১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫০
অবাধ মেলামেশা অশান্তির সূচনা
বাংলাদেশী পরিবারগুলো পৃথিবীর সকল প্রান্তেই পরস্পর সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে উষ সম্পর্কের ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করে আসছেন। এ রীতি এত বেশী সচল যে প্রায় সকল পরিবার প্রতিমাসে হয় কাউকে দাওয়াত দিয়ে মেহমানদারী করেন অথবা কারো বাসায় মেহমান হয়ে দাওয়াত খেতে যান। পরিবারগুলোর এ সংস্কৃতি বাংলাদেশ হতে সউদি আরব, লন্ডন হতে লস-এঞ্জেলস, প্যারিস থেকে সিংগাপুর সবখানে একই। এতে করে একে অপরের ঘনিষ্ট হয়, পরস্পর জানাশুনা হয়, হৃদ্যতা বাড়ে। তবে এধরণের একটি সুস্থ ও সুন্দর বিনোদন কখনো কখনো অনাকাংক্ষিত পরিবেশের সৃষ্টি করে। কোন অসতর্ক মুহুর্তে মানুষের দুর্বলতার সুযোগে চিরশত্রু শয়তান তার ভাগ বসিয়ে দেয়। মানুষকে বিভ্রান্ত করে চরম ক্ষতি করে ফেলে। প্রাথমিক আঘাতটা কাটিয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সকল ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাটাই সর্বোত্তম। সামাজিকতা, লৌকিকতা, মেহমানদারী, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ধর্ম পালন, রাজনীতি, স্থানীয় সংস্থাগুলির সাথে সম্পর্ক রক্ষা ইত্যাদি জীবনের সকল বিষয়ে মধ্যমপন্থা অবলম্বনই বুদ্ধিমানের কাজ। আমার বন্ধু আমার বাড়ীতে দাওয়াত খেতে আসার মধ্যে কোন অকল্যাণ নেই। তার বাড়ীতে প্রতি মাসে মেহমান হওয়ার মধ্যে কোন আপত্তিকর কিছু নেই। কিন্তু আমার স্ত্রী যদি আমার বন্ধুর সাথে অথবা আমি আমার বন্ধুর স্ত্রীর সাথে এমনভাবে মেলামেশা করি যাতে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে আমরা সীমালঙ্ঘন করে নিজেদের কঠিন পরীক্ষার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অতি প্রগ্রেসিভ মনের অধিকারীরা এসবে কিছু মনে করেন না কিন্তু ঘটনা যখন ঘটে যায় তখন আফসোস করে এর ইতি টানা যায় না বরং এর চাইতে বড় কিছু ঘটে যায়, যার ক্ষতিপূরণ কোন কিছু দিয়ে হয় না।
কোন কোন অবুঝ স্বামীরা তাদের অনুপস্থিতিতে বন্ধুদের নিজ ঘরে আসার কেবল অনুমতিই দেয় না বরং অবাধ অনুমতি দিয়ে দেন। ফলে স্বামীর বন্ধু যখন-তখন ঘরে আসার লাইসেন্স পেয়ে যান। স্বামীরা এতই অবুঝ আর অজ্ঞ যে তারা অফিস আদালতে কঠিন সমস্যার সমাধান করে বড় অঙ্কের বেতন পান কিন্তু এ সামান্য সামাজিক শিষ্টাচারটি বুঝেন না। কেউ কেউ এ অজুহাতে এ অনুমতি দিয়ে দেন যে সে তো আমার বাল্যকালের বন্ধু। অথবা সে তো আমার অনেক ছোট বা বড় বা আরো কোনো অগ্রহণযোগ্য যুক্তি। আমরা বলছিনা যে ইমারজেন্সী কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও একজন অপরজনের বাসায় যাওয়ার অনুমতি পাবে না। বিষয়টিকে অতি সহজ ও অবাধ করার মধ্যেই বিপদ লুকিয়ে থাকে। অতএব স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বামীর কোন বন্ধুকে নিজ বাসায় আসার পথ বন্ধ করে দিতে হবে। স্ত্রীর উচিত নিজ স্বামীকেও সেটি করতে না দেয়া। আমরা বলছি না যে এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটবেই। কিন্তু দুর্ঘটনা যখন ঘটে তখন সতর্ক হবার সময় থাকে না। কোন কিছু ঘটার আগেই আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
সকল ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাটাই সর্বোত্তম। সামাজিকতা, লৌকিকতা, মেহমানদারী, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ধর্ম পালন, রাজনীতি, স্থানীয় সংস্থাগুলির সাথে সম্পর্ক রক্ষা ইত্যাদি জীবনের সকল বিষয়ে মধ্যমপন্থা অবলম্বনই বুদ্ধিমানের কাজ। আমার বন্ধু আমার বাড়ীতে দাওয়াত খেতে আসার মধ্যে কোন অকল্যাণ নেই। তার বাড়ীতে প্রতি মাসে মেহমান হওয়ার মধ্যে কোন আপত্তিকর কিছু নেই। কিন্তু আমার স্ত্রী যদি আমার বন্ধুর সাথে অথবা আমি আমার বন্ধুর স্ত্রীর সাথে এমনভাবে মেলামেশা করি যাতে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে আমরা সীমালঙ্ঘন করে নিজেদের কঠিন পরীক্ষার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অতি প্রগ্রেসিভ মনের অধিকারীরা এসবে কিছু মনে করেন না কিন্তু ঘটনা যখন ঘটে যায় তখন আফসোস করে এর ইতি টানা যায় না বরং এর চাইতে বড় কিছু ঘটে যায়, যার ক্ষতিপূরণ কোন কিছু দিয়ে হয় না।
কোন কোন অবুঝ স্বামীরা তাদের অনুপস্থিতিতে বন্ধুদের নিজ ঘরে আসার কেবল অনুমতিই দেয় না বরং অবাধ অনুমতি দিয়ে দেন। ফলে স্বামীর বন্ধু যখন-তখন ঘরে আসার লাইসেন্স পেয়ে যান। স্বামীরা এতই অবুঝ আর অজ্ঞ যে তারা অফিস আদালতে কঠিন সমস্যার সমাধান করে বড় অঙ্কের বেতন পান কিন্তু এ সামান্য সামাজিক শিষ্টাচারটি বুঝেন না। কেউ কেউ এ অজুহাতে এ অনুমতি দিয়ে দেন যে সে তো আমার বাল্যকালের বন্ধু। অথবা সে তো আমার অনেক ছোট বা বড় বা আরো কোনো অগ্রহণযোগ্য যুক্তি। আমরা বলছিনা যে ইমারজেন্সী কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও একজন অপরজনের বাসায় যাওয়ার অনুমতি পাবে না। বিষয়টিকে অতি সহজ ও অবাধ করার মধ্যেই বিপদ লুকিয়ে থাকে। অতএব স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বামীর কোন বন্ধুকে নিজ বাসায় আসার পথ বন্ধ করে দিতে হবে। স্ত্রীর উচিত নিজ স্বামীকেও সেটি করতে না দেয়া। আমরা বলছি না যে এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটবেই। কিন্তু দুর্ঘটনা যখন ঘটে তখন সতর্ক হবার সময় থাকে না। কোন কিছু ঘটার আগেই আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।