১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬১
সমাজ ও দাম্পত্য জীবনে পর্দার গুরুত্ব
প্রত্যেক নর-নারীর সম্রম ও সম্মান প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পর্দা এমন একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার বাস্তবতা মানবজীবনে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ করুক আর নাই-ই করুক এক্ষেত্রে সকলে একমত কোনো পরিবারের মানসিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত হলো পর্দা। চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনের এ এক পরম সম্পদ। আর তাই পর্দার নীরব বিরোধী, পর্দার সরব বিরুদ্ধাচরণকারী ও যুক্তি তর্ক প্রদানকারী বিশাল এ জনগোষ্ঠীর লোকজনও পর্দাহীনতার কুফল থেকে মুক্ত থাকতে চায়। এজন্যই সর্বত্র পর্দা একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
পর্দা মেনে না চলার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারী পুরুষের মাঝে বহু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে যা আমরা দৈনন্দিন শুনে থাকি এবং বহু ঘটনা দৈনিক পত্রিকাগুলোতে অহরহ পাঠ করছি। একথা সত্য যে আজকের সমাজে যাদের মধ্যে বেপর্দার প্রচলন বেশী, সেসব লোকই এ জাতীয় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বেশী। সমাজের ঘটমান এ চিত্রগুলোর দিকে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে এ কথাটি দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, এর একমাত্র কারণ হচ্ছে বেপর্দা বা পর্দাহীনতা। যার উৎপত্তি ঘটে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা বা কাছাকাছি যাওয়ার সুবাধে। এজন্যই মহান আল্লাহ তা'আলা পর্দাকে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ফরয করে দিয়েছেন।
সুতরাং পর্দা শুধু নবী পত্নীদের জন্যই নয়, পর্দার হুকুম কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে আগত সমস্ত মুসলিম নারীর জন্যই সমান এবং একই রকম। কেউ কেউ কুরআনে বর্ণিত সূরা আহযাব-এর ৩৩ নম্বর আয়াতকে প্রামাণ্য দলিলরূপে পেশ করে থাকেন। তাদের দাবি উক্ত আয়াতে শুধু নবী পত্নীদেরকে সম্বোধন করে পর্দার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই শুধু তারাই এ ব্যাপারে আদিষ্ট অন্য কেউ নয়। কী চরম বোকামী বা মূর্খতা! তাদের এ দাবি বর্ণনাভিত্তিক ও বুদ্ধিভিত্তিক উভয় দিক থেকে অপাংক্তেয় এবং ভুল। কেননা এ আয়াত দ্বারা শরীয়াতের আরো বেশ কিছু আহকাম প্রবর্তিত হয়েছে। যেমন তন্মধ্যে একটি এই যে, আইয়ামে জাহিলিয়াতের নারীদের অনুরূপ সাজ-সজ্জা করে বের হয়ো না।
এবার এ নির্দেশটি কি শুধু নবী পত্নীদের জন্য নির্ধারিত? আর অপরাপর নারীদের জন্য কি এটার অনুমতি আছে যে, আইয়ামে জাহিলিয়াতের মেয়েদের মতো তোমরা সাজ-সজ্জা করে বের হও?
অথচ একথা স্পষ্ট যে, অপরাপর মেয়েদের জন্যও এ অনুমতি থাকতে পারে। তারপর আল্লাহ তা'আলা একটু সামনে গিয়ে আরেকটি হুকুম দিয়েছেন। “তোমরা সলাত কায়েম করো।” এখানে সালাত কায়েম করার হুকুমও কি তাহলে শুধু নবী পত্নীদের সাথেই সম্পৃক্ত? অন্যান্যদের প্রতি কি সলাত কায়েম করার নির্দেশ নেই? এরপর আল্লাহ তা'আলা আরো এক হুকুম দিয়েছেন। “তোমরা যাকাত প্রদান করো।” তাহলে কি যাকাত দেয়ার হুকুম শুধু নবী পত্নীদের উপর বর্তেছে? অন্য নারীদের কি যাকাত দিতে হবে না। আরো সামনে গিয়ে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, “তোমরা আল্লাহ ও তদীয় রসূলের অনুকরণ করো; আল্লাহ ও তদীয় রসূল (ﷺ) -এর অনুকরণ কি শুধু নবী পত্নীদের জন্য আবশ্যক? অন্যান্য নারীর জন্য আবশ্যক নয় কী?
