hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯০

“আমি অনেক জানি” এই ভাব না দেখাই

কোন বিষয়ে আমি সত্যিকার অর্থে কতটুকু জানি বা না জানি তা আপাততঃ এক পাশে সরিয়ে রাখি। ভাবখানা এমন রাখি যে “আমি তেমন কিছুই জানি না”। এই ভাব “আমি অনেক কিছু জানি” এর চাইতে শতগুণে উত্তম। প্রথমতঃ আমি যে বিষয়ের উপর কাজ বা গবেষণা করছি সে বিষয়ে আমাকে আরো অনেক জানতে হবে। কোন ব্যক্তি যদি এটা ধরে নেয় যে সে অনেক কিছুই জানে, তাহলে তার আরো জানার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া শুরু হয়। আবার কোন ব্যক্তি যদি বুঝতে পারে যে সে চালাক, তাহলে তার ক্ষতি সে মুহুর্ত হতে শুরু হয়ে যায়। অতএব আমার পলিসিই হবে সবার নিকট কিছু না কিছু শেখার আছে। আমাকে আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে সে জ্ঞানার্জনের জন্য। এ জন্যে যদি কারো নিকট ছোট হতে হয় তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ আমার মূল টার্গেট জ্ঞানার্জন। কোন অবস্থাতেই কাউকে এই ভাব দেখানো যাবে না যে আমি তার চাইতে বেশী জানি। এতে করে কোন জ্ঞানী ব্যক্তিই আমার সাথে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না।

আমি যদি সত্যিকার জ্ঞানীই হয়ে থাকি, তাহলে আমাকে সেটার জন্য ভাব দেখাতে হবে না। বরং আচার-আচরণে, কথা-বার্তায় শ্রোতারা এটা সহজেই বুঝে নেবেন। আমার কোন ভুল যদি কেউ ধরেই বসে তাহলে চটে যাওয়া যাবে না। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আমার মতামত শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে যদি আমি শতভাগ নিশ্চিত হই তাহলে তো আমার চটে যাবার কোন কারণ নেই। আর কোন কারণে যদি আমার মতামত ভুল হয় তাহলে আমার হারানোরও কিছু নেই। বরং নির্ভুল হবার সুযোগ পেলাম। এতে প্রতিপক্ষ আমার প্রতি বিরূপ ভাব পোষণ করবে না। আর কেউ যখন আমাকে কোন কিছু বুঝিয়ে বলছেন তখন ঘন ঘন বুঝছি বুঝছি যেন না বলি। আমি যদি সত্যিকার অর্থে বুঝে থাকি তাহলে বিষয়টা ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ হলে বলা উচিত’বুঝেছি'।

কেউ যদি আমার কোন কাজের ব্যাপারে, অভ্যাসের ব্যাপারে বা আচরণের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক ভুল ধরিয়ে দেয়, তাহলে তাকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। যে ব্যক্তি আমাকে দৃষ্টি আকর্ষণ করল সে অনেক চিন্তাভাবনা করে এবং অনেক চেষ্টার ফলেই আমাকে আমার কাজের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করার সাহস করেছে। তাকে ধমক দেয়া যাবে না। তাকে নিরুৎসাহিত করা যাবে না। সেতো আমার প্রকান্ড একটা উপকার করার চেষ্টা করেছে। তার সাহসের ফলেই আমি একটি দোষ হতে মুক্ত হবার সুযোগ পেলাম। অন্যরাতো কেবল আমার গুণগান করে। আমার চাটুকারিতা করে, আমার যোগ্যতা ও ক্ষমতার ব্যাপারে বাড়িয়ে বলে, আমাকে আকাশের উপর তুলে আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করে। যে লোকটি আমার ভুল ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনের সুযোগ করে দিলেন সেই সত্যিকারের হিতাকাংক্ষী। তাকে সম্মান করা উচিত, ধন্যবাদ দেয়া উচিত ও তার জন্য জিকির">দু'আ করা উচিত।