hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১১

হালাল ইনকাম কেন ফরয?

আমরা জানি প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য হালাল রুজির সন্ধান করা অবশ্য কর্তব্য। কেননা হালাল সম্পদ বা খাদ্যই হলো ইবাদত কবুলের শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম শর্ত। হালাল উপায়ে অর্জিত ও শরীয়ত অনুমোদিত অর্থ-সম্পদ বা খাদ্য গ্রহণ ছাড়া আল্লাহর দরবারে কোন ইবাদতই কবুল হয় না।

রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত রিযিক পূর্ণ মাত্রায় লাভ না করা পর্যন্ত কোন লোকই মারা যাবে না। সাবধান! আল্লাহকে ভয় কর এবং বৈধ পন্থায় আয় উপার্জনের চেষ্টা কর। রিযিকপ্রাপ্তিতে বিলম্ব যেন তোমাদেরকে অবৈধ পন্থা অবলম্বনে প্ররোচিত করে। কেননা আল্লাহর কাছে যা কিছু রয়েছে তা কেবল আনুগত্যের মাধ্যমে লাভ করা যায়। (ইবনে মাজাহ)

“হে মানব মন্ডলী! পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু সামগ্রী ভক্ষণ কর। আর শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (সূরা বাকারা : ১৬৮)

“হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে সকল পবিত্র বস্তু জীবিকারূপে দান করেছি, তা হতে ভক্ষণ কর এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা একান্তভাবে তারই ইবাদত কর।” (সূরা বাকারা : ১৭২)

“হে নবী! তাদের বল, আমার আল্লাহ যেসব জিনিস হারাম করেছেন তাতো এই নির্লজ্জতার কাজ প্রকাশ্য বা গোপনীয় এবং গুনাহের কাজ ও সত্যের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি।” (সূরা আ'রাফ : ৩৩)

“আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হল।” (সূরা মায়িদা : ৫)

রসূল (ﷺ) বলেছেন, মানবজাতির কাছে এমন একটি যমানা আসবে, যখন মানুষ কামাই রোজগারের ব্যাপারে হালাল-হারামের কোন পরওয়া করবে না। (সহীহ বুখারী)

রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা ফরযের পরে ফরয। (বায়হাকী)

রসূল (ﷺ) বলেছেন, শরীরের যে অংশ হারাম খাদ্যে প্রতিপালিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর হারাম খাদ্যে বর্ধিত প্রতিটি মাংসপিন্ড জাহান্নামের-ই যোগ্য। (আহমদ, দারেমী, বায়হাকী)

রসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ স্বয়ং পবিত্র এবং কেবলমাত্র পবিত্র বস্তুই তিনি গ্রহণ করে থাকেন। আর আল্লাহ মুমিনদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, যা তিনি দিয়েছেন পয়গাম্বরদেরকে।

আল্লাহ বলেছেন, “হে রসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে খাদ্য গ্রহণ কর এবং নেক আমল কর।” (অনুরূপভাবে) তিনি মু'মিনদেরকে বলেছেন, “হে ঈমানদারেরা! আমার দেয়া পবিত্র খাদ্য হতে আহার গ্রহণ কর।” অতঃপর মুহাম্মাদ , এমন এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ তুললেন, যিনি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ধূলি-মলিন অবস্থায় (কোন পবিত্র স্থানে হাযির হয়ে) দু’হাত আকাশের দিকে তুলে (দু’আ করে আর) বলে, হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও লেবাস সব কিছু হারামের, এমনকি সে এ পর্যন্ত হারাম খাদ্য দিয়েই জীবনধারণ করেছে। সুতরাং তার দু'আ কি করে কবুল হবে! (সহীহ মুসলিম)