hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫১

দাওয়াতী কাজ করা সকল মুসলিমের জন্য সার্বক্ষণিক ফরয

১. “তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে যে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া সত্যকে গোপন রাখে?” (সূরা বাকারা : ১৪০)

২. “আর সেই ব্যক্তির কথা অপেক্ষা অধিক ভাল কথা আর কার হতে পারে? যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নেক আমল করে এবং বলে আমি মুসলিম।” (সূরা হা-মীম সিজদা : ৩৩)

৩. “হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর সাহায্যকারী হও দ্বীনের প্রতি আহ্বান জানানোর কাজে।” (সূরা আস-সফ : ১৪)

৪. “তুমি এদের বলে দাও আমার পথ তো এই, আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাই।” (সূরা ইউসুফ : ১০৮)

৫. “দ্বীন কায়েম কর এবং এ ব্যাপারে মতভেদে লিপ্ত হয়ো না।” (সূরা আশ শুরা : ১৩)

৬. “হে বস্রাচ্ছাদিত! উঠ, আর সাবধান কর ও তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্বর ঘোষণা কর।” (সূরা মুদ্দাসসির : ১-৩)

৭. “হে মানুষ তোমাদের সেই রবের দাসত্ব কর যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা বাকারা : ২১)

অধিকাংশ ঈমানদারগণ মনে করেন যে তাদের উপর কেবল সলাত (নামায), সিয়াম (রোযা), হাজ্জ, যাকাত এ কটি জিনিসই ফরয। এর বাইরে তারা আর কিছু নিয়ে মাথা ঘামান না। অথচ সলাত যেমন ফরয, দাওয়াতী কাজ করাও তেমনি ফরয। বরং সর্বাবস্থায় সকল ঈমানদারের জন্য ফরয এক কাজ হলো ইসলামের দাওয়াতী কাজ। রিসালাতের পয়লা নম্বর দায়িত্ব ছিল এ দাওয়াত। আল্লাহর বাণীকে জনতার মাঝে পৌছে দেয়াই ছিল সকল নবী ও রসূলের প্রধান কাজ। নবীর অবর্তমানে এ কাজ সকল ঈমানদারগণের উপর অবশ্যকরণীয়।

নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বিদায় হজ্জের সময়ও সকল ঈমানদারগণের উপর এ নির্দেশ দিয়ে গেছেন :

নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন : তোমরা আমার অনুপস্থিতিতে উম্মতের নিকট আমার এ বাণী পৌঁছে দেবে।(আহমদ, তিরমিযী)

“ডাক তোমার প্রভুর দিকে হিকমত ও উত্তম নসিহতের সাহায্যে, আর লোকদের সাথে বিতর্ক কর সর্বোত্তম পন্থায়।” (সূরা আন নাহল, ১৬ : ১২৫)

এখানে আল্লাহ হুকুম করছেন সবাইকে। এটা আল্লাহর আদেশ যে আমরা পথহারা মানুষকে কেবল আল্লাহর দিকে ডাকবো। আর ডাকবো উত্তম ভাষা ও পদ্ধতি অবলম্বন করে। আরো হুকুম করছেন সর্বোত্তম ভাষায় বিতর্ক করার জন্য। সলাত (নামায) একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরয করা হয়েছে। ফরয সলাতের জন্য ওয়াক্ত জরুরী। যাকাত আদায়ের জন্য সম্পদের মালিক হতে হয়। যাকাতের দেয় অর্থও একটা নির্দিষ্ট হারের আওতায় আবদ্ধ। হাজ্জ ফরয হয় কেবল সামর্থ্যবানদের উপর। তাও আবার সারা জীবনে মাত্র একবার তা সম্পাদন করলেই দায়িত্ব শেষ। ফরয সিয়াম সারা বছরে কেবল একটা নির্দিষ্ট মাসের জন্য।

কিন্তু “ডাকো তোমার প্রভুর দিকে” বলে আল্লাহ ঈমানদারদের উপর এ কাজটি সর্বক্ষণের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। এখানে বলা হয়নি কোন নির্দিষ্ট সময়, কোন নির্দিষ্ট ধরনের ব্যক্তি বা অন্য কোন শর্ত। অর্থাৎ এ ডাকার কাজ সকল মুসলিম-মুসলিমাহ ঈমানদারের উপর এক সার্বক্ষণিক ফরয। হিকমত অবলম্বন করে এ দাওয়াত দিতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত সময় ও সুযোগ খুঁজে নিতে হবে। অনুকূল পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টিও হিকমতের অংশ।

পরিসংখ্যানের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী আল্লাহর রসূল (ﷺ) -এর সাহাবীদের (রা.) সংখ্যা ছিল ১,২০,০০০ (এক লাখ বিশ হাজার) বা এরচেয়ে কিছু বেশী। এ বিপুল সংখ্যক ঈমানদারদের মধ্যে মাত্র বিশ হাজারের কবর পাওয়া যায় আরব ভূমিতে। বাকি লক্ষাধিক সাহাবী যে কারণে নিজ জন্মভূমি ত্যাগ করেছিলেন তা আর কিছুই নয়, কেবল দাওয়াতে দ্বীনের কাজেই তারা ছড়িয়ে পড়েছিলেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। আমরা যেন এখানে ভুল না বুঝি যে সাহাবারা তাবলীগ জামাতের সাথে চিল্লা দিতে গিয়েছিলেন। চিল্লা বলতে ইসলামে কিছু নেই। তারা গিয়েছিলেন অমুসলিম দেশে অমুসলিমদের নিকট দাওয়াত পৌঁছে দিতে। তৎকালীন সময়ে আরব ছাড়া আর কোথাও ইসলাম ও মুসলিম ছিল না। রসূল (ﷺ) এসেছিলেন আরবে কিন্তু আজ সারা বিশ্বে আনাচেকানাচে অনেক মুসলিম দেশ। এর ফসল হচ্ছে সাহাবীদের ত্যাগ। মনে রাখতে হবে রসূল (ﷺ) তাঁর জীবনে যা করে গেছেন তাই আমাদের মিশন।