১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২৫
দান-সদাকার বিকৃত রূপ
লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সদাকা :
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদের দান খয়রাতের কথা বলে এবং কষ্ট দিয়ে তাকে সেই ব্যক্তির ন্যায় নষ্ট করো না যে ব্যক্তি শুধু লোকদের দেখাবার উদ্দেশ্যেই নিজের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। তাদের খরচের দৃষ্টান্ত এরূপ : যেমন একটি চাতাল, যার উপর মাটির আস্তর পড়ে আছে। এর উপর যখন মুষলধারে বৃষ্টি পড়লো তখন সমস্ত মাটি ধুয়ে বয়ে গেল এবং গোটা চাতালটি পরিস্কার হয়ে গেল। এসব লোক দান-সদাকা করে যে পূণ্য অর্জন করে তার কিছুই তাদের হাতে আসে না।” (সূরা বাকারা : ২৬৪)
সদাকার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মনের মধ্যে নামের পুলক অনুভব করা, এর প্রচার আশা করা, দাতার নাম বারবার উচ্চারিত হওয়া, বিনিময়ে দাতা কারো কাছে স্পেশাল সম্মান আশা করা ইত্যাদি শয়তানের প্ররোচনা। তবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেসব প্রকাশ ও প্রচার হয়ে পড়ে তার জন্য আল্লাহর কাছ হতে বিশেষ ছাড়ের আশা করতে পারি। আল্লাহ তা'আলা যেন আমাদের অনিচ্ছাকৃত প্রচারকে ক্ষমা করেন।
অগত্যা সদাকা :
এটি আরেকটি বিকৃত রূপ। দাতা দান করার সময় এমন ভাব দেখায় যে সে বড় বিপদে পড়ে গেছে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে প্রার্থীকে অগত্যা কিছু দান করে। তার চেহারার মধ্যে নিমোক্ত আয়াত অনুযায়ী বড় বিষাদের ছায়া আসর করে।
“সলাতের জন্য তারা আসে বটে, কিন্তু মনক্ষুন্ন হয়ে; আর দান করে কিন্তু বিরক্তি সহকারে।” (সূরা তাওবা : ৫৪)
অথচ দাতাদের একটি বিষয় সর্বক্ষণ মনে রাখা উচিত যে, একজন গ্রহীতা অর্থ গ্রহণ করে দাতাকে করুণা করেন। উল্টোটি নয়। যদি কোন বঞ্চিত বা প্রার্থীই না থাকতো তা হলে দাতা এতবড় সওয়াবের কাজ হতে বঞ্চিত থেকে যেতেন। বরং আন্তরিকভাবে দাতার ভাবখানা এমন হওয়া উচিত যে গ্রহীতা দয়া করে দান গ্রহণ করে দাতার বিরাট উপকার করেছেন। কারণ দাতা তার অর্থ দিয়ে বঞ্চিতকে সাহায্য করলেন, সম্পদের মূল মালিক মহান আল্লাহ তা'আলা এর যে প্রতিদান দেবেন তা কোন মানুষের চিন্তা শক্তির বাইরে।
দান করে খোটা দেয়া :
এটি একটি জঘন্য রোগ। অজ্ঞ-মূখ লোকেরা প্রকৃত বিষয়ের রূপ, এর উদ্দেশ্য ও ফলাফল না জানার কারণে দান করে খোটা দেয়। কারণ যে সম্পদ দান করা হলো তার মূল মালিকই তো দাতা নয়। তাকে কিছু দিনের জন্য এর দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিয়েছেন আল্লাহ তা'আলা। এটা কিছু দিন আপনার তত্ত্বাবধানে, কিছুদিন আমার তত্ত্বাবধানে থাকবে। আবার কিছুদিন পর সম্পদের মূল মালিক আল্লাহ তা'আলা অপর কাউকে হিফাযতের দায়িত্ব দেবেন। তা হলে যে সম্পদের মালিক আপনি আমি নই সেই সম্পদের মূল মালিকের হুকুমে আমি যদি এর হকদারকে বুঝিয়ে দেই আর এ কাজের জন্য সম্মান আশা করি, আর সম্মান করতে ব্যর্থ হলে খোটা দেই, তা হলে। অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা আমার উপর নারায হবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন :
“যারা আল্লাহর পথে সম্পদ খরচ করে, অতঃপর এ কারণে খোঁটা দেয় না, তাদের রবের নিকট তাদের জন্য যথার্থ প্রতিদান রয়েছে।” (সূরা বাকারা : ২৬২)
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদের দান খয়রাতের কথা বলে এবং কষ্ট দিয়ে তাকে সেই ব্যক্তির ন্যায় নষ্ট করো না যে ব্যক্তি শুধু লোকদের দেখাবার উদ্দেশ্যেই নিজের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। তাদের খরচের দৃষ্টান্ত এরূপ : যেমন একটি চাতাল, যার উপর মাটির আস্তর পড়ে আছে। এর উপর যখন মুষলধারে বৃষ্টি পড়লো তখন সমস্ত মাটি ধুয়ে বয়ে গেল এবং গোটা চাতালটি পরিস্কার হয়ে গেল। এসব লোক দান-সদাকা করে যে পূণ্য অর্জন করে তার কিছুই তাদের হাতে আসে না।” (সূরা বাকারা : ২৬৪)
সদাকার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মনের মধ্যে নামের পুলক অনুভব করা, এর প্রচার আশা করা, দাতার নাম বারবার উচ্চারিত হওয়া, বিনিময়ে দাতা কারো কাছে স্পেশাল সম্মান আশা করা ইত্যাদি শয়তানের প্ররোচনা। তবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেসব প্রকাশ ও প্রচার হয়ে পড়ে তার জন্য আল্লাহর কাছ হতে বিশেষ ছাড়ের আশা করতে পারি। আল্লাহ তা'আলা যেন আমাদের অনিচ্ছাকৃত প্রচারকে ক্ষমা করেন।
অগত্যা সদাকা :
এটি আরেকটি বিকৃত রূপ। দাতা দান করার সময় এমন ভাব দেখায় যে সে বড় বিপদে পড়ে গেছে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে প্রার্থীকে অগত্যা কিছু দান করে। তার চেহারার মধ্যে নিমোক্ত আয়াত অনুযায়ী বড় বিষাদের ছায়া আসর করে।
“সলাতের জন্য তারা আসে বটে, কিন্তু মনক্ষুন্ন হয়ে; আর দান করে কিন্তু বিরক্তি সহকারে।” (সূরা তাওবা : ৫৪)
অথচ দাতাদের একটি বিষয় সর্বক্ষণ মনে রাখা উচিত যে, একজন গ্রহীতা অর্থ গ্রহণ করে দাতাকে করুণা করেন। উল্টোটি নয়। যদি কোন বঞ্চিত বা প্রার্থীই না থাকতো তা হলে দাতা এতবড় সওয়াবের কাজ হতে বঞ্চিত থেকে যেতেন। বরং আন্তরিকভাবে দাতার ভাবখানা এমন হওয়া উচিত যে গ্রহীতা দয়া করে দান গ্রহণ করে দাতার বিরাট উপকার করেছেন। কারণ দাতা তার অর্থ দিয়ে বঞ্চিতকে সাহায্য করলেন, সম্পদের মূল মালিক মহান আল্লাহ তা'আলা এর যে প্রতিদান দেবেন তা কোন মানুষের চিন্তা শক্তির বাইরে।
দান করে খোটা দেয়া :
এটি একটি জঘন্য রোগ। অজ্ঞ-মূখ লোকেরা প্রকৃত বিষয়ের রূপ, এর উদ্দেশ্য ও ফলাফল না জানার কারণে দান করে খোটা দেয়। কারণ যে সম্পদ দান করা হলো তার মূল মালিকই তো দাতা নয়। তাকে কিছু দিনের জন্য এর দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিয়েছেন আল্লাহ তা'আলা। এটা কিছু দিন আপনার তত্ত্বাবধানে, কিছুদিন আমার তত্ত্বাবধানে থাকবে। আবার কিছুদিন পর সম্পদের মূল মালিক আল্লাহ তা'আলা অপর কাউকে হিফাযতের দায়িত্ব দেবেন। তা হলে যে সম্পদের মালিক আপনি আমি নই সেই সম্পদের মূল মালিকের হুকুমে আমি যদি এর হকদারকে বুঝিয়ে দেই আর এ কাজের জন্য সম্মান আশা করি, আর সম্মান করতে ব্যর্থ হলে খোটা দেই, তা হলে। অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা আমার উপর নারায হবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন :
“যারা আল্লাহর পথে সম্পদ খরচ করে, অতঃপর এ কারণে খোঁটা দেয় না, তাদের রবের নিকট তাদের জন্য যথার্থ প্রতিদান রয়েছে।” (সূরা বাকারা : ২৬২)