১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬৪
Appendix - 2 : কিছু বাস্তব চিত্র থেকে শিক্ষাগ্রহণ সুখী পরিবার এক সময় অসুখী পরিবারে পরিণত হওয়ার করুণ চিত্র
পরিচিতদের মধ্যে যখন কোন পরিবার নতুন ইমিগ্র্যান্ট হয়ে ক্যানাডা আসেন তখন আমরা সাধারণতঃ তাদেরকে আমাদের বাসায় গেষ্ট হিসেবে ডিনারের দাওয়াত দিয়ে থাকি। ডিনারের পরে আমরা Family Development-এর উপরে একটি Power Point Presentation-এর আয়োজন করি। এই পাশ্চাত্যে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, সন্তানদের গাইড করার পেছনে বাবা-মায়ের ভূমিকা, পাশ্চাত্যের নেগেটিভ দিক এবং পজিটিভ দিকগুলো নিয়ে Presentation-টি সাজানো। শেষে Self study-র জন্য কিছু বইপত্র এবং ডিভিডি দিয়ে থাকি। অর্থাৎ প্রবাস জীবনের শুরুতেই একটি সঠিক গাইড দিয়ে দেয়া হয় কিভাবে চললে কি হবে ইত্যাদি।
যাহোক, এ রকম একটি পরিবারের ঘটনা। তারা দেশ থেকে নতুন ইমিগ্র্যান্ট হয়ে এসেছেন। আমাদের থেকে প্রবাস জীবনের শুরুতেই যা যা গাইড পাওয়ার তা পেয়েছেন। ভাই-ভাবী দু’জনেই জীবনকে সুন্দর করে সাজানোর জন্যে খুবই সিনসিয়ার। কানাডায় সেটল হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন তা তারা লিষ্ট ধরে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছেন। ভাই কিছুদিনের মধ্যেই একটা চাকুরী পেয়েছেন, তারপর আরো উন্নতির জন্য চাকুরীতে প্রচুর সময় দিচ্ছেন, ওভার টাইম করছেন, ফলে সময়মত প্রমোশনও হয়েছে। প্রথম প্রথম মাসিক ইসলামিক প্রোগ্রামে আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করেছেন তারপর আস্তে আস্তে হারিয়ে গেছেন। স্ত্রীও চেষ্টা করছেন দিন দিন আরো উন্নতির জন্য, ইংলিশ কোর্স করছেন, তারপর চাকুরী নিয়েছেন। ছেলেমেয়েরা পাবলিক স্কুলে পড়ে, তারাও প্রচুর ব্যস্ত বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। কিছুদিনের মধ্যে তারা গাড়ি কিনেছেন তারপর আরো কিছুদিনের মধ্যে একটি বাড়ি কিনেছেন। নতুন নতুন বন্ধু-বান্ধব হয়েছে, বাসায় বাসায় পার্টি চলছে, সবাই দাওয়াত আর ওয়েষ্টার্ন লাইফ নিয়ে ব্যস্ত, ডলার আর্নিং আর পার্টি ইত্যাদি। এখন আর কোন কিছুর অভাব নেই। কানাডার সব কিছুই তারা মোটামুটি পেয়ে গেছেন।
যাহোক, চার বছর পরের ঘটনা। হঠাৎ ঐ ভাইয়ের সাথে একদিন দেখা। তিনি আমাদেরকে পেয়ে আবেগজরিত কণ্ঠে বললেন, জরুরী কথা আছে। কথা হচ্ছে। তার পরিবারটি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তার এতো দিনের সুখের সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। তার স্ত্রী এক দিকে, ছেলে আরেক দিকে আর সে নিজেই তো আরেক দিকে। যে যার মতো চলছে, কেউ কারো কথা শুনছে না, পুরো পরিবারটি কন্ট্রোলের বাইরে চলে গেছে। পরিবারে সুখ বলতে আর কিছু নেই।
ঘটনার বিশ্লেষণ :
আমাদের প্রকাশিত “দি মেসেজ” পত্রিকার কোন এক সংখ্যায় “উন্নত জীবনের সন্ধানে” নামে একটি আর্টিক্যাল ছিল যেখানে এই সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়েছিল। যাহোক, এখানে সমস্যার মূল কারণটা হচ্ছে ভারসাম্যহীনতা। অর্থাৎ পরিবারে কর্তা এবং কী দু’জনই জীবনকে নিয়ে চিন্তা করেছেন ওয়ান ওয়ে। অর্থাৎ শুধু ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট, চাকুরী, প্রোমোশন, ডলার, গাড়ি, বাড়ি, বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে স্ট্যাটাস, একপ্রকার ইনডাইরেক্ট প্রতিযোগিতা। ইসলামী পরিবেশ ছেড়ে দিয়ে নন-ইসলামী পরিবেশের সাথে জীবনযাপন করেছেন। তারা শুধু চিন্তা করেছেন বৈষয়িক কিন্তু নিজেদের আত্মার কথা ভুলে গিয়েছিলেন।
এখন এই সমস্যার সমাধান খুব সহজ নয়। কারণ সমস্যাটা খুব প্রকট আকার ধারণ করেছে। যদি সমস্যাটা শুরুর দিকে ধরা যেত তাহলে সমাধান অনেকটা সহজ হয়ে যেত। একজন মানুষের পরিবর্তন রাতারাতি হয় না, দিনের পর দিন আস্তে আস্তে এতো বড় আকার ধারণ করেছে। যাহোক, পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, হাল ছাড়া যাবে না, ধৈর্যধারণ করতে হবে। মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে সাহায্য চাইলে ইনশাআল্লাহ তিনি সাহায্য করবেন।
যাহোক, এ রকম একটি পরিবারের ঘটনা। তারা দেশ থেকে নতুন ইমিগ্র্যান্ট হয়ে এসেছেন। আমাদের থেকে প্রবাস জীবনের শুরুতেই যা যা গাইড পাওয়ার তা পেয়েছেন। ভাই-ভাবী দু’জনেই জীবনকে সুন্দর করে সাজানোর জন্যে খুবই সিনসিয়ার। কানাডায় সেটল হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন তা তারা লিষ্ট ধরে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছেন। ভাই কিছুদিনের মধ্যেই একটা চাকুরী পেয়েছেন, তারপর আরো উন্নতির জন্য চাকুরীতে প্রচুর সময় দিচ্ছেন, ওভার টাইম করছেন, ফলে সময়মত প্রমোশনও হয়েছে। প্রথম প্রথম মাসিক ইসলামিক প্রোগ্রামে আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করেছেন তারপর আস্তে আস্তে হারিয়ে গেছেন। স্ত্রীও চেষ্টা করছেন দিন দিন আরো উন্নতির জন্য, ইংলিশ কোর্স করছেন, তারপর চাকুরী নিয়েছেন। ছেলেমেয়েরা পাবলিক স্কুলে পড়ে, তারাও প্রচুর ব্যস্ত বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। কিছুদিনের মধ্যে তারা গাড়ি কিনেছেন তারপর আরো কিছুদিনের মধ্যে একটি বাড়ি কিনেছেন। নতুন নতুন বন্ধু-বান্ধব হয়েছে, বাসায় বাসায় পার্টি চলছে, সবাই দাওয়াত আর ওয়েষ্টার্ন লাইফ নিয়ে ব্যস্ত, ডলার আর্নিং আর পার্টি ইত্যাদি। এখন আর কোন কিছুর অভাব নেই। কানাডার সব কিছুই তারা মোটামুটি পেয়ে গেছেন।
যাহোক, চার বছর পরের ঘটনা। হঠাৎ ঐ ভাইয়ের সাথে একদিন দেখা। তিনি আমাদেরকে পেয়ে আবেগজরিত কণ্ঠে বললেন, জরুরী কথা আছে। কথা হচ্ছে। তার পরিবারটি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তার এতো দিনের সুখের সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। তার স্ত্রী এক দিকে, ছেলে আরেক দিকে আর সে নিজেই তো আরেক দিকে। যে যার মতো চলছে, কেউ কারো কথা শুনছে না, পুরো পরিবারটি কন্ট্রোলের বাইরে চলে গেছে। পরিবারে সুখ বলতে আর কিছু নেই।
ঘটনার বিশ্লেষণ :
আমাদের প্রকাশিত “দি মেসেজ” পত্রিকার কোন এক সংখ্যায় “উন্নত জীবনের সন্ধানে” নামে একটি আর্টিক্যাল ছিল যেখানে এই সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়েছিল। যাহোক, এখানে সমস্যার মূল কারণটা হচ্ছে ভারসাম্যহীনতা। অর্থাৎ পরিবারে কর্তা এবং কী দু’জনই জীবনকে নিয়ে চিন্তা করেছেন ওয়ান ওয়ে। অর্থাৎ শুধু ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট, চাকুরী, প্রোমোশন, ডলার, গাড়ি, বাড়ি, বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে স্ট্যাটাস, একপ্রকার ইনডাইরেক্ট প্রতিযোগিতা। ইসলামী পরিবেশ ছেড়ে দিয়ে নন-ইসলামী পরিবেশের সাথে জীবনযাপন করেছেন। তারা শুধু চিন্তা করেছেন বৈষয়িক কিন্তু নিজেদের আত্মার কথা ভুলে গিয়েছিলেন।
এখন এই সমস্যার সমাধান খুব সহজ নয়। কারণ সমস্যাটা খুব প্রকট আকার ধারণ করেছে। যদি সমস্যাটা শুরুর দিকে ধরা যেত তাহলে সমাধান অনেকটা সহজ হয়ে যেত। একজন মানুষের পরিবর্তন রাতারাতি হয় না, দিনের পর দিন আস্তে আস্তে এতো বড় আকার ধারণ করেছে। যাহোক, পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, হাল ছাড়া যাবে না, ধৈর্যধারণ করতে হবে। মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে সাহায্য চাইলে ইনশাআল্লাহ তিনি সাহায্য করবেন।