hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৫

ছোটখাট জিনিস ধরা ও তর্ক-বিতর্ক করা

ছোটখাট বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করা, যুক্তি প্রয়োগ করে নিজেকে মিছামিছি বিজয়ী করার প্রবণতা দুঃখজনক। এ ধরনের প্রবণতা স্বামী বা স্ত্রী উভয়ের চরিত্রেই থাকতে পারে। যা পরিবার ও পারিবারিক জীবনে অশান্তির অনেক বড় কারণ। তাই ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ছোটখাট জিনিস বা বিষয় নিয়ে বিতর্ক করা সমর্থন করে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন :

“যে ব্যক্তি তার নফসকে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠাতে পারল সেই সফলকাম।” (সূরা আত তাগাবুন, ৬৪ : ১৬)

পরিবার ও পারিবারিক জীবনে এরকম খুটি-নাটি বিষয় নিয়ে অনেক সময় মনোমালিন্য হয়ে থাকে। তাই এসব ছোটখাট বিষয়ে বিতর্ক করে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মানুষের চিরশত্ৰত শয়তানকে প্রবেশ করার সুযোগ দেয়া অনুত্তম। এটি শান্তির বিপরীতে অশান্তির নমুনা। এ ব্যাপারে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই সতর্ক থাকা আবশ্যক। তবে একথাও সত্য স্বামী কোনো আদেশ দিলে স্ত্রী যদি তা পালনে অস্বীকার করে, তাকে দেখে যদি স্বামী আনন্দ না পায়, কোনো শপথ করলে তা যদি স্ত্রী পূরণ না করে, আর স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের প্রতিও স্বামীর ধনসম্পদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে তাহলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসা তো উচিতই বটে।

আসলে পরিবার জীবনে শুভ-অশুভ বলতে আমাদের প্রিয় নবী (ﷺ) তিনটি জিনিসের কথা বলেছেন। নবী (ﷺ) একবার বলেন।

“অশুভ লক্ষণ বলতে কিছু নেই। অবশ্য তিনটি জিনিসে শুভ লক্ষণ আছেঃ স্ত্রীলোক, ছোড়া ও বাড়ি।” (সুনান ইবনে মাজাহ) তারপর রসূল (ﷺ) আবারও বলেন : “কুলক্ষণ বলতে কিছু থাকলে তা ছোড়া, স্ত্রীলোক ও ঘরেই থাকতো।” (সুনান ইবনে মাজহা)

উল্লিখিত হাদীস দুটি থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো-স্ত্রীলোক পরিবার ও পারিবারিক জীবনে শুভলক্ষণ বয়ে আনতে পারে আবার এই স্ত্রীলোকই পরিবার ও পারিবারিক জীবনে কু-লক্ষণ বয়ে আনতে পারে। অর্থাৎ যেসকল স্ত্রীলোক স্বামীর মন বুঝে স্বামীকে কষ্ট না দিয়ে সুন্দর করে কথা বলে, স্বামীর প্রতি খুব খেয়াল রাখে, স্বামীকেই তার জীবনের সবকিছুর সাথী হিসেবে গ্রহণ করে, স্বামীর প্রতি তার নিজেকে যথাসাধ্য আত্মনিয়োগ করে সেই পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠা পাওয়া নিশ্চিত।

আর যেসকল পরিবারে স্বামী বলে একটা স্ত্রী বলে তিনটা; স্বামীর সাথে সুন্দর করে কথা বলে না; স্বামীকে কোণঠাসা করতে পারলে নিজেকে সার্থক মনে করে; সে পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অশান্তি বিরাজ করা স্বাভাবিক। স্বামীকে সুস্থ সুন্দর কর্মদ্দোম ও উৎফুল্ল রাখতে একজন স্বামীপরায়ণা স্ত্রীর বিকল্প নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্য কোনো কোনো স্ত্রী শুধু একটা কথা অর্থাৎ যে কথা বলার কারণে স্বামীর পুরো দিনটি সুন্দরভাবে অতিবাহিত হতে পারে সেই কথাটুকুও সুন্দর করে বলতে চায় না; বলে না। ফলে দিনের শুরুতেই স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথনে স্বামীর সমস্ত দিনটি অতিবাহিত হয় মন খারাপ ও মন্দ কর্ম দিয়ে-যা দুঃখজনক।