১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৩
ইসলামের দৃষ্টিতে একজন নারী ও পুরুষের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত?
ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কেই যেমন সৃষ্টিকুলের মধ্যে বিশেষ সম্মানিত মর্যাদায় ভূষিত করেছে তেমনি নারী ও পুরুষের মধ্যে বিশেষ কতগুলো গুণের উপস্থিতিও ইসলামের দৃষ্টিতে কাম্য। এ গুণগুলোই তাদের পূর্ণ আদর্শবাদী বানিয়ে দেয় এবং এ আদর্শবাদ চিরউজ্জ্বল ও বাস্তবায়িত রাখতে পারলেই ইসলামের দেয়া সে মর্যাদা নারী ও পুরুষ পূর্ণমাত্রায় রক্ষা করতে পারে। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেছেন :
“আল্লাহর অনুগত পুরুষ ও স্ত্রীলোক, ঈমানদার পুরুষ ও স্ত্রীলোক, আল্লাহর দিকে মনোযোগদানকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, সত্য ন্যায়বাদী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, সত্যের পথে দৃঢ়তা প্রদর্শনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, আল্লাহর নিকট বিনীত নম্র পুরুষ ও স্ত্রীলোক, দানশীল পুরুষ ও স্ত্রীলোক, সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক - আল্লাহ তা'আলা এদের জন্যে স্বীয় ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন। কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার স্ত্রীলোকের জন্যে - আল্লাহ ও তাঁর রসূল যখন কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ভাবে ফয়সালা করে দেন, তখন সেই ব্যাপারে তার বিপরীত কিছুর ইখতিয়ার ও স্বাধীন ইচ্ছা প্রয়োগ করার অধিকার কোন মুমিনের নেই। আর যে লোক আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করে, সে সুস্পষ্ট গুমরাহীর মধ্যে লিপ্ত হয়।” (সূরা আহযাব : ৩৫-৩৬)
এই আয়াত থেকে যেসব গুণাবলীর বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে সেসব গুণাবলী নর নারীর মধ্যে বর্তমান থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হতে পারে – তা এখানে খানিকটা ব্যাখ্যাসহ সংখ্যানুক্রমে উল্লেখ করা যাচ্ছে, যেন আমরা সকলে সহজেই সে গুণাবলী সম্পর্কে সচেতন হতে পারি। আসুন এবার আমরা আমাদের নিজেদের চরিত্রের সাথে উপরের আয়াতের সাথে মিলতে চেষ্টা করি।
১) মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম স্ত্রীলোক। মুসলিম' শব্দের আভিধানিক অর্থ আত্মসমর্পণকারী, অনুগত, বাধ্য। আর কুরআনী পরিভাষায় এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণকারী, আল্লাহর অনুগত ও বাধ্য। ব্যবহারিকভাবে আল্লাহর আইন পালনকারী, অর্থাৎ আল্লাহ যা করতে বলেছেন তা করবো আরা যা করতে নিষেধ করেছেন তা করবো না।
২) মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন স্ত্রীলোক। মু'মিন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ঈমানদার। আর কুরআনী পরিভাষায় কুরআনের উপস্থাপিত দৃশ্য ও অদৃশ্য বিষয়সমূহকে সত্য বলে নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করে নেয়াই হচ্ছে ঈমান। এই অনুযায়ী মু'মিন হচ্ছে সেসব পুরুষ ও স্ত্রী, যারা কুরআনের উপস্থাপিত দৃশ্য ও অদৃশ্য বিষয়সমূহের প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাসী। মুসলিম-এর পরে মুমিন বলার তাৎপর্য এই যে, দুনিয়ার মানুষকে কেবল আল্লাহর বাহ্যিক আইন পালনকারী হলেই চলবে না, তাকে হতে হবে তাঁর প্রতি মন ও অন্তর দিয়ে ঐকান্তিক বিশ্বাসী।
৩) আল্লাহর দিকে মনোযোগকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যাদের মন ও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর বিধান পালনে সতত মশগুল।
