hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৮

শিরক মুক্ত জীবনযাপন করা

আজকাল সম্পূর্ণরূপে শিরক মুক্ত হয়ে জীবনযাপন করা আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। আজ প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে মানুষ শিরকের সাথে লিপ্ত। বাস্তবে আজ মুসলিম সমাজে আল্লাহকে এক ও অনন্য বলে সাধারণভাবে স্বীকার করা হয় বটে। কিন্তু কার্যত দেখা যায়, আল্লাহর উলুহিয়াতী (ইবাদত) তাওহীদের প্রতি যদিও বিশ্বাস রয়েছে কিন্তু তাঁর রবুবিয়াতের (প্রভুত্ব) তাওহীদ স্বীকার করা হচ্ছে। মুখে স্বীকার করলেও বাস্তবে রব হিসেবে মেনে নেয়া হচ্ছে আরো অনেক শক্তিকে। আর এটাই হচ্ছে শিরক।

শব্দগত আকীদা হিসেবে যদিও আল্লাহকে-ই রিযিকদাতা, জীবনদাতা, মৃত্যুদাতা, সৃষ্টিকর্তা, প্রভাবশালী, কর্তৃত্বসম্পন্ন, বিশ্বব্যবস্থাপক এবং রব বলে স্বীকার করা হয়, কিন্তু এ শ্রেণীর লোকেরাই মৃত’বুযুর্গ’ (?) লোকদের নিকট প্রার্থনা করে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদেরই ভয় করে চলে, তাদেরই নিকট থেকে কোনো কিছু পেতে আশা পোষণ করে। বিপদে পড়লে তাদের নিকটই নিস্কৃতি প্রত্যাশা করে, তাদের নিকটই সকল উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। এক শ্রেণীর লোকেরা মনে করে ও এর অলৌকিকভাবে মানুষের দু’আ শুনতে ও কবুল করতে পারে, সাহায্য বতে পারে, ফায়েজ দিতে পারে। ভালমন্দ করাতে ও ঘটাতে পারে। এই উদ্দেশ্যে তাদের সন্তোষ কামনা করে। আর তাদের সন্তোষ বিধানের জন্যেই তাদের উদ্দেশ্যে মানত মানে, পশু জবাই করে, মরার পর তাঁদের কবরে নানারকম কান্ড করেন, নিজেদের ধন-সম্পদের একটা অংশ তাদের জন্যে ব্যয় করা কর্তব্য মনে করেন।

আর এসব কারণেই দেখা যায়, এ শ্রেণীর লোকদের কবরকে নানাভাবে ইজ্জত করা হচ্ছে, বহু অর্থ খরচ করে কবরের উপর পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দেশ-দেশান্তর সফর করা হচ্ছে। এক নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে চারিদিক থেকে তাদের ভক্তেরা এসে জমায়েত হচ্ছে। ঠিক যেমন মুশরিক জাতিগুলো গমন করে তাদের ধর্মীয় তীর্থভূমে।

ইসলামে তাওহীদী আকীদার দৃষ্টিতে আল্লাহ ছাড়া আর কারো নিকট দু'আ (প্রার্থনা) করা বা আর কাউকে সম্বোধন করে দুআ করা সুস্পষ্ট শিরক। ইসলামে তা স্পষ্ট ভাষায় নিষিদ্ধ। কুরআনে আল্লাহ স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলে দিয়েছেন।

“আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাকে ডাকছো তারা তোমাদের সাহায্য করতে সক্ষম নয়। বরং নিজের সাহায্যেও অক্ষম।” (সূরা আল আ'রাফ, ৭: ১৯৭) “সমস্ত গায়েবের চাবিকাঠি তাঁরই (আল্লাহর) নিকট, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না।” (সূরা আল আনআম, ৬: ৫৯)

সতর্কতা:

নিজ ঘরে অশান্তির এটা একটা বড় কারণ হচ্ছে শিরকের প্রশ্রয় দেয়া। একটা কথা সব সময় স্মরণ রাখতে হবে যে মহান আল্লাহ ছাড়া কারো কিছু করার বা দেয়ার ক্ষমতা নেই, সে যতো বড় ওলি বা বুজুর্গই হোক না কেন। আমার ভাগ্যের পরিবর্তন যেমন ও ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরী, প্রোমোশন, সন্তান-সন্ততি, বাড়ি-গাড়ি, রোগমুক্তি, আয়-উন্নতি, ব্যাংক-ব্যাল্যান্স, ফসলের উন্নতি, পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট, স্বামী-স্ত্রীর মিল, বিদেশ গমন ইত্যাদি কোন পীর-মুর্শেদ বা কোন মাজার দিতে পারবে না। আর আমি যদি কোন কিছু পাওয়ার আশায় কোথাও যাই তাহলে সেটা হবে সরাসরি আল্লাহর সাথে শিরক। আমার যা কিছু চাওয়ার তা সরাসরি আল্লাহ তাআলার কাছে চাইতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তা'আলা তা আমাদেরকে দিবেন।

আমরা জানি শিরকের গুনাহ আল্লাহ তা'আলা কখনোই ক্ষমা করবেন না। তাই কিভাবে আমরা শিরকের সাথে লিপ্ত থেকে জীবনে সুখি হতে পারি? এবিষয়ে আমাদের উচিত সামান্য হলেও পড়াশোনা করা। আমাদের জানা উচিত কী কী কাজে মহান আল্লাহ তা'আলার সাথে শিরক হয়ে যাচ্ছে। শিরক সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের লিখা The Way is One বইটি পড়া যেতে পারে।