১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৮
স্বামী-স্ত্রীর জিদ মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ
জিদ ও হঠকারিতা পরিহার :
স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই একটি সাধারণ দোষ হচ্ছে জিদ ও হঠকারিতা। এ দোষ থেকে যথাসম্ভব উভয়কেই মুক্ত থাকতে চেষ্টা করতে হবে। কেননা দেখা গেছে যে কোনো সামান্য ব্যাপারও উভয়ের মর্জী ও মন-মেজাজের বিপরীত ঘটলেই তারা আগুনের মতো জ্বলে ওঠে। তখন তারা যে কোনো বিপর্যয় ঘটাতে ত্রুটি করেন না। আর এতে করে পারস্পরিক সম্পর্কও খারাপ হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। দু’জনের মনই তিক্ত-বিরক্ত হয়ে যায় খুব সহজেই।
অবশ্য অপরিহার্য কোনো ব্যাপার হলে স্ত্রীর কর্তব্য অপরিসীম ধৈর্য সহকারে স্বামীকে বোঝানো। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে প্রেম-ভালোবাসার অমৃত ধারায় স্বামীর মনের সব কালিমা ধুয়ে মুছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা। তার বদলে রাগ করে, মুখ ভার করে, তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া-ঝাটি করে গোটা পরিবেশটাকে বিষাক্ত করে তোলা তার কখনও উচিত নয়। স্বামীকে অসন্তুষ্ট বা ক্রুদ্ধ দেখতে পেলে যথাসম্ভব শান্ত ও নরম হয়ে যাওয়া স্ত্রীর কর্তব্য, কারণ মহান আল্লাহ স্ত্রীদেরকে কিছু স্পেশাল পাওয়ার দিয়েছেন। আর নিজেদের মনের ঝাল মেটানো যদি অপরিহার্য হয়ে পড়ে, তাহলে তা অপর এক সময়ের জন্যে অপেক্ষায় রেখে দেয়া যেতে পারে, পরে এমন এক সময় এবং এমনভাবে তা করতে হবে, যাতে করে পারস্পরিক সম্পর্ক কিছুমাত্র তিক্ত হয়ে উঠবে না।
স্ত্রীর বাড়াবাড়ি ও ক্রুদ্ধ মেজাজ দেখতে পেলে স্বামীর খুব সতর্কতার সাথেই কাজ করা, কথা বলা উচিত। এ অবস্থায় স্বামীরও বাড়াবাড়ি করা কিংবা নিজের সম-মর্যাদার অভিমানে হঠাৎ করে ফেটে পড়া কোনোমতেই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। স্ত্রীর কাছে কিছুটা ছোট হয়েও যদি পরিস্থিতি আয়ত্তে রাখা যায়, তবে স্বামীর তাই করা কর্তব্য। কেননা তাতেই তার ও গোটা পরিবারের কল্যাণ নিহিত। আল কুরআনে আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে বলেছেন :
“কোনো স্ত্রী যদি তার স্বামীর বদমেজাজী ও তার প্রতি প্রত্যাখ্যান উপেক্ষা অবহেলা দেখতে পায় আর তার পরিণাম ভালো না হওয়ার আশংকা বোধ করে, তাহলে উভয়ের যে কোনো শর্তে সমঝোতা করে নেওয়াতে কোনো দোষ নেই। বরং সব অবস্থায়ই সমঝোতা-সন্ধি-মীমাংসাই অত্যন্ত কল্যাণময়।” (সূরা নিসা : ১২৮)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম শাওকানী লিখেছেন ও সমঝোতার ফলেই উভয়ের মনের মিল হতে পারে, পারস্পরিক বিরোধ দূর হয়ে যায় তাই মোটামুটিভাবে অনেক উত্তম কাজ কিংবা তা অতীব উত্তম বিচ্ছেদ হওয়া থেকে, বেশী উত্তম ঝগড়া-ফাসাদ থেকে।