৪) সত্য ও ন্যায়বাদী পুরুষ ও স্ত্রীলোক। এর অর্থ সেসব লোক, যারা সর্বপ্রকার মিথ্যাকে পরিহার করে আন্তরিক নিষ্ঠা সহকারে আল্লাহর হুকুম পালন করে চলে। ফলে তাদের আমলে কোনো প্রকার রিয়াকারী বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য থাকে না। সত্যের পথে দৃঢ়তা প্রদর্শনকারী পুরু ও স্ত্রীলোক। মূল শব্দ সবর অর্থাৎ ধৈর্যধারণ করা। এখানে সেসব পুরুষ-স্ত্রীলোককে বোঝানো হয়েছে, যারা আল্লাহর দ্বীন পালন ও তাঁর বন্দেগী অবলম্বন করতে গিয়ে সকল প্রকার দুঃখ-কষ্ট অকাতরে সহ্য করে, তার উপর দৃঢ় হয়ে অটল থাকে। শত বাধা-প্রতিকূলতার সঙ্গে মুকাবিলা করেও দ্বীনের উপর মজবুত থাকে এবং কোনক্রমেই আদর্শ বিচ্যুত হয় না।
৬) আল্লাহর নিকট বিনীত নম্র পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা অন্তর, মন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সব কিছু দিয়ে আল্লাহর বিনীত বন্দেগী করে। মূল শব্দটি হচ্ছে’ খুন’, অর্থ প্রশান্তি, স্থিতি, প্রীতি, শ্রদ্ধা-ভক্তি, বিনয়, ভয় মিশ্রিত ভালোবাসা এবং আল্লাহর প্রতি আগ্রহ-উৎসাহ।
৭) দানশীল পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা গরীব-দুঃখী ও অভাবগ্রস্তদের প্রতি অন্তরে দয়া অনুভব করে উদ্বৃত্ত মাল ও অর্থ কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অভাবগ্রস্ত লোকদের দেয়।
৮) সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী সিয়াম পালন করে, যে সিয়ামের ফল হচ্ছে তাকওয়া পরহেযগারী লাভ এবং যার মাধ্যমে ক্ষুৎপিপাসার জ্বালা ও যন্ত্রণা অনুভব করা যায় প্রত্যক্ষভাবে ও তার জন্যে ধৈর্যধারণের শক্তি অর্জন করতে পারেন।
৯) লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা নিজেদের লজ্জাস্থান অন্য লোকদের সামনে প্রকাশ করে না। তাতে লজ্জাবোধ করে। এবং নিজেদের লিঙ্গস্থানকে হারামভাবে ও হারাম পথে ব্যবহার করে না। ঢেকে রাখার যোগ্য- দেহের কোনো অঙ্গকে ভিন-পুরুষ বা স্ত্রীর সামনে উন্মুক্ত করে না।
১০) আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা আল্লাহকে কস্মিনকালেও এবং মুহূর্তের তরেও ভুলে যায় না, সে তার নিত্যদিনের কাজের মাধ্যমে আল্লাহকে সর্বদা স্মরণ রাখে।
“আল্লাহর অনুগত পুরুষ ও স্ত্রীলোক, ঈমানদার পুরুষ ও স্ত্রীলোক, আল্লাহর দিকে মনোযোগদানকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, সত্য ন্যায়বাদী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, সত্যের পথে দৃঢ়তা প্রদর্শনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, আল্লাহর নিকট বিনীত নম্র পুরুষ ও স্ত্রীলোক, দানশীল পুরুষ ও স্ত্রীলোক, সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক - আল্লাহ তা'আলা এদের জন্যে স্বীয় ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন। কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার স্ত্রীলোকের জন্যে - আল্লাহ ও তাঁর রসূল যখন কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ভাবে ফয়সালা করে দেন, তখন সেই ব্যাপারে তার বিপরীত কিছুর ইখতিয়ার ও স্বাধীন ইচ্ছা প্রয়োগ করার অধিকার কোন মুমিনের নেই। আর যে লোক আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করে, সে সুস্পষ্ট গুমরাহীর মধ্যে লিপ্ত হয়।” (সূরা আহযাব : ৩৫-৩৬)
এই আয়াত থেকে যেসব গুণাবলীর বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে সেসব গুণাবলী নর নারীর মধ্যে বর্তমান থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হতে পারে – তা এখানে খানিকটা ব্যাখ্যাসহ সংখ্যানুক্রমে উল্লেখ করা যাচ্ছে, যেন আমরা সকলে সহজেই সে গুণাবলী সম্পর্কে সচেতন হতে পারি। আসুন এবার আমরা আমাদের নিজেদের চরিত্রের সাথে উপরের আয়াতের সাথে মিলতে চেষ্টা করি।
১) মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম স্ত্রীলোক। মুসলিম' শব্দের আভিধানিক অর্থ আত্মসমর্পণকারী, অনুগত, বাধ্য। আর কুরআনী পরিভাষায় এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণকারী, আল্লাহর অনুগত ও বাধ্য। ব্যবহারিকভাবে আল্লাহর আইন পালনকারী, অর্থাৎ আল্লাহ যা করতে বলেছেন তা করবো আরা যা করতে নিষেধ করেছেন তা করবো না।
২) মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন স্ত্রীলোক। মু'মিন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ঈমানদার। আর কুরআনী পরিভাষায় কুরআনের উপস্থাপিত দৃশ্য ও অদৃশ্য বিষয়সমূহকে সত্য বলে নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করে নেয়াই হচ্ছে ঈমান। এই অনুযায়ী মু'মিন হচ্ছে সেসব পুরুষ ও স্ত্রী, যারা কুরআনের উপস্থাপিত দৃশ্য ও অদৃশ্য বিষয়সমূহের প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাসী। মুসলিম-এর পরে মুমিন বলার তাৎপর্য এই যে, দুনিয়ার মানুষকে কেবল আল্লাহর বাহ্যিক আইন পালনকারী হলেই চলবে না, তাকে হতে হবে তাঁর প্রতি মন ও অন্তর দিয়ে ঐকান্তিক বিশ্বাসী।
৩) আল্লাহর দিকে মনোযোগকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যাদের মন ও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর বিধান পালনে সতত মশগুল।
৪) সত্য ও ন্যায়বাদী পুরুষ ও স্ত্রীলোক। এর অর্থ সেসব লোক, যারা সর্বপ্রকার মিথ্যাকে পরিহার করে আন্তরিক নিষ্ঠা সহকারে আল্লাহর হুকুম পালন করে চলে। ফলে তাদের আমলে কোনো প্রকার রিয়াকারী বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য থাকে না। সত্যের পথে দৃঢ়তা প্রদর্শনকারী পুরু ও স্ত্রীলোক। মূল শব্দ সবর অর্থাৎ ধৈর্যধারণ করা। এখানে সেসব পুরুষ-স্ত্রীলোককে বোঝানো হয়েছে, যারা আল্লাহর দ্বীন পালন ও তাঁর বন্দেগী অবলম্বন করতে গিয়ে সকল প্রকার দুঃখ-কষ্ট অকাতরে সহ্য করে, তার উপর দৃঢ় হয়ে অটল থাকে। শত বাধা-প্রতিকূলতার সঙ্গে মুকাবিলা করেও দ্বীনের উপর মজবুত থাকে এবং কোনক্রমেই আদর্শ বিচ্যুত হয় না।
৬) আল্লাহর নিকট বিনীত নম্র পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা অন্তর, মন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সব কিছু দিয়ে আল্লাহর বিনীত বন্দেগী করে। মূল শব্দটি হচ্ছে’ খুন’, অর্থ প্রশান্তি, স্থিতি, প্রীতি, শ্রদ্ধা-ভক্তি, বিনয়, ভয় মিশ্রিত ভালোবাসা এবং আল্লাহর প্রতি আগ্রহ-উৎসাহ।
৭) দানশীল পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা গরীব-দুঃখী ও অভাবগ্রস্তদের প্রতি অন্তরে দয়া অনুভব করে উদ্বৃত্ত মাল ও অর্থ কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অভাবগ্রস্ত লোকদের দেয়।
৮) সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী সিয়াম পালন করে, যে সিয়ামের ফল হচ্ছে তাকওয়া পরহেযগারী লাভ এবং যার মাধ্যমে ক্ষুৎপিপাসার জ্বালা ও যন্ত্রণা অনুভব করা যায় প্রত্যক্ষভাবে ও তার জন্যে ধৈর্যধারণের শক্তি অর্জন করতে পারেন।
৯) লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা নিজেদের লজ্জাস্থান অন্য লোকদের সামনে প্রকাশ করে না। তাতে লজ্জাবোধ করে। এবং নিজেদের লিঙ্গস্থানকে হারামভাবে ও হারাম পথে ব্যবহার করে না। ঢেকে রাখার যোগ্য- দেহের কোনো অঙ্গকে ভিন-পুরুষ বা স্ত্রীর সামনে উন্মুক্ত করে না।
১০) আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা আল্লাহকে কস্মিনকালেও এবং মুহূর্তের তরেও ভুলে যায় না, সে তার নিত্যদিনের কাজের মাধ্যমে আল্লাহকে সর্বদা স্মরণ রাখে।