১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৬
বন্ধুত্ব করবো কার সাথে?
রসূল (ﷺ) -এর একটা হাদীসের ভাবার্থ দিয়ে আলোচনাটা শুরু করা যাক। তোমার বন্ধু যদি হয় কামার তাহলে তুমি মাঝে মধ্যেই তার দোকানে গিয়ে সময় কাটাবে, আর বিছুটা হলেও কামারের দোকানের বয়লার কালি তোমার জামা কাপড়ে লাগবেই। আর তোমার বন্ধু যদি হয় আতরওয়ালা, তাহলেও তুমি মাঝে মধ্যেই তার দোকানে গিয়ে সময় কাটাবে, আর কিছুটা হলেও তোমার জামা-কাপড়ে আতরের ছিটেফোঁটা লাগবেই এবং তোমার শরীর থেকে সুঘ্রাণ আসবে।
এতেই বুঝা যাচ্ছে আমাদের করণীয় কী বা কার সাথে আমরা সম্পর্ক করবো। আমার বন্ধু যদি হয় মদখোর তাহলে একদিন না একদিন হলেও সে আমাকে বারে ঢুকিয়ে ছাড়বে, অথবা সে যদি হয় জুয়ারী তাহলে সে আমাকে একদিন হলেও জুয়ার আসরে নিয়ে ছাড়বে। আবার আমার বন্ধু যদি হয় সলাত আদায়কারী তাহলে সে কোন না কোন একদিন আমাকে মসজিদে নিয়ে ছাড়বে।
আবার আমার স্ত্রীর বান্ধবী যদি হন পর্দানশীন তাহলে আমার স্ত্রীও হয়তো একদিন হবেন পর্দানশীন। আবার আমার স্ত্রীর বান্ধবী যদি হন ইসলামিক মাইন্ডেড তাহলে যখন তারা গল্প-গুজবে বসবেন তখন তারা আলোচনা করবেন কুরআন থেকে, হাদীস থেকে অর্থপূর্ণ বিষয় নিয়ে। আবার আমার স্ত্রীর বান্ধবী যদি হন হিন্দি সিনেমার পোকা, তাহলে তারা এই অখাদ্য-কুখাদ্যের বিষয়ে খোঁজ-খবর দিবেন। আবার যখন তারা কোন আডডায় বসবেন তখন তাদের আলোচনার বিষয় হবে বলিউডের নায়ক-নায়িকা।
ঘটনা ১:
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে একটি ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। স্বামী-স্ত্রী ক্যানাডা এসেছেন ল্যান্ডেড ইমিগ্র্যান্ট হয়ে। দু’জনেই হাইলি কোয়ালিফাইড. স্ত্রী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং বিসিএস-এ চান্স পেয়েছেন। বাংলাদেশী ভদ্ৰপরিবার। হিসেবে আমাদের সাথে পরিচয় হয় এবং সেই সাথে বন্ধুত্ব। কিছুদিন পর স্বামী স্ত্রী দু'জনে আমাদের নিকট ১২ হাজার ডলার ধার চান তিন মাসের জন্য।
আমরাও উপকারের নিয়তে তাদেরকে ১২ হাজার ডলার ধার দেই। কিন্তু তিন মাস চলে যাওয়ার পরও তারা ডলার ফেরত দেয়ার নাম নেন না। আমরাও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য তাদেরকে টাকাটা প্রতিমাসে কিস্তিতে দিয়ে পরিশোধ করার সুযোগ দেই। এভাবে তারা ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করে। এবং দুই বছর পরে হঠাৎ একদিন বলে তারা বাংলাদেশে চলে যাচ্ছেন একেবারে এবং দেশে গিয়ে বাকি টাকা পরিশোধ করবেন। দেশে আমরা তাদেরকে চিনি না এবং কানাডাতেই তাদের সাথে পরিচয়।