সুতরাং পুরো আয়াতের বিশ্লেষণ একথাই প্রমাণ করছে যে, এ আয়াতের মধ্যে যতগুলো আহকাম বর্ণনা করা হয়েছে তা সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। বিশেষভাবে কারো জন্য নির্দিষ্ট নয়। যদিও বা সরাসরিভাবে প্রত্যক্ষ সম্বোধন নবী পত্নীদের প্রতি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের মাধ্যমে গোটা উম্মাতই এ সম্বোধনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। আবার পর্দা প্রবর্তনের মাধ্যমে সমাজে বেপর্দা, নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশায় যে ফিতনা সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে তার দ্বার রুদ্ধ করাই ছিলো হিজাব ও পর্দার উদ্দেশ্য। এখানেও প্রশ্ন জাগে ফিতনা কি শুধু নবী পত্নীদের বাইরে যাওয়ার দ্বারাই সৃষ্টি হবে? নাউযুবিল্লাহ।
মূলতঃ নবী পত্নীগণ এমন ব্যক্তিত্ব ছিলেন যে, তাদের মতো পূতঃপবিত্র পুণ্যাত্মা নারী ভূ-পৃষ্ঠের উপর আর ছিলো না। তাদের পক্ষ থেকেই কি ফিতনা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা দেখা দিলো? তাদের কারণেই শুধু পর্দা প্রবর্তিত হলো? অপরপর নারীদের পক্ষ থেকে ফিতনা সৃষ্টি হওয়ার মোটেও আশংকা নেই? বরং বলা যায়, যখন নবী পত্নীদের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে, তোমরা পর্দার মধ্যে থাকো। তখন অপরাপর নারীর ব্যাপারে এ নির্দেশ আরো জোরালোভাবেই আরোপিত হবে। কেননা তাদের পক্ষ থেকে ফিতনা সৃষ্টি হবার আশংকা আরো শত গুণে বেশী। এছাড়াও অন্যত্র আরেকটি আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সকল নারীদেরকে সম্বোধন করে বলেন “হে নবী! স্বীয় স্ত্রীদেরকে বলে দিন এবং স্বীয় কন্যাদেরকেও বলে দিন এবং সমস্ত মু'মিন মহিলাদেরকেও বলে দিন যে, তারা যেন নিজেদের মুখমণ্ডলের উপর নিজেদের চাঁদরকে ঝুলিয়ে দেয়।” (সূরা আল আহযাব, ৩৩: ৫৯)
পর্দা মেনে না চলার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারী পুরুষের মাঝে বহু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে যা আমরা দৈনন্দিন শুনে থাকি এবং বহু ঘটনা দৈনিক পত্রিকাগুলোতে অহরহ পাঠ করছি। একথা সত্য যে আজকের সমাজে যাদের মধ্যে বেপর্দার প্রচলন বেশী, সেসব লোকই এ জাতীয় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বেশী। সমাজের ঘটমান এ চিত্রগুলোর দিকে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে এ কথাটি দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, এর একমাত্র কারণ হচ্ছে বেপর্দা বা পর্দাহীনতা। যার উৎপত্তি ঘটে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা বা কাছাকাছি যাওয়ার সুবাধে। এজন্যই মহান আল্লাহ তা'আলা পর্দাকে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ফরয করে দিয়েছেন।
সুতরাং পর্দা শুধু নবী পত্নীদের জন্যই নয়, পর্দার হুকুম কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে আগত সমস্ত মুসলিম নারীর জন্যই সমান এবং একই রকম। কেউ কেউ কুরআনে বর্ণিত সূরা আহযাব-এর ৩৩ নম্বর আয়াতকে প্রামাণ্য দলিলরূপে পেশ করে থাকেন। তাদের দাবি উক্ত আয়াতে শুধু নবী পত্নীদেরকে সম্বোধন করে পর্দার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই শুধু তারাই এ ব্যাপারে আদিষ্ট অন্য কেউ নয়। কী চরম বোকামী বা মূর্খতা! তাদের এ দাবি বর্ণনাভিত্তিক ও বুদ্ধিভিত্তিক উভয় দিক থেকে অপাংক্তেয় এবং ভুল। কেননা এ আয়াত দ্বারা শরীয়াতের আরো বেশ কিছু আহকাম প্রবর্তিত হয়েছে। যেমন তন্মধ্যে একটি এই যে, আইয়ামে জাহিলিয়াতের নারীদের অনুরূপ সাজ-সজ্জা করে বের হয়ো না।
এবার এ নির্দেশটি কি শুধু নবী পত্নীদের জন্য নির্ধারিত? আর অপরাপর নারীদের জন্য কি এটার অনুমতি আছে যে, আইয়ামে জাহিলিয়াতের মেয়েদের মতো তোমরা সাজ-সজ্জা করে বের হও?