হাসিমুখে অভ্যর্থনা :
এ পরিপ্রেক্ষিতে একথাও উল্লেখযোগ্য যে স্বামী যখনই বাহির থেকে ঘরে ফিরে আসেন, তখন স্ত্রীর কর্তব্য হচ্ছে হাসিমুখে তাকে অভ্যর্থনা করা - স্বাগতম জানানো। কারণ স্ত্রীর স্মিতহাস্যে বিরাট আকর্ষণ রয়েছে, যার দরুণ স্বামীর মনের জগতে এমন মধুভরা মলয়-হিল্লোল বয়ে যায় যে, তার হৃদয় জগতের সব গ্লালিমা-শ্রান্তি-ক্লান্তিজনিত সব বিষাদ-ছায়া তৎক্ষণাৎ দূরীভূত হয়ে যায়। স্বামী যত ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়েই ঘরে ফিরে আসুক না কেন এবং তার হৃদয় যত বড় দুঃখ, কষ্ট ও ব্যর্থতায়ই ভারাক্রান্ত হোক না কেন, স্ত্রীর মুখে অকৃত্রিম ভালোবাসাপূর্ণ হাসি দেখতে পেলে সে তার সব কিছুই নিমেষে ভুলে যেতে পারে।
কাজেই যেসব স্ত্রী স্বামীর সামনে গোমরা মুখ করে থাকেন, প্রাণখোলা কথা বলেন না স্বামীর সাথে, স্বামীকে উদার হৃদয়ে ও সহাস্যবদনে বরণ করে নিতে জানেন না বা করেন না, তারা নিজেরাই নিজেদের ঘর ও পরিবারকে, নিজেদেরই একমাত্র আশ্রয় দাম্পত্য জীবনকে ইচ্ছে করেই অশান্তিতে পরিণত করেন, বিষায়িত করে তোলেন গোটা পরিবেশটাকে।
রসূলে কারীম (ﷺ) এ কারণেই ভালো স্ত্রীর অন্যতম একটি গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন : “স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দৃষ্টি পড়লেই স্ত্রী তাকে সন্তুষ্ট করে দেয় (স্বামী স্ত্রীকে দেখেই উৎফুল্ল হয়ে উঠে)” (ইবনে মাজাহ]
স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই একটি সাধারণ দোষ হচ্ছে জিদ ও হঠকারিতা। এ দোষ থেকে যথাসম্ভব উভয়কেই মুক্ত থাকতে চেষ্টা করতে হবে। কেননা দেখা গেছে যে কোনো সামান্য ব্যাপারও উভয়ের মর্জী ও মন-মেজাজের বিপরীত ঘটলেই তারা আগুনের মতো জ্বলে ওঠে। তখন তারা যে কোনো বিপর্যয় ঘটাতে ত্রুটি করেন না। আর এতে করে পারস্পরিক সম্পর্কও খারাপ হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। দু’জনের মনই তিক্ত-বিরক্ত হয়ে যায় খুব সহজেই।
অবশ্য অপরিহার্য কোনো ব্যাপার হলে স্ত্রীর কর্তব্য অপরিসীম ধৈর্য সহকারে স্বামীকে বোঝানো। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে প্রেম-ভালোবাসার অমৃত ধারায় স্বামীর মনের সব কালিমা ধুয়ে মুছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা। তার বদলে রাগ করে, মুখ ভার করে, তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া-ঝাটি করে গোটা পরিবেশটাকে বিষাক্ত করে তোলা তার কখনও উচিত নয়। স্বামীকে অসন্তুষ্ট বা ক্রুদ্ধ দেখতে পেলে যথাসম্ভব শান্ত ও নরম হয়ে যাওয়া স্ত্রীর কর্তব্য, কারণ মহান আল্লাহ স্ত্রীদেরকে কিছু স্পেশাল পাওয়ার দিয়েছেন। আর নিজেদের মনের ঝাল মেটানো যদি অপরিহার্য হয়ে পড়ে, তাহলে তা অপর এক সময়ের জন্যে অপেক্ষায় রেখে দেয়া যেতে পারে, পরে এমন এক সময় এবং এমনভাবে তা করতে হবে, যাতে করে পারস্পরিক সম্পর্ক কিছুমাত্র তিক্ত হয়ে উঠবে না।
