hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২

স্ত্রীর সাথে যা করা যাবে না

জীবন চলার পথে যদি কেবল সুখই আমাদের সাথী হয় তাহলে আমাদের জীবন ছন্দহীন, দীর্ঘ ও গতিহারা শুষ্ক নদীর মত রসকষহীন জীবন সেটা, কোন সুস্থ মানুষই সেটি চায় না। মানুষের এই ঘটনাবহুল জীবনে চড়াই উৎরাই আছেই। চলার পথে হোঁচট খাওয়া এবং উঠে দাঁড়ানো ইত্যাদিই আমাদের জীবনকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

স্বামী-স্ত্রী দু'জনের রাজ্যে যখনই কোন দুর্যোগ দেখা দেয় তখন স্বামীকেই কান্ডারীর ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতেই হবে। স্বামীকে প্রথমে জেনে নিতে হবে তার স্ত্রীর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি কি কি। তিনি কি কি গুণের অধিকারিণী? তার সীমাবদ্ধতাগুলি কি কি? তার সহ্য ক্ষমতা কতটুকু? তিনি কী বেশী পছন্দ করেন? কী অপছন্দ করেন? ইত্যাদি। স্বামীকে এ বিষয়গুলি ভালভাবে জেনে নিতে হবে ও দুর্যোগের সময় একজন চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্ত্রীর অধিকারের মধ্যে এটাও একটি যে স্বামী তাকে কখনো শারীরিক আঘাত করবেন না। গালাগাল দেবেন না। তার দ্বারা যদি কিছু ভুল হয়ে যায় তাহলে ষাঁড়ের মত চিৎকারে কোন কল্যাণ নেই। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা উচিত নয়, সুযোগ খুঁজতে হবে। স্থান, সময় ও মেজাজ নাগালে পেলেই সুন্দর কিন্তু গভীর মেজাজের সাথে বলে দিতে হবে তিনি কি ভুল করেছেন। তিনি যদি নিজেকে শোধরে চলেন তাহলে সবার জন্য বিষয়টা ভাল। আর যদি ভুলটাই চালিয়ে যেতে চান তাহলে এটা কারো জন্যই মঙ্গলকর নয়। তবে আশা করতে হবে যে তিনি তার ভুল শোধরে নেবেন।

এভাবে সমস্যাটার যুক্তিযুক্ত সমাধান হয়ে যাবে, কোন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকবে না, ইনশাআল্লাহ। কখনো তাকে চ্যালেঞ্জ দিতে যাওয়া উচিত হবে না অথবা তার কোন চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করা যাবে না। স্ত্রীকে নিয়মিতভাবে বলা উচিত যে তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি। এবং সেই ভালোবাসার প্রকাশও থাকতে হবে সময়ে-অসময়ে স্ত্রীকে নানা গিফট (উপহার) দান করে। স্ত্রীদেরও উচিত স্বামীকে এমনি উপহার দেয়া। এ কথার মধ্যে এমন যাদু আছে যা অন্য কোন টেকনিক অবলম্বনে সফল হওয়া যায় না।