hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৯

কৃত্রিম মর্যাদা প্রদর্শন ও চর্চা থেকে দূরে থাকি

এ সমস্যাটি কোন এক জনগোষ্ঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান, সমাজ, রাষ্ট্র সকলেই এ রোগে আক্রান্ত। আমরা সকলে কমবেশী কৃত্রিম মর্যাদা রক্ষার চেষ্টায় ব্যস্ত। কিন্তু এ রোগের তীব্র মাত্রা মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির দ্বন্দ বা ঝগড়া, পরিবারের সাথে অপর পরিবারের অসৎ প্ৰতিযোগিতা, বান্ধবীর সাথে অপর বান্ধবীর লড়াই ইত্যাদি সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। মানুষ অযথা এর পেছনে সময়, শ্রম ও মেধা ব্যয় করে। এর বিভিন্ন রূপ ও ঢং আছে। পুরুষের রোগ নারীরটি হতে ভিন্ন। ছোটদেরও আবার বড়দের চাইতে অন্যরকম। কিন্তু যে রূপে আর ঢং-এ হোকনা কেন এ ব্যাপারে সীমালংঘন কোন ভাবেই ভাল নয়। মানুষ যখন মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্যের লড়াইয়ে লিপ্ত হয় ঠিক তখনই কৃত্রিমতা নামক উপসর্গ ঝেকে বসে। মন মস্তিষ্ককে আচ্ছাদিত করে এক অপ্রয়োজনীয় অদৃশ্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ব্যক্তির ইপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছতে অসং পস্থা অবলম্বন করতে হয়। অবৈধ উপায়ে অর্থ রোজগার, অন্যায় আচরণ ইত্যাদি অবশ্যম্ভাবী হয়ে পরে।

এর খারাপ দিক : এ রোগে তূলনামূলক মহিলারা বেশী আক্রান্ত হয়। কার শাড়ী কত সুন্দর, কার গহনা কত দামী, কে কোন শপিং মল হতে বাজার করেন, কে কোন ব্রান্ডের পোশাক পরিধান করেন, কার অলংকারে কয়টা ডায়মন্ড আছে, কার স্বর্ণের বালায় কতুটুকু সোনা আছে ইত্যাদি ধরণের কৃত্রিম মর্যাদার চর্চা প্রায়ই দেখা যায়। আফসোসের বিষয় এ চর্চা কেবল বলা কওয়া আর দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এক অঘোষিত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন সংশ্লিষ্ট মহিলারা।

সমাজে বসবাসকারী অন্য মহিলারা ক্রমান্বয়ে এ প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়। এর অসৎ দিকটি স্বামীদের উপরও প্রভাব বিস্তার করে। মহিলারা অন্ধ হয়ে যান। স্বামীকে মৃদু হতে কড়া চাপ দিতে থাকেন। উমুক গয়নাটি আমার চাই তা না হলে আমি কিভাবে মুখ দেখাবো, উমুক মডেলের গাড়ীটি আমাদের এ মাসেই কিনতে হবে ইত্যাদি বাগাড়ম্বড়তা। কোন কোন স্বামী এগুলোকে মুখ বুঝে সহ্য করেন আবার কেউ কেউ প্রতিবাদ করেন, বাকবিতন্ডা করে ঘরের শান্তির বিনিময়ে বাইরের সৌন্দর্য কিনে নেন।

আবার অনেকে ইসলামিক মাইন্ডের হয়েও ইসলামী অনুষ্ঠানে অন্যান্য মহিলাদেরকে শো করার উদ্দেশ্যে অনেক দামী গহনা বা শাড়ি পরে আসেন এবং ইনডাইরেক্টলি তা শো করার চেষ্টা করেন এবং তার দেখাদেখি অনেকেই এই প্রতিযোগিতায় জরিয়ে পরেন যা মহান আল্লাহ তা'আলা একেবারেই পছন্দ করেন না।

প্রতিষেধক : অথচ প্রতিযোগিতা হওয়ার বিষয় ছিল কে কত বেশী সদাকা করেছে? কে তার দামী হারটি বিক্রি করে দেশে একজন ইয়াতীমের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন? কে এ বছর একটি গরীব মেয়ের পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছে? কে তার বেতনের একটা অংশ সদাকার জন্য আলাদা করে রেখে দিয়েছেন। ইত্যাদি। অবশ্য কোন কোন মায়েরা এগুলি করে থাকেন। অন্যরা যদি ধীরে। ধীরে এ বিষয়গুলিকে প্রতিযোগিতার বিষয় বানিয়ে আনেন তাহলে গয়নার প্রতিযোগিতার স্থলে সদাকার প্রতিযোগিতা চালু হবে, শাড়ীর প্রতিযোগিতার স্থলে ইয়াতীমের বিয়ের ভার গ্রহণের প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এভাবে সমাজ ও কমুনিটির লোকরা উপকৃত হবে। জীবন সুন্দর হবে। কৃত্রিমতা দূর হবে। পারস্পরিক বিশ্রী প্রতিযোগিতা শ্রদ্ধা ও খাটি ভালোবাসার রূপ নেবে।

“যারা সোনা রুপা জমা করে রাখে এবং তা থেকে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে , তাদেরকে কঠিন শাস্তির সুসংবাদ দাও। সেই দিনের আযাবের কথা জানিয়ে দাও যেদিন সোনা ও রুপা আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের ললাটে, পাঁজরে ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে যে, এটাই হচ্ছে তোমাদের নিজেদের জন্য সঞ্চিত সেই ধন-সম্পদ। তোমরা যা কিছু সঞ্চয় করেছিলে এখন তারই স্বাদ গ্রহণ করো।” (সূরা তাওবা : ৩৪-৩৫)