১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
ভারসাম্যের অভাব
উদাহরণ ১ :
বিশেষজ্ঞরা কোন সমস্যার সমাধান কিভাবে করেন? তাঁরা সাধারণতঃ সমস্যাটাকে আলাদা করে কোন ল্যাবরেটরিতে নিয়ে তার উপর। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমাধান বের করেন। যেমন একজন রোগীর হার্টের সমস্যা। ডাক্তার রোগীর হার্টকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাই পাওয়ারের ঔষধ দিয়ে দিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল যে ঐ রোগীর শরীরে আরো অন্যান্য সমস্যাও রয়েছে। হার্টের চিকিৎসার সময় ডাক্তার রোগীর অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কথা চিন্তাও করেননি। যার কারণে হার্টের অপারেশন করার পর তার শরীরের অন্যান্য সমস্যার সাথে কনফ্লিক্ট করে আরো বড় ধরনের সমস্যার ফলে রোগীটি শেষে মারা গিয়েছে। আবার দেখা গেছে জ্বর সারাতে অতিরিক্ত ডোজের এন্টিবায়োটিক সেবনে কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে ডাক্তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করেননি যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং রোগী মারা গেছে। এক্ষেত্রে ডাক্তার রোগীর আরো যে শারীরিক সমস্যা আছে। তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেননি, শুধু একটিমাত্র সম্যসার কথা ভেবে চিকিৎসা দিয়েছেন যার কারণে শরীরে side effect হয়ে অর্থাৎ ভারসাম্যহীনতা হয়ে রোগী মারা গেছে।
উদাহরণ ২ :
আমাদের দেশে বেশীরভাগ বাবা-মায়েরা সন্তানদের নিয়ে one way চিন্তা করে থাকেন। তারা সন্তানের লেখাপড়ায় এতো বেশী মনোযোগ দেন যে সকালে এক টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়া, বিকালে আরেক টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়া, এই কোচিং, ঐ কোচিং, ভাল স্কুল, ভাল কলেজ ইত্যাদি। যার কারণে একদিকে অত্যধিক মনোযোগ দিতে গিয়ে সন্তানের অন্যদিক অবহেলিত হয়ে যায়। তারা ভুলে যান যে তার সন্তান একজন মানুষ। তার শরীরে আত্মা বলতে একটা জিনিস আছে এবং সেই আত্মারও এক প্রকারের খাদ্যের প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রেও বাবা-মা সন্তানের দেহ ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না যার কারণে পরবর্তীতে সন্তানের ব্যক্তিগত জীবনে ও পারিবারিক জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
উদাহরণ ৩ :
উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায় যে তারা সকল সমস্যার মূলে অর্থনীতিকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তারা মনে করে অর্থই সকল সমস্যার সমাধান। তারা মানুষকে একরকম অর্থ কামানোর মেশিনে পরিণত করে ফেলে। মানুষও ঐ একই বিশ্বাসে দিনরাত অর্থের পিছনে দৌড়াতে থাকে। সকলেই একই সাইকেলে ঘুরতে থাকে; অর্থ কামানো আর মাস শেষে বিল পরিশোধ। সে যে একজন মানুষ, তার আত্মার খোরাক চাই তা সে ভুলে যায়। এভাবে। তারা আস্তে আস্তে জীবনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে থাকে।
বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র : এবার আমরা বাংলাদেশের একটা চিত্র দেখি। এই ভারসাম্যহীনতা বা balancing-এর অভাবে ২০১০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে ৫০,০০০ ডিভোর্স এপ্লিকেশন জমা পড়ে আছে এবং এর ৭০% হচ্ছে স্ত্রীর পক্ষ থেকে। এদের বেশীর ভাগই হাই সোসাইটির। মধ্যবিত্ত ও গরিবদের কথা তো বাদই দিলাম।
সবচেয়ে বড় যুলুম ও আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুলুম যেটা করছি তা হচ্ছে আমরা ভুলে গেছি যে আমাদের দুটি জিনিস ?
