বিভ্রান্ত হতে থাকেন, যেমন :

ক. বাচ্চা স্কুলে দিতে গিয়ে যখন বিভিন্ন রুচির কিছু মহিলা একসাথে হন; গল্প করেন;

খ. অফিসে কলিগদের পরামর্শের দ্বারা;

গ. বিভিন্ন প্রোগ্রামে মহিলাদের পারিবারিক আডডা থেকে;

ঘ. প্রতিবেশী ভাই বা ভাবীর দ্বারা;

ঙ. অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে দূরের অন্য কারো দ্বারা।

পরামর্শের কিছু নমুনা

ভাবী, আপনার স্বামী তো দেখি আপনার দিকে খেয়ালই করেন না!

ভাবী, আপনার স্বামী তো দেখি আপনার পেছনে খরচই করতে চান না!

ভাবী, আপনার স্বামী তো দেখি আপনাকে নিয়ে তেমন কোথাও বেড়াতে যান না!

ভাবী, আপনার স্বামী তো দেখি আপনার কষ্টে আয় করা টাকা সংসারের জন্য খরচ করে ফেলেন!

ভাবী, আপনার আয়ের টাকা তো সম্পূর্ণরূপে আপনার, এই টাকা আপনি কেন সংসারে খরচ করেন!

ভাবী, আপনাদের ব্যাংক একাউন্ট জয়েন্ট অর্থাৎ এক সাথে কেন? আমারটা তো আলাদা!

ভাবী, আমার টাকার খরর তো আমার স্বামী জানেই না, আমি যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে খরচ করি!

ভাবী, আপনার স্বামীর কথা মতো আপনি চলেন কেন? আপনার নিজের ইচ্ছে মতো চলবেন!

ভাবী, এই আধুনিক যুগে কেউ কাউকে পরোয়া করে না, যে যার মতো চলতে পারে!

ভাবী, এটা মহিলাদের যুগ!

ভাবী, ডিভোর্স হয়ে গেলেও চিন্তার কোন কারণ নেই।

ভাবী, আজকাল একজন মহিলা একাই চলতে পারে!

ভাবী, আজকাল দু’জনে চাকুরী না করলে হয় না!

ভাবী, আপনাদের ঘরের ফার্নিচার পরিবর্তন করেন না কেন? ভাবী, আপনার শাড়ি-গহনা এতো কম কেন?

ভাবী, আপনার স্বামী আপনার শ্বশুর-শাশুড়ীকে এতো ঘনঘন টাকা-পয়সা দেয় কেন?

ভাবী, আমি তো আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজনদেরকে বেশী পাত্তা দেই না!

ভাবী, এখনকার সমাজে টিকতে হলে আরো বেশী স্মার্ট হতে হবে!

ভাবী, আপনারা গাড়ি কিনেন না কেন? অথবা আপনাদের গাড়ির মডেল এতো পুরনো কেন?

ভাবী, আপনারা একটি ফ্লাট/এপার্টমেন্ট কিনেন না কেন?

ভাবী, আপনি জীবনটা এভাবে ঘর-সংসার করে নষ্ট করছেন কেন?

ভাবী, আপনি একা রান্না-বান্না করেন কেন, আপনার স্বামীকেও বলবেন সপ্তাহে অন্তত তিনদিন রান্না করতে!

ইত্যাদি ইত্যাদি।

একটু গভীরভাবে চিন্তা করি

স্বীকার না করে উপায় নেই যে উপরের এই পরামর্শগুলো স্ত্রীদের মনে বিষক্রিয়া করে চলে অনুক্ষণ, অথচ স্বামী-সংসার-সন্তান এগুলো নিয়েই আমাদের সুখের জীবন। উপরের পরামর্শ অনুযায়ী কোন মতেই জীবনের ব্যাল্যান্স হারিয়ে ফেলা যাবে না। একবার জীবনের ব্যাল্যান্স হারিয়ে ফেললে যারা পরামর্শ দিচ্ছেন তারা আমাদের পারিবারিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবেন না, আর আসলেও কোন সমাধান তারা দিতে পারবেন না।

একটিবার চিন্তা করে দেখি, যখন আমরা বৃদ্ধ হয়ে যাবো তখন এই স্বামী-স্ত্রীই একে অপরের পরম বন্ধু, তখন এই যৌবনের রাগ-অভিমান কোনই কাজে আসবে না। চারিদিকে বৃদ্ধবৃদ্ধাদের দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখতে পাই তারা তো অসহায়! অনেকে সন্তান থেকেও তাদের দেখার মতো কেউ নেই, আজকাল অনেকে একাকী জীবন কাটাচেছন ওল্ড এইজ হোমে। (বৃদ্ধাশ্রমে) সুষ্ঠু পারিবারিক জীবন ছাড়া একজন মানুষ কখনোই মানসিকভাবে পরিপূর্ণ সুস্থ থাকতে পারে না। আবার মানসিক অসুস্থতার কারণে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। আমাদের জীবনটা খুবই সীমিত, এই সীমিত জীবনে আমরা সংসার ভেঙ্গে কেন মিছেমিছি সমাধান চাচ্ছি অন্যভাবে। আরো গভীরভাবে যদি চিন্তা করি তাহলে দেখবো যেকোন সময় যেকারো ডাক এসে যাবে পরপারের। চলে যেতে হবে কবরে, শুধু দুই টুকরো কাফনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই যাবে না সাথে, যাবে শুধু কৃত আমল। তখন কোথায় যাবে আমার। রাগ-অভিমান, অহংকার, আয়-রোজগার, জমানো টাকা, এতো জামা-কাপড়, গহনা!