স্ত্রীর বাড়াবাড়ি ও ক্রুদ্ধ মেজাজ দেখতে পেলে স্বামীর খুব সতর্কতার সাথেই কাজ করা, কথা বলা উচিত। এ অবস্থায় স্বামীরও বাড়াবাড়ি করা কিংবা নিজের সম-মর্যাদার অভিমানে হঠাৎ করে ফেটে পড়া কোনোমতেই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। স্ত্রীর কাছে কিছুটা ছোট হয়েও যদি পরিস্থিতি আয়ত্তে রাখা যায়, তবে স্বামীর তাই করা কর্তব্য। কেননা তাতেই তার ও গোটা পরিবারের কল্যাণ নিহিত। আল কুরআনে আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে বলেছেন :
“কোনো স্ত্রী যদি তার স্বামীর বদমেজাজী ও তার প্রতি প্রত্যাখ্যান উপেক্ষা অবহেলা দেখতে পায় আর তার পরিণাম ভালো না হওয়ার আশংকা বোধ করে, তাহলে উভয়ের যে কোনো শর্তে সমঝোতা করে নেওয়াতে কোনো দোষ নেই। বরং সব অবস্থায়ই সমঝোতা-সন্ধি-মীমাংসাই অত্যন্ত কল্যাণময়।” (সূরা নিসা : ১২৮)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম শাওকানী লিখেছেন ও সমঝোতার ফলেই উভয়ের মনের মিল হতে পারে, পারস্পরিক বিরোধ দূর হয়ে যায় তাই মোটামুটিভাবে অনেক উত্তম কাজ কিংবা তা অতীব উত্তম বিচ্ছেদ হওয়া থেকে, বেশী উত্তম ঝগড়া-ফাসাদ থেকে।
হাসিমুখে অভ্যর্থনা :
এ পরিপ্রেক্ষিতে একথাও উল্লেখযোগ্য যে স্বামী যখনই বাহির থেকে ঘরে ফিরে আসেন, তখন স্ত্রীর কর্তব্য হচ্ছে হাসিমুখে তাকে অভ্যর্থনা করা - স্বাগতম জানানো। কারণ স্ত্রীর স্মিতহাস্যে বিরাট আকর্ষণ রয়েছে, যার দরুণ স্বামীর মনের জগতে এমন মধুভরা মলয়-হিল্লোল বয়ে যায় যে, তার হৃদয় জগতের সব গ্লালিমা-শ্রান্তি-ক্লান্তিজনিত সব বিষাদ-ছায়া তৎক্ষণাৎ দূরীভূত হয়ে যায়। স্বামী যত ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়েই ঘরে ফিরে আসুক না কেন এবং তার হৃদয় যত বড় দুঃখ, কষ্ট ও ব্যর্থতায়ই ভারাক্রান্ত হোক না কেন, স্ত্রীর মুখে অকৃত্রিম ভালোবাসাপূর্ণ হাসি দেখতে পেলে সে তার সব কিছুই নিমেষে ভুলে যেতে পারে।
কাজেই যেসব স্ত্রী স্বামীর সামনে গোমরা মুখ করে থাকেন, প্রাণখোলা কথা বলেন না স্বামীর সাথে, স্বামীকে উদার হৃদয়ে ও সহাস্যবদনে বরণ করে নিতে জানেন না বা করেন না, তারা নিজেরাই নিজেদের ঘর ও পরিবারকে, নিজেদেরই একমাত্র আশ্রয় দাম্পত্য জীবনকে ইচ্ছে করেই অশান্তিতে পরিণত করেন, বিষায়িত করে তোলেন গোটা পরিবেশটাকে।
রসূলে কারীম (ﷺ) এ কারণেই ভালো স্ত্রীর অন্যতম একটি গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন : “স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দৃষ্টি পড়লেই স্ত্রী তাকে সন্তুষ্ট করে দেয় (স্বামী স্ত্রীকে দেখেই উৎফুল্ল হয়ে উঠে)” (ইবনে মাজাহ]