১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
সমাধান
১. ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ সত্য-সঠিক ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যমপন্থী জীবন ব্যবস্থা এবং বিনা দ্বিধায় একথা মেনে নেয়া।
২. ইসলামের দাবীগুলো মেনে চলা যার মাধ্যমে অন্যান্য দাবী মানা সহজ।
৩. সীমালংঘন ব্যতীত একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন এবং এর অনুসরণ।
৪. দেহ ও রূহের চাহিদা পূরণে ইনসাফের আচরণ।
দৃষ্টিভঙ্গী ঠিক করার গুরুত্ব :
একটি মতবাদ ঠিক করে জীবন পরিচালনা জরুরী। জীবন সম্পর্কে একটি সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গীই একে অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারে। আমার প্রতিটি ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর পরিচালিত হবে জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গীর উপর ভিত্তি করে। আমার পরিবার পরিচালনা, সন্তান লালন-পালন ইত্যাদি প্রায় সব কাজেই তার প্রভাব দেখা যাবে। এ ধরনের একটি মত ও পথ ঠিক না করে যে জীবন পরিচালিত করা হয় তা অনেক সময় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সে ধরনের জটিলতা সৃষ্টির উদাহরণ প্রচুর রয়েছে। খাদ্যাভ্যাস, জৈবিক চাহিদা পূরণ, লেনদেন, শিক্ষাগ্রহণ, বিনোদন, কর্মস্থল, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক ইত্যাদি সব বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পেয়ে তারই আলোকে জীবন পরিচালিত করা উচিত। হতাশা, বিড়ম্বনা, ক্ষোভ, অস্থিরতা ইত্যাদির মধ্যেও জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যাবে। এবার আমরা জীবন ও জগত সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ ও মানুষের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মতবাদের খোঁজ করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করবো।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ মতবাদ জীবন :
জগত সম্পর্কে পৃথিবীর যাবতীয় সব মতবাদেই কিছু জিনিস ভালো পাওয়া যায়। এমন কোন বড় মতবাদ পাওয়া যাবে না যার সবটাই খারাপ। কিন্তু আমরা মনে করি সব ভালোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ মতবাদ হলো ইসলাম। সবগুলি মতবাদই কোন না কোন সম্প্রদায়ের নামে বা কোন ব্যক্তির নামে পরিচিত। যেমন : খ্রিষ্টান ধর্মের নাম যিশু খ্রিষ্টের নামানুসারে হয়েছে, বৌদ্ধ মতবাদের নাম এসেছে গৌতম বুদ্ধের নামানুসারে, ইহুদী ধর্মের নাম হয়েছে ইহুদী জাতির নামানুসারে, হিন্দু ধর্মের নাম হয়েছে ইন্দুস নদী হতে। কিন্তু ইসলামই এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ইসলাম কোন স্থান, নেতা, পন্ডিত, নবী, রসূল, গুরু, ব্যক্তিত্ব বা দার্শনিকের নাম অনুসারে জন্মলাভ করেনি। এর নামেই ইসলামের মূলমন্ত্র ও অর্থ নিহিত আছে যা একান্তই আদর্শগত। ইসলাম অর্থ নিজের সত্তা ও দেহকে সম্পূর্ণভাবে স্রষ্ঠার পছন্দ অপছন্দের নিকট সমর্পণ করে দেয়া। ইসলামের অন্যতম মূলমন্ত্র হলো : যাবতীয় বিষয়ে ও জীবনের সবক্ষেত্রেই ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।
মানুষের কর্ম ও এর দায়-দায়িত্ব :
