hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২২

দান-সদাকার গুরুত্ব

সদাকা খুবই শক্তিশালী একটি জিনিস। সদাকা দানকারীকে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র করেন। কিভাবে করেন? সম্পদের প্রতি লোভ মানুষের আত্মাকে মেরে ফেলে। রসূল (ﷺ) -এর একটি হাদীসের সারমর্ম হচ্ছে এক পাল ভেড়ার মধ্যে যদি দু'টি ক্ষুধার্ত নেকড়েকে ছেড়ে দেয়া হয় তা হলে ঐ ক্ষুধার্ত নেকড়ে দু’টি ঐ ভেড়ার পালের যতোটা না ক্ষতি করতে পারবে, সম্পদের প্রতি লোভ মানুষের আত্মার, মনের, চরিত্রের তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতি করে ফেলবে। আর যখন এই সম্পদের প্রতি লোভ মানুষের আত্মাকে ধবংস করে ফেলে, তখন সদাকা ঐ মৃত আত্মকে জীবিত করে অর্থাৎ পবিত্র করে।

কুরআনে সদাকার সর্বনিম্ন হার এবং সর্বোচ্চ হারের নির্দেশ :

“সলাত প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত আদায় কর।” (২.৫% (সূরা বাকারা : ৪৩)

“তারা জিজ্ঞেস করে আল্লাহর রাস্তায় কি খরচ করবো? বলে দাও যে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা, তাই খরচ করবে।” (সূরা বাকারা : ২১৯)

উপরের আয়াত দু’টি যদি আমরা পর্যালোচনা করি তা হলে দেখতে পাই যে একই সূরায় অর্থ ত্যাগের বিষয়ে দু'টি সীমা দিয়েছেন। একবার বলেছেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সব দান করে দাও। যেমন- একজনের মাসে ইনকাম ৫০ হাজার টাকা আর তার মাসে খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা। এখানে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত আল্লাহ তাআলা সব দান। করে দিতে বলেছেন। আবার বলেছেন অন্ততপক্ষে ২.৫% দিতেই হবে এর কম দিলে হবে না। এখন এটা নির্ভর করবে আমার তাকওয়ার লেভেল কোথায় তার উপর। আমি কি সর্বোচ্চ লেভেল অনুসরণ করবো নাকি সর্বনিম্ন লেভেল অনুসরণ করবো? সকল নবী-রসূলগণ (আলাইহিস সালাম) এবং সাহাবাগণ (রা.) সর্বোচ্চ লেভেলই অনুসরণ করেছেন। তারা শুধু ২.৫% নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। এটা খুবই সাধারণ একটি অংক, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য যে যতো বেশী ব্যয় করবে আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা ততো বেশী পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।

অর্থ উপার্জনে শর্ত :

অর্থ উপার্জনে বৈধতা, রাহবানিয়াত নিষেধ।

উত্তম নিয়ত;

হালাল উপায়ে উপার্জন;

কারো হক নষ্ট না করে উপার্জন;

প্রয়োজনীয় পরিমাণ উপার্জন;

দ্বীনি দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা না করে উপার্জন উপরের শর্তগুলো মেনে অর্থ উপার্জন করলে তা ইবাদত বলে গণ্য হবে।