অথচ একথা স্পষ্ট যে, অপরাপর মেয়েদের জন্যও এ অনুমতি থাকতে পারে। তারপর আল্লাহ তা'আলা একটু সামনে গিয়ে আরেকটি হুকুম দিয়েছেন। “তোমরা সলাত কায়েম করো।” এখানে সালাত কায়েম করার হুকুমও কি তাহলে শুধু নবী পত্নীদের সাথেই সম্পৃক্ত? অন্যান্যদের প্রতি কি সলাত কায়েম করার নির্দেশ নেই? এরপর আল্লাহ তা'আলা আরো এক হুকুম দিয়েছেন। “তোমরা যাকাত প্রদান করো।” তাহলে কি যাকাত দেয়ার হুকুম শুধু নবী পত্নীদের উপর বর্তেছে? অন্য নারীদের কি যাকাত দিতে হবে না। আরো সামনে গিয়ে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, “তোমরা আল্লাহ ও তদীয় রসূলের অনুকরণ করো; আল্লাহ ও তদীয় রসূল (ﷺ) -এর অনুকরণ কি শুধু নবী পত্নীদের জন্য আবশ্যক? অন্যান্য নারীর জন্য আবশ্যক নয় কী?
সুতরাং পুরো আয়াতের বিশ্লেষণ একথাই প্রমাণ করছে যে, এ আয়াতের মধ্যে যতগুলো আহকাম বর্ণনা করা হয়েছে তা সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। বিশেষভাবে কারো জন্য নির্দিষ্ট নয়। যদিও বা সরাসরিভাবে প্রত্যক্ষ সম্বোধন নবী পত্নীদের প্রতি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের মাধ্যমে গোটা উম্মাতই এ সম্বোধনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। আবার পর্দা প্রবর্তনের মাধ্যমে সমাজে বেপর্দা, নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশায় যে ফিতনা সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে তার দ্বার রুদ্ধ করাই ছিলো হিজাব ও পর্দার উদ্দেশ্য। এখানেও প্রশ্ন জাগে ফিতনা কি শুধু নবী পত্নীদের বাইরে যাওয়ার দ্বারাই সৃষ্টি হবে? নাউযুবিল্লাহ।
মূলতঃ নবী পত্নীগণ এমন ব্যক্তিত্ব ছিলেন যে, তাদের মতো পূতঃপবিত্র পুণ্যাত্মা নারী ভূ-পৃষ্ঠের উপর আর ছিলো না। তাদের পক্ষ থেকেই কি ফিতনা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা দেখা দিলো? তাদের কারণেই শুধু পর্দা প্রবর্তিত হলো? অপরপর নারীদের পক্ষ থেকে ফিতনা সৃষ্টি হওয়ার মোটেও আশংকা নেই? বরং বলা যায়, যখন নবী পত্নীদের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে, তোমরা পর্দার মধ্যে থাকো। তখন অপরাপর নারীর ব্যাপারে এ নির্দেশ আরো জোরালোভাবেই আরোপিত হবে। কেননা তাদের পক্ষ থেকে ফিতনা সৃষ্টি হবার আশংকা আরো শত গুণে বেশী। এছাড়াও অন্যত্র আরেকটি আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সকল নারীদেরকে সম্বোধন করে বলেন “হে নবী! স্বীয় স্ত্রীদেরকে বলে দিন এবং স্বীয় কন্যাদেরকেও বলে দিন এবং সমস্ত মু'মিন মহিলাদেরকেও বলে দিন যে, তারা যেন নিজেদের মুখমণ্ডলের উপর নিজেদের চাঁদরকে ঝুলিয়ে দেয়।” (সূরা আল আহযাব, ৩৩: ৫৯)