মানুষ এমন একটি প্রাণী যা এক চলমান মেশিনের মত তৎপর। মানুষ কোন না কোন বিষয় নিয়ে চিন্তারত, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর অথবা অন্য কোন মানুষের সাথে বিনিময় বা আদান-প্রদানে ব্যস্ত। মানুষের মধ্যে সর্বদা দুটি সত্তা কাজ করে। একটি তার মানবীয় সত্তা আরেকটি তার পশু সত্তা। মানবীয় সত্তা দিয়ে মানুষ তার চরিত্রের উৎকৃষ্ট রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় আর পশু সত্তা দিয়ে মানুষ যাবতীয় ক্ষতিকর কাজ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনে। এ উভয় সত্তাকে ভারসাম্যপূর্ণ করে মানবীয় গুণাবলীকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য মানুষকে যদি কোন বিশেষ নিয়ম কানুন ও Code of Conduct ঠিক করে না দেয়া হয় তা হলে পশু সত্তা তার মানবীয় সত্তার উপর জয়ী হয়ে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। পশু সত্তার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
মানুষের কর্ম ও তার দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে ইসলাম সুস্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এটি একটি বাস্তব ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ইসলামী আদর্শের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক ঠিক হয়ে যায়। কুরআনের নিম্মোক্ত আয়াতে এ বিষয়টির সুস্পষ্ট ফায়সালা রয়েছে :
কোন পাপের বোঝা বহনকারী অন্য কোন লোকের পাপের বোঝা বহন করবে। মানুষের জন্য তা-ই যার জন্য সে চেষ্টা করেছে। তার প্রচেষ্টা খুব শীঘ্রই দেখা যাবে। (সূরা নাজম : ৩৮-৪০)
ইসলাম যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবিধান অর্থাৎ’সাওয়া আসাবিল’এই কথাটা কুরআনে ৬ জায়গায় এসেছে। এখন এই জীবনবিধানটা কিভাবে মানলে আমরা সবচেয়ে বেশী উপকৃত হবো এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনটা খুব সহজ হবে তার একটা approach কুরআন-হাদীসের আলোকে আমরা দেখবো, ইনশাআল্লাহ।
Approach
১ নম্বর কাজ : সংঘবদ্ধভাবে ইসলামী জীবনযাপন করা।
২ নম্বর কাজ : ইসলামের উপর নিয়মিত নির্ভুল জ্ঞান অর্জন করা।
৩ নম্বর কাজ : নিয়মিত ইসলামের দাওয়াতী কাজ করা।
৪ নম্বর কাজ : হালাল ইনকাম থেকে নিয়মিত সদাকা করা।
২. ইসলামের দাবীগুলো মেনে চলা যার মাধ্যমে অন্যান্য দাবী মানা সহজ।
৩. সীমালংঘন ব্যতীত একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন এবং এর অনুসরণ।
৪. দেহ ও রূহের চাহিদা পূরণে ইনসাফের আচরণ।
দৃষ্টিভঙ্গী ঠিক করার গুরুত্ব :
একটি মতবাদ ঠিক করে জীবন পরিচালনা জরুরী। জীবন সম্পর্কে একটি সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গীই একে অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারে। আমার প্রতিটি ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর পরিচালিত হবে জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গীর উপর ভিত্তি করে। আমার পরিবার পরিচালনা, সন্তান লালন-পালন ইত্যাদি প্রায় সব কাজেই তার প্রভাব দেখা যাবে। এ ধরনের একটি মত ও পথ ঠিক না করে যে জীবন পরিচালিত করা হয় তা অনেক সময় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সে ধরনের জটিলতা সৃষ্টির উদাহরণ প্রচুর রয়েছে। খাদ্যাভ্যাস, জৈবিক চাহিদা পূরণ, লেনদেন, শিক্ষাগ্রহণ, বিনোদন, কর্মস্থল, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক ইত্যাদি সব বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পেয়ে তারই আলোকে জীবন পরিচালিত করা উচিত। হতাশা, বিড়ম্বনা, ক্ষোভ, অস্থিরতা ইত্যাদির মধ্যেও জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যাবে। এবার আমরা জীবন ও জগত সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ ও মানুষের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মতবাদের খোঁজ করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করবো।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ মতবাদ জীবন :
