hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯২

নেতৃত্বের প্রতি লোভ

এ খারাপ গুণটি নেই এমন কোন রক্ত-মাংসের মানুষ সম্ভবত পাওয়া যাবে না। যোগ্যতার বিষয়টি চিন্তা না করে কেবল লোকের দৃষ্টিতে সম্মান বাড়বে মনে করে বেশীর ভাগ লোকই নেতা হতে চায়। অধিকাংশ প্রার্থীহ নেতার দায়দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না। কেবল নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় কত লোক যে দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়িত হয়ে জীবন হারিয়েছে তার পরিসংখ্যান নিলে সংখ্যাটি হাজার ছাড়িয়ে যাবে। বিদেশে বাংলাদেশী সংগঠনগুলিতে এ রোগের যথেষ্ট লক্ষণ রয়েছে। কোথাও কোথাও এ ইস্যুতে পুলিশের সাহায্য নিতে হয়েছে। এক পক্ষের হবু নেতার সমর্থক অন্য পক্ষকে ঘায়েল করার হুমকির কারণে পুলিশী হস্তক্ষেপ কোন অবিশ্বাস্য ঘটনা নয়।

এ রোগের খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো জাতিকে, আক্রান্ত সংগঠনকে, প্রতিষ্ঠানকে। একজন অযোগ্য ব্যক্তি যিনি নেতৃত্বের দায়দায়িত্বের কথা চিন্তা করে এ হতে দূরে থাকেন, তিনি অপর আরেক ব্যক্তি হতে উত্তম যিনি অপেক্ষাকৃত যোগ্য কিন্তু নেতৃত্বের গুরু দায়িত্ব সম্পর্কে বেখেয়াল। এর কারণ প্রথম ব্যক্তি নিজেকে যোগ্য মনে না করে নেতৃত্বের লোভ হতে দূরে থাকলেও তাকে যদি দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে সে প্রতি মুহূর্তে তটস্থ থাকবে, তার অধীনস্থদের কল্যাণের কথা মাথায় এনে চিন্তা ভাবনা করতে থাকবে কিভাবে অবস্থার উন্নতি করা যায়। পরে সে নিজেকে ক্রমান্বয়ে এডজাষ্ট করে নেবে ও তার মধ্যে ধীরে ধীরে যোগ্যতার সৃষ্টি হয়ে যাবে।

প্রতিষেধক : যাদের নেতৃত্বের প্রতি লোভ আছে, যেসব ব্যক্তি নেতা হওয়ার জন্য বেপরোয়া আচরণ করেন, যারা নেতা হওয়ার জন্য নির্লজ্জ কাজ করতে দ্বিধা করে না তাদের কোন অবস্থাতেই নেতা হিসাবে নির্বাচন করা উচিত নয়। এ ব্যাপারে অন্যদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বুঝতে হবে যে এ ধরনের ব্যক্তিরা যতই যোগ্যতাসম্পন্ন হোক না কেন তাদের দ্বারা কমুনিটির প্রকৃত কোন কল্যাণলাভ হবে না। কদাচিৎ যদি তারা বিছু চমক দেখাতে সক্ষমও হয় কিন্তু এর শেষ পরিণতি সর্বদা করুণ ও হতাশাব্যঞ্জক হওয়ার আশংকাই অধিক।

সংগঠন রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক যাই হোক না কেন সেখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরী। এ সকল সংস্থার মধ্যে প্রশিক্ষণের কথা কখনো শোনা যায়নি। তাদের অন্যান্য কর্মসূচী নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়, এ প্রোগ্রাম, সে অনুষ্ঠান ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত সংগঠন সারা বছর। কমপক্ষে দু'টি নৈতিক প্রশিক্ষণের কর্মসূচী হাতে নেয়া উচিত। সেখানে সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ চরিত্রের অধিকারী কোন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিত্বকে স্পীকার বানিয়ে সংগঠনে পদের অধিকারী সকল কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যে যত শিক্ষিত হয় তার জন্যে ঠিক সেই পরিমাণ নৈতিক শক্তি অর্জন করা কল্যাণকর।