যা হোক, তারা আর বাকী ৮ হাজার ডলার কিছুতেই দিতে পারবেন না, সোজা কথা। ফোন করলে সাধারণতঃ ফোন রিসিভ করেন না এবং টাকার কথা বললে রাগারাগী করেন। হঠাৎ একদিন দু’জনে আমাদের বাসায় এসে হাজির। প্রস্তাব দিলেন আমাদের বাকী সব টাকা পরিশোধ করে দিবেন। কিন্তু কিভাবে? ওনারা ব্রোকার ধরেছেন, দুই নাম্বরী কাগজ পত্র দিয়ে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার ডলার লোন করানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু সেজন্য তাদের একজন গ্যারান্টর প্রয়োজন। কারণ অনেক আগেই তারা নিজেদের সবগুলো ক্রেডিট কার্ড এবং লাইন অব ক্রেডিট থেকে সব ডলার তুলে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য তাদের ক্রেডিট হিস্ট্রি খারাপ হয়ে গেছে। তাই আমাদের অনুরোধ করছেন গ্যারান্টর হওয়ার জন্য। এই ৫০ হাজার ডলার লোন পেলে সেখান থেকে আমার ৮ হাজার ডলার ফেরত দিবেন এবং বাকি ৪২ হাজার ডলার আর ফেরত না দিয়ে একেবারে দেশে চলে যাবেন।
এই দেখুন বন্ধুত্বের নমুনা, দেখুন বন্ধুর চরিত্র! এতো গেল একজনের উদাহরণ। এরকম বিভিন্ন চরিত্রের বিভিন্ন ক্যাটেগরির বন্ধ পাওয়া যায় জীবনে চলার পথে। যা হোক, আমরা যাদের সাথে উঠা-বসা করি তাদের মন-মানসিকতা কি ধরণের, তাদের নীতি-নৈতিকতার মান কতটুকু? তাদের আল্লাহর প্রতি ভয় কতটুক? এসবের উপর আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনও নির্ভর করে। নির্ভর করে আমাদের পারিবারিক শান্তি। শুধু উচ্চ শিক্ষিত হলে বা অনেক টাকা-পয়সা আয় করলে বা দামী দামী গাড়ী চালালে বা নামকরা ব্র্যান্ডের কাপড়-চোপড় পড়লেই চরিত্রবান হওয়া যায় না। আল্লাহ তা'আলার দৃষ্টিতে সেই প্রকৃত চরিত্রবান যে তার দৈনন্দিন কাজে প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে সেই কাজ সম্পাদন করে, যাকে কুরআনের ভাষায় বলে তাকওয়া। আর আল্লাহকে ভয় করার অর্থ হচ্ছে প্রতিটি কাজ আল্লাহ যেভাবে করতে বলেছে ঠিক সেইভাবে করা। অর্থাৎ আমার নিজের মন-মর্জি মতো করলে চলবে না।
তাই বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরী। আল্লাহ-ভীরু, সলাত আদায়কারী ও (নারীদের ক্ষেত্রে) পর্দানশীদের সাথে চলা উচিত। কোন এক হাদীসে আছে, মানুষ তাদের বন্ধুর স্বভাব অনুযায়ী হয়, আর অসৎ বন্ধু জাহান্নামের দিকে টানে। কারণ বন্ধুর প্রভাব কিছুটা হলেও আমাদের উপর পড়বে।
ঘটনা ২ :
আর একটি সত্য ঘটনার মাধ্যমে উদাহরণ দেয়া যাক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কানাডায় বসবাসরত স্বামী-স্ত্রী দিন কাটাচ্ছেন সুখেই। দেশ থেকে স্বামীর প্রাণপ্রিয় বন্ধু (ব্যাচেলর) আসেন নতুন ইমিগ্র্যান্ট হয়ে। বন্ধুর বাসার ড্রইং রুমেই থাকার ব্যবস্থা হয় সেটল না হওয়া পর্যন্ত। বন্ধুর স্ত্রীর গতানুগতিক সামাজিকতার মধ্য দিয়েই স্বামীর বন্ধুর আপ্যায়ন করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শয়তান তো আর চুপচাপ বসে নেই, যা ঘটাবার তাই ঘটিয়ে দিয়েছে খুব দ্রত। বন্ধুর। স্ত্রীর সাথে প্রাণপ্রিয় বন্ধুর সাথে সম্পর্ক, তারপর ছাড়াছাড়ি। গেইম ওভার। এই হলো প্রাণপ্রিয় বন্ধুর উপহার। যাহোক মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের চেয়ে অনেক ভাল বুঝেন, তাই তিনি পরপুরুষ এবং পরস্ত্রীর মধ্যে একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছেন, যারাই এটা অতিক্রম করবে তারাই মহাবিপদে পড়বে। এখানে নিজ ঘরে খাল কেটে কুমির এনেছেন স্বামী নিজে। অতএব স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বামীর কোন বন্ধুকে ঘরে আসার পথ মজবুতভাবে বন্ধ রাখতে হবে। আর স্বামীকেও সেটি করতে দেয়া যাবে না। সূরা ২৫ ফুরকানের ২৭, ২৮, ২৯ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলছেন :
“সেদিন যালিম ব্যক্তি (ক্ষোভে দুঃখে) নিজের হাত দুটো দংশন করতে করতে বলবে, হায়! আমি যদি দুনিয়ায় রসূল (ﷺ) -এর সাথে (দ্বীনের) পথ অবলম্বন করতাম! দুর্ভাগ্য আমার, আমি যদি অমুককে (নিজের) বন্ধু না বানাতাম! আমার কাছে (দ্বীনের) উপদেশ আসার পর সে তা থেকে আমাকে বিচ্যুত করে দিয়েছিলো; আর শয়তান তো (সবসময়) মানুষকে (বিপদের সময় একা) ফেলে কেটে পড়ে।”
এবং সূরা ৪১ আয-যুখরুফের ৬৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আরো বলেছেন :
“সেদিন (দুনিয়ার) বন্ধুরা সবাই একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, অবশ্য যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করেছে তাদের কথা আলাদা।”
বিশেষ অনুরোধ :
উপরের উদাহরণগুলো শুধুমাত্র বোঝাবার সুবিধার্থে আনা হয়েছে, কেউ এতে ভুল যেন না বুঝি এবং নেগেটিভভাবে যেন না নেই। সমাজে কিছু কিছু অসৎ লোক রয়েছে তাই বলে বিপদ-আপদে কেউ কাউকে একেবারেই ধার দেয়া বন্ধ করে দেয়া ঠিক নয়। তবে যে কোন লেনদেনে সাক্ষীসহ লিখিত দলিল করে নেয়া আল্লাহর নির্দেশ, এতে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে না।
এতেই বুঝা যাচ্ছে আমাদের করণীয় কী বা কার সাথে আমরা সম্পর্ক করবো। আমার বন্ধু যদি হয় মদখোর তাহলে একদিন না একদিন হলেও সে আমাকে বারে ঢুকিয়ে ছাড়বে, অথবা সে যদি হয় জুয়ারী তাহলে সে আমাকে একদিন হলেও জুয়ার আসরে নিয়ে ছাড়বে। আবার আমার বন্ধু যদি হয় সলাত আদায়কারী তাহলে সে কোন না কোন একদিন আমাকে মসজিদে নিয়ে ছাড়বে।
আবার আমার স্ত্রীর বান্ধবী যদি হন পর্দানশীন তাহলে আমার স্ত্রীও হয়তো একদিন হবেন পর্দানশীন। আবার আমার স্ত্রীর বান্ধবী যদি হন ইসলামিক মাইন্ডেড তাহলে যখন তারা গল্প-গুজবে বসবেন তখন তারা আলোচনা করবেন কুরআন থেকে, হাদীস থেকে অর্থপূর্ণ বিষয় নিয়ে। আবার আমার স্ত্রীর বান্ধবী যদি হন হিন্দি সিনেমার পোকা, তাহলে তারা এই অখাদ্য-কুখাদ্যের বিষয়ে খোঁজ-খবর দিবেন। আবার যখন তারা কোন আডডায় বসবেন তখন তাদের আলোচনার বিষয় হবে বলিউডের নায়ক-নায়িকা।
ঘটনা ১:
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে একটি ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। স্বামী-স্ত্রী ক্যানাডা এসেছেন ল্যান্ডেড ইমিগ্র্যান্ট হয়ে। দু’জনেই হাইলি কোয়ালিফাইড. স্ত্রী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং বিসিএস-এ চান্স পেয়েছেন। বাংলাদেশী ভদ্ৰপরিবার। হিসেবে আমাদের সাথে পরিচয় হয় এবং সেই সাথে বন্ধুত্ব। কিছুদিন পর স্বামী স্ত্রী দু'জনে আমাদের নিকট ১২ হাজার ডলার ধার চান তিন মাসের জন্য।
আমরাও উপকারের নিয়তে তাদেরকে ১২ হাজার ডলার ধার দেই। কিন্তু তিন মাস চলে যাওয়ার পরও তারা ডলার ফেরত দেয়ার নাম নেন না। আমরাও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য তাদেরকে টাকাটা প্রতিমাসে কিস্তিতে দিয়ে পরিশোধ করার সুযোগ দেই। এভাবে তারা ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করে। এবং দুই বছর পরে হঠাৎ একদিন বলে তারা বাংলাদেশে চলে যাচ্ছেন একেবারে এবং দেশে গিয়ে বাকি টাকা পরিশোধ করবেন। দেশে আমরা তাদেরকে চিনি না এবং কানাডাতেই তাদের সাথে পরিচয়।
যা হোক, তারা আর বাকী ৮ হাজার ডলার কিছুতেই দিতে পারবেন না, সোজা কথা। ফোন করলে সাধারণতঃ ফোন রিসিভ করেন না এবং টাকার কথা বললে রাগারাগী করেন। হঠাৎ একদিন দু’জনে আমাদের বাসায় এসে হাজির। প্রস্তাব দিলেন আমাদের বাকী সব টাকা পরিশোধ করে দিবেন। কিন্তু কিভাবে? ওনারা ব্রোকার ধরেছেন, দুই নাম্বরী কাগজ পত্র দিয়ে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার ডলার লোন করানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু সেজন্য তাদের একজন গ্যারান্টর প্রয়োজন। কারণ অনেক আগেই তারা নিজেদের সবগুলো ক্রেডিট কার্ড এবং লাইন অব ক্রেডিট থেকে সব ডলার তুলে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য তাদের ক্রেডিট হিস্ট্রি খারাপ হয়ে গেছে। তাই আমাদের অনুরোধ করছেন গ্যারান্টর হওয়ার জন্য। এই ৫০ হাজার ডলার লোন পেলে সেখান থেকে আমার ৮ হাজার ডলার ফেরত দিবেন এবং বাকি ৪২ হাজার ডলার আর ফেরত না দিয়ে একেবারে দেশে চলে যাবেন।
এই দেখুন বন্ধুত্বের নমুনা, দেখুন বন্ধুর চরিত্র! এতো গেল একজনের উদাহরণ। এরকম বিভিন্ন চরিত্রের বিভিন্ন ক্যাটেগরির বন্ধ পাওয়া যায় জীবনে চলার পথে। যা হোক, আমরা যাদের সাথে উঠা-বসা করি তাদের মন-মানসিকতা কি ধরণের, তাদের নীতি-নৈতিকতার মান কতটুকু? তাদের আল্লাহর প্রতি ভয় কতটুক? এসবের উপর আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনও নির্ভর করে। নির্ভর করে আমাদের পারিবারিক শান্তি। শুধু উচ্চ শিক্ষিত হলে বা অনেক টাকা-পয়সা আয় করলে বা দামী দামী গাড়ী চালালে বা নামকরা ব্র্যান্ডের কাপড়-চোপড় পড়লেই চরিত্রবান হওয়া যায় না। আল্লাহ তা'আলার দৃষ্টিতে সেই প্রকৃত চরিত্রবান যে তার দৈনন্দিন কাজে প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে সেই কাজ সম্পাদন করে, যাকে কুরআনের ভাষায় বলে তাকওয়া। আর আল্লাহকে ভয় করার অর্থ হচ্ছে প্রতিটি কাজ আল্লাহ যেভাবে করতে বলেছে ঠিক সেইভাবে করা। অর্থাৎ আমার নিজের মন-মর্জি মতো করলে চলবে না।
