hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০৯

বাড়ীওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমস্যা ও সমাধান

ভাড়াটিয়াদের কাছে বাড়ির মালিকের হক বা অধিকার

১. প্রতি মাসের শুরুতে ১-৫ তারিখের মধ্যে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করে দেয়া উত্তম। অন্যদিকে কোনভাবেই বাড়িওয়ালা যেন খুজে ভাড়ার টাকা নিতে না হয় সেদিকেও গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখা।

২. বাড়ি বা ফ্লাটটিকে নিজের মনে করে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রেখে ব্যবহার করা।

৩. দেয়ালের গায়ে পেরেক বা ময়লা বা দাগ পড়বে এমন কিছু না করা, তারপরও বিশেষ প্রয়োজন হলে মালিকের সাথে আলোচনা করা।

৪. দরজার সিটকিনি/জানালার কাঁচ যেন ভেঙ্গে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা।

৫. পানির টেপ বা ঝরণা, বৈদ্যুতিক সুইচ ইত্যাদি যত্নের সাথে ব্যবহার করা এবং যেন ভেঙ্গে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা।

৬. বাসার মেঝেতে মোজাইক বা টাইলস থাকলে বা এমনিতেও মেঝে ফেটে যাওয়া বা গর্ত হয়ে যেতে পারে এমন কিছু না করা।

৭. দরজা খুব জোরে না লাগানো; সিড়ি বেয়ে উঠা বা নামার সময় জোরে শব্দ না করা।

৮. বাড়ির প্রধান ফটক দায়িত্বের সাথে বন্ধ এবং খোলা।

৯. অনেকে মনে করে ভাড়া নিয়েছি যেভাবে ইচ্ছে হবে সেভাবে ব্যবহার করব এমনটি মনে না করা।

১০. যে কোন সমস্যা বাড়ির মালিককে তৎক্ষণাৎ জানানো।

১১. বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া। অপ্রয়োজনে সবসময় বাতি নিভিয়ে রাখা।

১২. পানি ব্যবহারে সকলকে সচেতন হতে হবে অর্থাৎ অপচয় না করা।

১৩. এভাবেই সকল ভাড়াটিয়া সচেতন হলে বাড়ির মালিকরা সন্তুষ্ট থাকবেন। এতে মুখ কালো করা, মন খারাপ করার মত কোন পরিস্থিতি হবে না।

বাড়ির মালিকের কাছে ভাড়াটিয়ার হক

১. বাড়ির বা ফ্লাটের বা কক্ষের ভাড়া যতটা সম্ভব সহনশীল পর্যায়ে রাখা।

২. পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইনে কোন সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করে দেয়ার চেষ্টা করা।

৩. ভাড়াটিয়ারা অত্যন্ত কাছে অবস্থানকারী হওয়ায় নিকটতম প্রতিবেশীর যে হক তা আদায়ের হুকুম চলে আসে। সুতরাং তাদের সুবিধা, অসুবিধা খোজ-খবর নেয়া।

৪. সাময়িক কারণে ভাড়া দিতে না পারলে ভাড়াটিয়াদের সাথে রাগারাগি করা, বকাবকি করা, সব শেষে জিনিসপত্র আটকে রেখে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া অমানবিক।

৫. ভাড়াটিয়াকে পছন্দ না হলে তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলা উচিত এবং নোটিসের ভিত্তিতে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া।

৬. কোথাও কোথাও শুনা যায়, গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের বিল বাড়িওয়ালা পরিশোধ করে ফলে রাত দশটা বাজলেই চিৎকার করতে থাকে লাইট নিভাও লাইট নিভাও। যা ভাড়াটিয়ার সন্তানদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটে।

৭. কোথাও শুনা যায়, স্বামী-স্ত্রী হলে ভাড়া হবে, সন্তান থাকলে ভাড়া দেয়া যাবে না বা দেয়া যাবে তবে তা হবে শর্তযুক্ত। কারণ বাচ্চা এটা সেটা ধরবে, ক্ষতি করবে, চিৎকার করবে ইত্যাদি। এমন ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালার মনে করা উচিত এক সময় আপনিও বাচ্চা ছিলেন। কাজেই একটু ত্যাগ, একটু ধৈর্যধারণ করলে আল্লাহ খুশী হবেন।

৮. আবার শুনা যায়, নিকট আত্মীয়-স্বজন বাসায় আসলে বাড়িওয়ালা তাদের সামনে শুনিয়ে শুনিয়ে আজেবাজে কথাবার্তা বলে। ভাড়াটিয়ার স্থানে বাড়িওয়ালা থাকলে তার কেমন লাগতো?

৯. রাত এগারোটা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত মেইন গেট বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়া শর্ত জুড়ে দেয়া ঠিক না। বাড়িওয়ালা ও তার নিজ সন্তান যদি রাত এগারোটার পর বাসায় ঢুকতে পারে তাহলে ভাড়াটিয়ার বিশেষ কোন কারণে একটু দেরী হলে বাড়িওয়ালার মুখ কেন কালো হবে? এমন কষ্ট দেয়া ঠিক না।