জগত সম্পর্কে পৃথিবীর যাবতীয় সব মতবাদেই কিছু জিনিস ভালো পাওয়া যায়। এমন কোন বড় মতবাদ পাওয়া যাবে না যার সবটাই খারাপ। কিন্তু আমরা মনে করি সব ভালোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ মতবাদ হলো ইসলাম। সবগুলি মতবাদই কোন না কোন সম্প্রদায়ের নামে বা কোন ব্যক্তির নামে পরিচিত। যেমন : খ্রিষ্টান ধর্মের নাম যিশু খ্রিষ্টের নামানুসারে হয়েছে, বৌদ্ধ মতবাদের নাম এসেছে গৌতম বুদ্ধের নামানুসারে, ইহুদী ধর্মের নাম হয়েছে ইহুদী জাতির নামানুসারে, হিন্দু ধর্মের নাম হয়েছে ইন্দুস নদী হতে। কিন্তু ইসলামই এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ইসলাম কোন স্থান, নেতা, পন্ডিত, নবী, রসূল, গুরু, ব্যক্তিত্ব বা দার্শনিকের নাম অনুসারে জন্মলাভ করেনি। এর নামেই ইসলামের মূলমন্ত্র ও অর্থ নিহিত আছে যা একান্তই আদর্শগত। ইসলাম অর্থ নিজের সত্তা ও দেহকে সম্পূর্ণভাবে স্রষ্ঠার পছন্দ অপছন্দের নিকট সমর্পণ করে দেয়া। ইসলামের অন্যতম মূলমন্ত্র হলো : যাবতীয় বিষয়ে ও জীবনের সবক্ষেত্রেই ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।
মানুষের কর্ম ও এর দায়-দায়িত্ব :
মানুষ এমন একটি প্রাণী যা এক চলমান মেশিনের মত তৎপর। মানুষ কোন না কোন বিষয় নিয়ে চিন্তারত, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর অথবা অন্য কোন মানুষের সাথে বিনিময় বা আদান-প্রদানে ব্যস্ত। মানুষের মধ্যে সর্বদা দুটি সত্তা কাজ করে। একটি তার মানবীয় সত্তা আরেকটি তার পশু সত্তা। মানবীয় সত্তা দিয়ে মানুষ তার চরিত্রের উৎকৃষ্ট রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় আর পশু সত্তা দিয়ে মানুষ যাবতীয় ক্ষতিকর কাজ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনে। এ উভয় সত্তাকে ভারসাম্যপূর্ণ করে মানবীয় গুণাবলীকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য মানুষকে যদি কোন বিশেষ নিয়ম কানুন ও Code of Conduct ঠিক করে না দেয়া হয় তা হলে পশু সত্তা তার মানবীয় সত্তার উপর জয়ী হয়ে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। পশু সত্তার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
মানুষের কর্ম ও তার দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে ইসলাম সুস্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এটি একটি বাস্তব ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ইসলামী আদর্শের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক ঠিক হয়ে যায়। কুরআনের নিম্মোক্ত আয়াতে এ বিষয়টির সুস্পষ্ট ফায়সালা রয়েছে :
কোন পাপের বোঝা বহনকারী অন্য কোন লোকের পাপের বোঝা বহন করবে। মানুষের জন্য তা-ই যার জন্য সে চেষ্টা করেছে। তার প্রচেষ্টা খুব শীঘ্রই দেখা যাবে। (সূরা নাজম : ৩৮-৪০)
ইসলাম যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবিধান অর্থাৎ’সাওয়া আসাবিল’এই কথাটা কুরআনে ৬ জায়গায় এসেছে। এখন এই জীবনবিধানটা কিভাবে মানলে আমরা সবচেয়ে বেশী উপকৃত হবো এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনটা খুব সহজ হবে তার একটা approach কুরআন-হাদীসের আলোকে আমরা দেখবো, ইনশাআল্লাহ।
Approach
১ নম্বর কাজ : সংঘবদ্ধভাবে ইসলামী জীবনযাপন করা।
২ নম্বর কাজ : ইসলামের উপর নিয়মিত নির্ভুল জ্ঞান অর্জন করা।
৩ নম্বর কাজ : নিয়মিত ইসলামের দাওয়াতী কাজ করা।
৪ নম্বর কাজ : হালাল ইনকাম থেকে নিয়মিত সদাকা করা।