১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯১
দৃষ্টি অনিয়ন্ত্রণের কুফল
স্বাভাবিক লজ্জা-শরমের অনিবার্য ফল হচ্ছে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ। চোখের দৃষ্টি এমন একটি হাতিয়ার, যার দ্বারা দুনিয়ায় যেমন ভালকাজও করা যায়, তেমনি নিজের মধ্যে জমানো যায় পাপের বিষবাষ্পও। দৃষ্টি হচ্ছে এমন একটি তীক্ষ্ণ-শানিত তীর যা নারী বা পুরুষের অন্তর ভেদ করতে পারে। প্রেম-ভালোবাসা তো এক অদশ্য জিনিস, যা কখনো চোখে ধরা পড়ে না, বরং চোখের দৃষ্টিতে ভর করে অপরের মর্মে গিয়ে পৌছায়। দৃষ্টি বিনিময় এক অলিখিত লিপিকার আদান প্রদান, যাতে লোকদের অগোচরেই অনেক প্রতিশ্রুতি, অনেক মর্মকথা পরস্পরের মনের পৃষ্ঠায় জ্বলন্ত অক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।
ইসলামের লক্ষ্য যেহেতু মানবজীবনের সার্বিক পবিত্র ও সর্বাঙ্গীন উন্নত চরিত্র, সেজন্যে দৃষ্টির এ ছিদ্রপথকেও সে বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা করেছে, দৃষ্টিকে সুনিয়ন্ত্রিত করার জন্যে দিয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
“মু'মিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত করে রাখে এবং লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করে, এ নীতি তাদের জন্যে অতিশয় পবিত্রতাময়। আর তারা যা কিছু করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ মাত্রায় অবহিত।” (সূরা নূর : ৩০)
কেবল পুরুষদেরকেই নয়, এর সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম মহিলাদের সম্পর্কেও বলা হয়েছে, “মু'মিন মহিলাদের বলে দাও তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করে।” (সূরা নূর : ৩১)
এ ভীতি যে কেবল পরকালের জন্যেই, এমন কথা নয়। এ দুনিয়াতেও দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ ও পবিত্রতা রক্ষা না করা হলে তার অত্যন্ত খারাপ পরিণতি দেখা দিতে পারে। আর তা হচ্ছে স্বামীর হৃদয় অন্য নারীর দিকে আকৃষ্ট হওয়া এবং স্ত্রীর মন সমর্পিত হওয়া অন্য কোনো পুরুষের কাছে। আর এরই পরিণতি হচ্ছে। পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে আশু বিপর্যয় ও ভাঙ্গন।
দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের জন্যে আলাদা আলাদাভাবে পুরুষ ও স্ত্রী উভয়কেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার কারণ এই যে, যৌন উত্তেজনার ব্যাপারে স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রী ও পুরুষের প্রায় একই অবস্থা। বরং স্ত্রীলোকের দৃষ্টি পুরুষদের মনে বিরাট আলোড়নের সৃষ্টি করে থাকে। কারো কারো চোখ বিনিময় হলে স্ত্রীলোক সর্বাঙ্গে কাতর এবং কাবু হয়ে পড়ে, যদিও তাদের মুখ ফোটে না।
কেননা দৃষ্টি প্রথমতঃ আকর্ষণ জাগায়, আকর্ষণ মানুষকে চিন্তা-বিভ্রমে নিমজ্জিত করে আর এ চিন্তাই মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করে লালসার উত্তেজনা। এ যৌন উত্তেজনা ইচ্ছাশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে আর ইচ্ছা ও প্রবৃত্তি শক্তিশালী হয়ে দৃঢ় সংকল্পে পরিণত হয়। এ দৃঢ় সংকল্প অধিকতর শক্তি অর্জন করে, বাস্তবে ঘটনা সংঘটিত করে। বাস্তবে যখন কোনো বাধাই থাকে না, তখন এ বাস্তব অবস্থার সম্মুখীন না হয়ে কারো উপায় থাকে না।
জরীর (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করলাম, হঠাৎ যদি কারও উপর নজর পড়ে যায় তাহলে কি করব? উত্তরে তিনি বললেন, দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও। (আবু দাউদ)
নবী কারীম (ﷺ) আলী (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে বললেন : হে আলী ! প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয়বার তাকিও না। প্রথম দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে কিন্তু দ্বিতীয়বার তাকালে ক্ষমা করা হবে না। (আবু দাউদ)
নবী কারীম (ﷺ) বলেন : যে ব্যক্তি কোন পরনারীর প্রতি কু-দৃষ্টি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে, কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে। (ফাতহুল কাদীর)
ইসলামের লক্ষ্য যেহেতু মানবজীবনের সার্বিক পবিত্র ও সর্বাঙ্গীন উন্নত চরিত্র, সেজন্যে দৃষ্টির এ ছিদ্রপথকেও সে বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা করেছে, দৃষ্টিকে সুনিয়ন্ত্রিত করার জন্যে দিয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
“মু'মিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত করে রাখে এবং লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করে, এ নীতি তাদের জন্যে অতিশয় পবিত্রতাময়। আর তারা যা কিছু করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ মাত্রায় অবহিত।” (সূরা নূর : ৩০)
কেবল পুরুষদেরকেই নয়, এর সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম মহিলাদের সম্পর্কেও বলা হয়েছে, “মু'মিন মহিলাদের বলে দাও তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করে।” (সূরা নূর : ৩১)
এ ভীতি যে কেবল পরকালের জন্যেই, এমন কথা নয়। এ দুনিয়াতেও দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ ও পবিত্রতা রক্ষা না করা হলে তার অত্যন্ত খারাপ পরিণতি দেখা দিতে পারে। আর তা হচ্ছে স্বামীর হৃদয় অন্য নারীর দিকে আকৃষ্ট হওয়া এবং স্ত্রীর মন সমর্পিত হওয়া অন্য কোনো পুরুষের কাছে। আর এরই পরিণতি হচ্ছে। পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে আশু বিপর্যয় ও ভাঙ্গন।
দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের জন্যে আলাদা আলাদাভাবে পুরুষ ও স্ত্রী উভয়কেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার কারণ এই যে, যৌন উত্তেজনার ব্যাপারে স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রী ও পুরুষের প্রায় একই অবস্থা। বরং স্ত্রীলোকের দৃষ্টি পুরুষদের মনে বিরাট আলোড়নের সৃষ্টি করে থাকে। কারো কারো চোখ বিনিময় হলে স্ত্রীলোক সর্বাঙ্গে কাতর এবং কাবু হয়ে পড়ে, যদিও তাদের মুখ ফোটে না।
কেননা দৃষ্টি প্রথমতঃ আকর্ষণ জাগায়, আকর্ষণ মানুষকে চিন্তা-বিভ্রমে নিমজ্জিত করে আর এ চিন্তাই মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করে লালসার উত্তেজনা। এ যৌন উত্তেজনা ইচ্ছাশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে আর ইচ্ছা ও প্রবৃত্তি শক্তিশালী হয়ে দৃঢ় সংকল্পে পরিণত হয়। এ দৃঢ় সংকল্প অধিকতর শক্তি অর্জন করে, বাস্তবে ঘটনা সংঘটিত করে। বাস্তবে যখন কোনো বাধাই থাকে না, তখন এ বাস্তব অবস্থার সম্মুখীন না হয়ে কারো উপায় থাকে না।
জরীর (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করলাম, হঠাৎ যদি কারও উপর নজর পড়ে যায় তাহলে কি করব? উত্তরে তিনি বললেন, দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও। (আবু দাউদ)
নবী কারীম (ﷺ) আলী (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে বললেন : হে আলী ! প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয়বার তাকিও না। প্রথম দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে কিন্তু দ্বিতীয়বার তাকালে ক্ষমা করা হবে না। (আবু দাউদ)
নবী কারীম (ﷺ) বলেন : যে ব্যক্তি কোন পরনারীর প্রতি কু-দৃষ্টি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে, কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে। (ফাতহুল কাদীর)