(১) দেহ বা Body
(২) আত্মা বা Soul
এই দু'টি নিয়েই আমাদের গোটা অস্তিত্ব। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে দেহের প্রতি এতো বেশী যত্ন নেয়া হয়েছে যে আত্মার দিকে নজরই দেয়া হয়নি। যার কারণে দেহের অত্যধিক যত্ন নিয়ে আধ্যাত্মিকতার চরম অবজ্ঞা করে মন ও আত্মাকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা কোন সমস্যার সমাধান কিভাবে করেন? তাঁরা সাধারণতঃ সমস্যাটাকে আলাদা করে কোন ল্যাবরেটরিতে নিয়ে তার উপর। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমাধান বের করেন। যেমন একজন রোগীর হার্টের সমস্যা। ডাক্তার রোগীর হার্টকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাই পাওয়ারের ঔষধ দিয়ে দিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল যে ঐ রোগীর শরীরে আরো অন্যান্য সমস্যাও রয়েছে। হার্টের চিকিৎসার সময় ডাক্তার রোগীর অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কথা চিন্তাও করেননি। যার কারণে হার্টের অপারেশন করার পর তার শরীরের অন্যান্য সমস্যার সাথে কনফ্লিক্ট করে আরো বড় ধরনের সমস্যার ফলে রোগীটি শেষে মারা গিয়েছে। আবার দেখা গেছে জ্বর সারাতে অতিরিক্ত ডোজের এন্টিবায়োটিক সেবনে কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে ডাক্তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করেননি যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং রোগী মারা গেছে। এক্ষেত্রে ডাক্তার রোগীর আরো যে শারীরিক সমস্যা আছে। তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেননি, শুধু একটিমাত্র সম্যসার কথা ভেবে চিকিৎসা দিয়েছেন যার কারণে শরীরে side effect হয়ে অর্থাৎ ভারসাম্যহীনতা হয়ে রোগী মারা গেছে।
উদাহরণ ২ :
আমাদের দেশে বেশীরভাগ বাবা-মায়েরা সন্তানদের নিয়ে one way চিন্তা করে থাকেন। তারা সন্তানের লেখাপড়ায় এতো বেশী মনোযোগ দেন যে সকালে এক টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়া, বিকালে আরেক টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়া, এই কোচিং, ঐ কোচিং, ভাল স্কুল, ভাল কলেজ ইত্যাদি। যার কারণে একদিকে অত্যধিক মনোযোগ দিতে গিয়ে সন্তানের অন্যদিক অবহেলিত হয়ে যায়। তারা ভুলে যান যে তার সন্তান একজন মানুষ। তার শরীরে আত্মা বলতে একটা জিনিস আছে এবং সেই আত্মারও এক প্রকারের খাদ্যের প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রেও বাবা-মা সন্তানের দেহ ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না যার কারণে পরবর্তীতে সন্তানের ব্যক্তিগত জীবনে ও পারিবারিক জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
উদাহরণ ৩ :
উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায় যে তারা সকল সমস্যার মূলে অর্থনীতিকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তারা মনে করে অর্থই সকল সমস্যার সমাধান। তারা মানুষকে একরকম অর্থ কামানোর মেশিনে পরিণত করে ফেলে। মানুষও ঐ একই বিশ্বাসে দিনরাত অর্থের পিছনে দৌড়াতে থাকে। সকলেই একই সাইকেলে ঘুরতে থাকে; অর্থ কামানো আর মাস শেষে বিল পরিশোধ। সে যে একজন মানুষ, তার আত্মার খোরাক চাই তা সে ভুলে যায়। এভাবে। তারা আস্তে আস্তে জীবনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে থাকে।
বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র : এবার আমরা বাংলাদেশের একটা চিত্র দেখি। এই ভারসাম্যহীনতা বা balancing-এর অভাবে ২০১০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে ৫০,০০০ ডিভোর্স এপ্লিকেশন জমা পড়ে আছে এবং এর ৭০% হচ্ছে স্ত্রীর পক্ষ থেকে। এদের বেশীর ভাগই হাই সোসাইটির। মধ্যবিত্ত ও গরিবদের কথা তো বাদই দিলাম।
সবচেয়ে বড় যুলুম ও আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুলুম যেটা করছি তা হচ্ছে আমরা ভুলে গেছি যে আমাদের দুটি জিনিস ?
(১) দেহ বা Body
(২) আত্মা বা Soul
এই দু'টি নিয়েই আমাদের গোটা অস্তিত্ব। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে দেহের প্রতি এতো বেশী যত্ন নেয়া হয়েছে যে আত্মার দিকে নজরই দেয়া হয়নি। যার কারণে দেহের অত্যধিক যত্ন নিয়ে আধ্যাত্মিকতার চরম অবজ্ঞা করে মন ও আত্মাকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে।