hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

বর্তমানের বিয়ের অনুষ্ঠানাদি ও কার্যক্রম অনৈসলামিক

বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিয়ের আগে ও পরে নানা ধরণের শরীয়াত বিরোধী কার্যক্রম আজ সমাজে চালু হয়ে আছে। সমাজে পর্দা প্রথা যথাযথভাবে চালু না থাকার কারণে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও মিডিয়ার উন্নতির কারণে ফটোগ্রাফী ও ভিডিও ব্যবস্থার প্রচলনে আরো নতুন নতুন বহু প্রথা আজ প্রতিনিয়ত চালু হচেছ। বিয়ের পূর্বে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের নামে পাত্র ও পাত্রীর বাড়িতে যে সমস্ত কর্মকান্ড ঘটে থাকে তা রীতিমত শরীয়াতের বিধি-বিধানকে বলি দেয়ার শামিল। সেই সাথে বিয়ের এক/দুইদিন পূর্বে পাত্রীর বাড়িতে পাত্রীর গায়ে হলুদের নামে হলুদ সরঞ্জামাদি ও শাড়ি কাপড় ইত্যাদি নিয়ে যাওয়ার মহড়া অনুষ্ঠানে যেভাবে যুবক-যুবতী ও বাড়ির বউ তথা পাত্রের ভাবীদের সম্মিলন ঘটানো হয়, বিভিন্ন প্রেম-ভালোবাসার গান গাওয়া হয়, তা রীতিমত অনৈসলামিক।

এখানেই শেষ নয়। এমন মাখামাখি দৌড়াদৌড়ি ছুটাছুটি ভিডিওতে ধারণ করে বিয়ের পরও বহুদিন পর্যন্ত সবাই এক সাথে বসে এসব প্রোগ্রাম টেলিভিশনের পর্দায় দেখে আর আনন্দ উপভোগ করে। এবার গায়ে হলুদের এ পর্ব শেষ হলে আসে বিয়ের দিন। বিয়ের দিন পাত্রীর বাড়িতে প্রবেশ পথে গেট সাজানো এবং গেটে যুবক ও যুবতীদের ফ্রী মিক্সিংয়ে বরের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়। তারপর তাদের দাবি পূরণ তথা টাকার বিনিময়ে বরকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এখানেও ঠিক তাই এক শ্রেণীর ছেলে-মেয়েরা একথা ওকথাসহ ছবি উঠানোর ধুম আর ভিডিও করার হিড়িকে ইসলামী শরীয়াতের বিধি-বিধান যেন বাধাগ্রস্ত।

বাড়ির প্রধান বা মুরব্বীদের দাবি ছেলে-মেয়েরা একটু আনন্দ ফুর্তিতে করবেই। কিন্তু এ আনন্দ ফুর্তির নামে ছেলে-মেয়েরা যে পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ছে তাতে তাদের খেয়াল নেই- যা দুঃখজনক। এবার বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর বর দাঁড়িয়ে বিয়ের মজলিসে উপস্থিত সকলকে সালাম দেয়া এবং সবার সাথে মুসাফাহা করা এটা ইসলামী শরীয়াতে ভিত্তিহীন একটি প্রথা। যা কুসংস্কার হিসেবেই পরিত্যাজ্য।

এরপর নতুন বধূর মুখ দেখার উদ্দেশ্যে তার কক্ষে গমণ ও ভিডিওগ্রাফীর দায়িত্বে নিয়োজিত লোকদের অবাধ বিচরণ ইসলাম ও নৈতিকতা বিরোধী। এভাবে পর পুরুষসহ সবাই মিলে নতুন বন্ধুর মুখ দেখা শরীয়াতের স্পষ্ট লজ্ঞান। সেই সাথে বেপর্দা ও অবাধ মেলামেশার কারণে নারী পুরুষের বৈধ বিয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে আজ বিলীন হতে চলছে। যখন কোনো জিনিস সহজেই হাতের নাগালে পাওয়া যায় তখন সে জিনিসের প্রতি যে দুর্বার আকর্ষণ থাকার কথা তা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। সে কারণেই যুবক-যুবতী বিয়ের বন্ধনের চেয়ে মুক্ত জীবনে যৌন অনাচারে লিপ্ত হতে বেশী উদ্যোগী ও উৎসাহিত হয়ে পড়েছে। ফলে এতকিছু রীতি-নীতি ও কু-প্রথার আড়ালে স্বাভাবিক নিয়মে বিয়ে-শাদী হয়ে পড়ছে বাধাগ্রস্ত। আজকের সামাজিক ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কারণে বিয়ে মানে অনেক খরচ, অনেক ভারী বোঝ- যা সম্পূর্ণ ইসলামের বিপরীত।