hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১

স্ত্রীর অধিকার

“হে মুসলিম জনতা! স্ত্রীদের অধিকার সম্পর্কে তোমরা আল্লাহকে অবশ্যই ভয় করতে থাকবে। মনে রেখো, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে। পেয়েছ এবং আল্লাহর কালামের সাহায্যে তাদের ভোগ করাকে নিজের জন্য হালাল করে নিয়েছ”। (সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ)

স্ত্রী তার স্বামীর শ্রেষ্ঠ বন্ধু, জীবনসঙ্গিনী। তিনি স্বামীর শরীরের অংশ হয়ে গেছেন। তার সকল দায়দায়িত্ব এখন স্বামীর হাতে। তিনি স্বামীর শ্রেষ্ঠ পরামর্শদাত্রী। বিপদে-আপদে স্বামী যখন দিশা হারিয়ে ফেলেন ঠিক তখনই স্ত্রী স্বামীকে প্রশান্তি দানে সহায়ক শক্তি। স্বামী তার রক্ষক (সূরা আল মায়িদা : ৫)

বিয়ের মাধ্যমে দু'জনে একটি সুরক্ষিত দুর্গে প্রবেশ করলেন। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা। (সূরা নিসা : ২৫)

স্বামী পছন্দ করেন আর না করেন কোন বিষয়ই আর একান্ত তার থাকবে না। একজন জীবনসঙ্গীনি এখন হতে স্বামীর বিভিন্ন বিষয়ে বৈধ অধিকারেই নাক গলাবেন। স্বামীর সুখ-দুঃখ সব কিছুতেই তিনি অংশীদার। তাকে এড়িয়ে চলার মধ্যে স্বামীর কোন কল্যাণ নেই। স্ত্রী সুন্দরী না কুৎসিত বিয়ের পর তা হিসাব করার কোন সুযোগ নেই, তিনি দ্বীনদার না বেদ্বীন তা না দেখে কিভাবে দুজনে একটি দ্বীনদার পরিবার গঠন করতে পারা যায় সে প্রচেষ্টায় সময় ব্যয় করা বাঞ্ছনীয়।

স্ত্রীর অধিকারের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার সাথে ভাল ব্যবহার। তিনি স্বামীর একান্ত নিকটজন এবং সবচাইতে ভাল ব্যবহারের হকদার। তার সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণে রেখে দুর্বলতাগুলোকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখাও তার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। স্ত্রী স্বামীর সন্তানদের বুনিয়াদী শিক্ষিকা। স্বামী যখন রুজি-রোজগারে ব্যস্ত থাকবেন তখন সন্তানদের শিক্ষা, নৈতিকতা, দ্বীনসহ সকল মৌলিক বিষয়ের একমাত্র নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন স্ত্রী। তাহলে বুঝতে পারছি যে কি পরিমাণ গুরুত্বের অধিকারী স্ত্রী। স্ত্রীর অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো তাকে স্বামীর যাবতীয় বিষয়ে অংশগ্রহণ করানো। অর্থাৎ কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাকে অন্ধকারে না রাখা। বিশেষ করে সামাজিক, পারিবারিক, চাকুরী, পদোন্নতি, অবনতি, চাকুরীচ্যুতি ইত্যাদি বিষয়ে তাকে অবহিত করা। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সময়গুলি যেন ভাল কাজে কাটে সে ব্যবস্থা করা। কুরআনের তাফসীর, হাদীসগ্রন্থ, ইসলামী সাহিত্য, শিক্ষণীয় গল্পের বই, সাহাবাদের জীবনী, শিশু শিক্ষার উপর বিভিন্ন বই, ইসলামিক সিডি-ডিভিডি ইত্যাদি দিয়ে নিজ ঘরে একটি ক্ষুদ্র পারিবারিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করা উচিত। অবসরে স্ত্রী যেন জ্ঞানার্জন করতে পারেন।

স্ত্রীর জন্য স্বামীর পিতামাতার স্নেহ ও ভালোবাসা নিশ্চিত করা উচিত। ইসলাম শ্বশুর-শাশুড়ীদের কোনভাবেই ছেলের বউয়ের সাথে খারাপ আচরণের অনুমতি দেয় না। স্বামীর পিতামাতা তার নিজ সন্তানকে যা ইচ্ছা তা বলার অধিকার রাখেন। তাদের সকল বৈধ নির্দেশ শুনতে ছেলে বাধ্য। কিন্তু গায়ের জোরে স্বামীর পিতামাতার কোন অবৈধ নির্দেশ শুনতে স্ত্রী বাধ্য নন। সুতরাং সকলে তার নিজস্ব সীমার মধ্যে থেকে ভূমিকা পালন করলে শান্তি বজায় থাকে। স্ত্রীগণ যদি স্বামীর পিতামাতাকে নিজের পিতামাতার মত সম্মান করেন তা সকলের। জন্য সুখকর। এতে সংসার একটি সুন্দর বাগানে পরিণত হবে। এতে সবচাইতে বেশী খুশী হবেন স্বামী। সুতরাং স্ত্রীগণও বিষয়টি বুঝে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন পরিচালনা করবেন।

স্ত্রীর পিরিয়ডকালীন সময়

প্রকৃতগতভাবে এই সময় স্ত্রীর শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা ভাল থাকে না। এই সময় অনেক ভাল কিছুও ভাল লাগে না। মেজাজ থাকে খিটমিটে। তাই স্বামীর উচিত সেদিকে খেয়াল রাখা।