hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৭

চাকুরী নিয়ে হতাশা?

ভাল পেশা ও ইসলামে নৈতিকতার দিক থেকে কোন বৈধ পেশাই ছোট নয় আবার কোনটি বড়ও নয়। যদি আয়-রোজগারের ক্ষেত্রে হারাম-হালাল বাছবিচার করে উপার্জন করা যায়। আল্লাহর নবীগণ ছিলেন মানব ইতিহাসের সবচাইতে সম্মানিত মানুষ। তাঁরা সবাই নিজ হাতে জীবিকা উপার্জন করতেন। প্রথম মানুষ ও নবী আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কৃষি কাজ করতেন। আল্লাহর নবী দাউদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাদশাহ হয়েও কর্মকারের কাজ করে সংসার চালাতেন। নবী জাকারিয়া (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করতেন। নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর অনুসারী সাহাবীগণ কেউ ব্যবসা করতেন, কেউ চাকুরী করতেন। ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) কাপড়ের ব্যবসা করতেন। এভাবে দেখা যায় যে একেক জন একেক পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এসব মনীষীগণ কে কি ধরনের কাজ করতেন তা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। বরং তাদের আদর্শভিত্তিক জীবন ও আদর্শের জন্য ত্যাগই এ মহান ব্যক্তিদিগকে মানবজাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

অতএব সর্বপ্রথম আমাদেরকে এ মূলনীতি ঠিক করতে হবে যে, কাজ বা পেশা যাই হোক না কেন কোনটিই ছোট নয় আবার কোনটি বড়ও নয়। কোন পেশার কথা শুনে যদি কেউ নাক সিটকায় তাহলে মানুষ হিসেবে সে ব্যক্তি প্রশংসনীয় নয়। শিক্ষিত মূখরাই বিশেষ পেশার কথা শুনে বিরূপ ভাব প্রকাশ করে। এতে করে তথাকথিত শিক্ষিতদের প্রকৃত জ্ঞানের দৈন্যদশাই ফুটে উঠে যদিও তারা নিজেদেরকে খুব জ্ঞানী মনে করে।

পরিচ্ছন্ন পেশা ও ভাল পেশা বলতে কিছু স্বীকার না করলেও আমরা পরিচ্ছন্ন পেশার কথা শুনে থাকি ও তা আমলে নেই। পেশা সমূহের মধ্যে কিছু আছে যার গোড়াই গন্ডগোল সম্পর্কিত। যাবতীয় পেশা নির্বাচনের সময় শুধু, পারিশ্রমিকের পরিমাণ দেখাই শেষ নয়। কাজের ধরণ, এর পরিবেশ, আপনার নিয়োগকর্তার বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি দেখে নেবার সুযোগ থাকলে তা একটি ভাল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হয়। কোন চাকুরী করতে গিয়ে যদি আমি আগেভাগেই জানতে পারি যে এ কাজে আমার নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিতে হবে, কিংবা আমার উপর আল্লাহর যে অধিকার আছে তা খর্ব হবার সম্ভাবনা সুস্পষ্ট, এ ধরনের কাজ বা পেশ না নেওয়া ভাল। এতে আল্লাহ খুশী হন এবং মূলতঃ এটা আল্লাহর পক্ষ হতে আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা। আর এ পরীক্ষায় যদি আমি উত্তীর্ণ হতে পারি তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন :

“বলে দিন ৪ অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্য তোমাকে বিস্মিত করে। অতএব, হে বুদ্ধিমানগণ, আল্লাহকে ভয় কর-যাতে তোমরা মুক্তি পাও।” (সূরা আল-মায়িদা : ১০০)

স্বাভাবিক পথে এক লক্ষ টাকা উপার্জন, আর অস্বাভাবিক পথে দশ লক্ষ টাকা বা তারও বেশী উপার্জন এক নয়। একজন প্রকৃত বুদ্ধিমান মানুষের জন্য প্রথমটিই শ্রেয়। কেবল পরকালের ভয় যদি আমার ভেতরের পশুকে দমন করার জন্য যথেষ্ট না হয় তাহলে বিষয়টি এভাবে বিবেচনা করি ও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের প্রভাবে আমার জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় নেমে আসবে। এতে যে পরিমাণ ক্ষতি হবে তা আমার অবৈধভাবে কামানো অর্থের তুলনায় অনেক বেশী। অবৈধ অর্থ আয়ের অশুভ প্রভাব পরিবারের অন্যান্য সদস্য যারা আমার উপর নির্ভরশীল তারাও অনুভব করবে। এর জ্বালায় আমি ধড়ফড় করবো, দুনিয়ার সবকিছু তেতো মনে হবে। কিন্তু এ সংকট হতে নিজেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থলে সরিয়ে নেয়া সম্ভব নাও হতে পারে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের এ ধরনের আত্মঘাতী কাজ হতে মুক্ত রাখুন।