তাই বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরী। আল্লাহ-ভীরু, সলাত আদায়কারী ও (নারীদের ক্ষেত্রে) পর্দানশীদের সাথে চলা উচিত। কোন এক হাদীসে আছে, মানুষ তাদের বন্ধুর স্বভাব অনুযায়ী হয়, আর অসৎ বন্ধু জাহান্নামের দিকে টানে। কারণ বন্ধুর প্রভাব কিছুটা হলেও আমাদের উপর পড়বে।
ঘটনা ২ :
আর একটি সত্য ঘটনার মাধ্যমে উদাহরণ দেয়া যাক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কানাডায় বসবাসরত স্বামী-স্ত্রী দিন কাটাচ্ছেন সুখেই। দেশ থেকে স্বামীর প্রাণপ্রিয় বন্ধু (ব্যাচেলর) আসেন নতুন ইমিগ্র্যান্ট হয়ে। বন্ধুর বাসার ড্রইং রুমেই থাকার ব্যবস্থা হয় সেটল না হওয়া পর্যন্ত। বন্ধুর স্ত্রীর গতানুগতিক সামাজিকতার মধ্য দিয়েই স্বামীর বন্ধুর আপ্যায়ন করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শয়তান তো আর চুপচাপ বসে নেই, যা ঘটাবার তাই ঘটিয়ে দিয়েছে খুব দ্রত। বন্ধুর। স্ত্রীর সাথে প্রাণপ্রিয় বন্ধুর সাথে সম্পর্ক, তারপর ছাড়াছাড়ি। গেইম ওভার। এই হলো প্রাণপ্রিয় বন্ধুর উপহার। যাহোক মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের চেয়ে অনেক ভাল বুঝেন, তাই তিনি পরপুরুষ এবং পরস্ত্রীর মধ্যে একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছেন, যারাই এটা অতিক্রম করবে তারাই মহাবিপদে পড়বে। এখানে নিজ ঘরে খাল কেটে কুমির এনেছেন স্বামী নিজে। অতএব স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বামীর কোন বন্ধুকে ঘরে আসার পথ মজবুতভাবে বন্ধ রাখতে হবে। আর স্বামীকেও সেটি করতে দেয়া যাবে না। সূরা ২৫ ফুরকানের ২৭, ২৮, ২৯ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলছেন :
“সেদিন যালিম ব্যক্তি (ক্ষোভে দুঃখে) নিজের হাত দুটো দংশন করতে করতে বলবে, হায়! আমি যদি দুনিয়ায় রসূল (ﷺ) -এর সাথে (দ্বীনের) পথ অবলম্বন করতাম! দুর্ভাগ্য আমার, আমি যদি অমুককে (নিজের) বন্ধু না বানাতাম! আমার কাছে (দ্বীনের) উপদেশ আসার পর সে তা থেকে আমাকে বিচ্যুত করে দিয়েছিলো; আর শয়তান তো (সবসময়) মানুষকে (বিপদের সময় একা) ফেলে কেটে পড়ে।”
এবং সূরা ৪১ আয-যুখরুফের ৬৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আরো বলেছেন :
“সেদিন (দুনিয়ার) বন্ধুরা সবাই একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, অবশ্য যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করেছে তাদের কথা আলাদা।”
বিশেষ অনুরোধ :
উপরের উদাহরণগুলো শুধুমাত্র বোঝাবার সুবিধার্থে আনা হয়েছে, কেউ এতে ভুল যেন না বুঝি এবং নেগেটিভভাবে যেন না নেই। সমাজে কিছু কিছু অসৎ লোক রয়েছে তাই বলে বিপদ-আপদে কেউ কাউকে একেবারেই ধার দেয়া বন্ধ করে দেয়া ঠিক নয়। তবে যে কোন লেনদেনে সাক্ষীসহ লিখিত দলিল করে নেয়া আল্লাহর নির্দেশ, এতে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে না।