hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

নিজেকে নিজে কিছু প্রশ্ন করি

১. আমি কি অবৈধ ইনকামের সাথে জড়িত?

২. আমি কি অলস জীবনযাপন করি?

৩. আমার কি মিথ্যে বলার অভ্যাস আছে?

৪. আমি কি গোপন কথা চেপে রাখতে পারি না?

৫. আমার কি ধৈর্য বা সহ্য ক্ষমতা কমে গেছে?

৬. আমার কি রাগ খুব বেশী?

৭. আমি কি আমার রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না?

৮. আমি কি ঝাজালো সুরে কথা বলি?

৯. আমি রেগে গেলে কি আমার হুস থাকে না?

১০. আমার কি অন্যের ভাল দেখলে হিংসা লাগে?

১১. আমার কি অন্যের গীবত করার অভ্যাস আছে?

১২. আমার কি সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত লোভ আছে?

১৩. আমি কি অনেক সময় লোভ সামলাতে পারি না?

১৪. আমি কি অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া করি?

১৫. আমি কি অপচয় করি?

১৬. আমি কি আমার ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই?

১৭. আমি কি পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছি?

১৮. আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কি বনিবনা হচ্ছে না?

১৯. আমাদের মধ্যে কি সারাক্ষণ খিটমিট লেগেই থাকে?

২০. আমি কি আমার স্বামীকে সন্দেহ করি?

২১. আমার স্বামীর কি কোন বাজে অভ্যাস আছে?

২২. আমার স্বামী কি আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে?

২৩. আমার স্বামী কি আমাকে নির্যাতন করে?

২৪. আমার স্বামী কি আমাকে আন্ডারএস্টিমেট করে?

২৫. শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কি আমাকে মানসিক চাপে রাখে?

২৬. আমাদের মধ্যে কি ভালোবাসা কমে গেছে?

২৭. আমাদের মধ্যে কি আকর্ষণ কমে গেছে?

২৮. আমার স্ত্রী কি আমাকে রেসপেক্ট করে না?

২৯. আমার স্ত্রী কি অন্য লোকের প্রতি আসক্ত?

৩০. আমি কি শ্বশুর-শাশুড়ীকে অপছন্দ করি?

৩১. আমি কি তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করি?

৩২. আমার কি এখন আর স্ত্রীকে ভাল লাগে না?

৩৩. আমার কি এখন আর স্বামীকে ভাল লাগে না?

৩৪. আমরা কি মাঝে মধ্যেই আলাদা বিছানায় ঘুমাই?

৩৫. আমরা কি একসাথে বসে একই টেবিলে আহার করি না?

৩৬. আমরা কি মাঝে মধ্যেই একে অপরের সাথে কথা বলা বন্ধ রাখি?

৩৭. আমি কি চাকরি বা ব্যবসা নিয়ে হতাশ?

৩৮. আমি কি ফ্যামিলি নিয়ে সমস্যাগ্রস্ত?

৩৯. আমি কি সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছি?

৪০. আমার কি বাবা-মাকে লুকিয়ে টাকা দিতে হয়?

৪১. আমরা স্বামী-স্ত্রী কি আলাদা আলাদা ব্যাংক একাউন্ট মেনটেন করি?

৪২. আমি কি আমার সন্তানদেরকে যথেষ্ঠ সময় দেই?

৪৩. আমি কি সন্তানদের গায়ে হাত তুলি?

৪৪. আমি কি আজেবাজে ভাষায় গালিগালাজ করি?

৪৫. আমি কি অন্যের কান কথা শুনে স্বামীকে দূরে ঠেলে দেই?

৪৬. আমি কি অন্যের কান কথা শুনে স্ত্রীকে দূরে ঠেলে দেই?

৪৭. আমি কি অন্যের বুদ্ধিতে চলি নাকি নিজের বুদ্ধিও খাটানোর চেষ্টা করি?

৪৮. আমি আমার সন্তানকে নিয়ে কি শুধু একপেশি (one way) চিন্তা করি?

৪৯. আমার সন্তানকে কি আমি ইসলামী পরিবেশে বড় করতে চাই?

৫০. আমি কি চাই আমার সন্তান একজন ভাল একাডেমিক (প্রফেশনাল) হওয়ার পাশাপাশি একজন ভাল মুসলিম হোক?

৫১. আমি কি আমার স্বামীর কথাকে কম গুরুত্ব দেই?

৫২. আমি কি আমার স্ত্রীর কথাকে কম গুরুত্ব দেই?

৫৩. যে কোন কাজ আমরা স্বামী-স্ত্রী দু'জনে মিলে পরামর্শের ভিত্তিতে কি করি?

৫৪. আমরা স্বামী-স্ত্রী কি সবসময় দু’জনের ভাল দু’জনে চাই?

৫৫. আমরা স্বামী-স্ত্রী কি একে অপরকে সবচেয়ে বড় বন্ধু ভাবি?

৫৬. অন্যেরা যা করে বাছবিচার না করে আমিও কি তাই করার চেষ্টা করি?

৫৭. আমার স্বামীর বদনাম অন্য কেউ আমার কাছে এসে করলে আমি কি তাকে প্রশ্রয় দেই বা ভাল বোধ করি?

৫৮. আমরা স্বামী-স্ত্রী কি আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই?

৫৯. আমার কি ইবাদতে অনিহা আছে? ইবাদতে কি আলসেমি লাগে?

৬০. আমার কি ইবাদতে মন বসে না? ইবাদতে কি তৃপ্তি পাই না?

প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এই সমস্যাগুলো কমবেশী দেখা যায়। অনেক পরিবারই আবার সমস্যা কোথায় তা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। অনেকের কাছে এই সমস্যাগুলো দেখতে ছোট হতে পারে বা কম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে কিন্তু এই সমস্যাগুলোই একসময় পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং পরে তা সংসারে ভাঙ্গনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জোর করে কারো উপর কিছু চাপিয়ে দিয়ে কোন সমস্যার সঠিক সমাধান করা যায় না, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। গাছের আগায় পানি না ঢেলে গোড়ায় ঢালতে হয়, তাতে ফল ভাল হয়। সব কিছুর মূলে হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি, তাই প্রতিদিন এই তাকওয়া অর্জন করতে হবে এবং সেই সাথে ঈমানকে মজবুত করতে হবে।

আমরা বেশীর ভাগ মুসলিমরাই আংশিক বা ভুল ঈমান নিয়ে নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবি করছি, ঈমান সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছ ধারণা থাকা উচিত। আমার ঈমান যখন মজবুত হয়ে যাবে তখন দেখা যাবে এই দুনিয়ার সকল কঠিন কাজই আমার নিকট অতি সহজ হয়ে গেছে।

মনে রাখতে হবে যে যদি আমি ইসলামী পরিবার গঠন করতে চাই, তাহলে সকল সমস্যার গোড়া হলো মজবুত ঈমানের অভাব, আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসার অভাব। যার ভেতর ঈমানের আলো যত বেশী, যিনি আল্লাহকে যত বেশী ভয় পান, তিনি তত পরিপূর্ণ মানব বা মানবী। সুতরাং একজন ব্যক্তি যদি আল্লাহকে ভয় করে তাহলে আল্লাহর হুকুমগুলি সে শোনা মাত্রই মানার চেষ্টা করবে। তাকে খুব বেশী তাগাদা দেয়ার প্রয়োজন নেই। এভাবে আস্তে আস্তে আমরা সকল সমস্যার সমাধান করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।