১
সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৮
স্বামীর সাথে সম্পর্ক মজবুত করবো কিভাবে?
আমরা যারা বিবাহিতা তার সর্বপ্রথম সম্পর্ক হচ্ছে স্বামীর সংগে। স্বামীর সাথে আমাকে আমার জীবনের অর্জিত সমস্ত ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী কাজে লাগাতে হবে, তাকে যথোপযুক্ত মর্যাদা প্রদর্শন করতে হবে। প্রীতি ও ভালোবাসা দিয়ে স্বামীর হৃদয় জয় করতে হবে, তার সুখে দুঃখে সমভাগী হওয়া আমার একান্ত কর্তব্য।
মনে রাখতে হবে আমার স্বামীই হচ্ছেন আমার প্রথম লক্ষ্য। আমার দায়িত্ব তাকে সঠিক পথে পরিচালনা করা। তিনি যদি আগে থেকেই সঠিক পথের অনুসারী হয়ে থাকেন তবে তাকে তার পথে অবিচল থাকাতে উৎসাহ ও প্রেরণা যোগানো আমার এ মুহর্তের প্রধান কাজ। মনে রাখতে হবে, আমি চাইলে আমার স্বামীকে সহজেই সুপথে আনতে পারি কিংবা তাকে সুপথে রাখতে পারি। আমি যদি তাকে আমার বিলাস দ্রব্য, দামী শাড়ী, সোনা-গয়না ও অন্যান্য প্রসাধনীর জন্যে বাধ্য না করি, তাহলে স্বভাবতঃই আমার স্বামী হালাল রোজগারে উৎসাহ পাবেন। যদি আমি সর্বদা এসব জিনিসের জন্যে তাকে উত্যক্ত করি তাহলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার স্বামী অন্যায় পথে পা বাড়াতে পারেন, আর এধরনের কিছু করলে তার দায়িত্ব সর্বাংশে কিন্তু আমাকেই বহন করতে হবে। সুতরাং সর্বপ্রথম আমি শপথ নেবো যে, আমি আমার স্বামীকে সুপথে রাখার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। কোনো স্বামীকে সুপথে রাখার জন্যে প্রীতি ও ভালোবাসা দিয়ে তার স্ত্রী যে কাজটুকু করতে পারে, অন্য কারো পক্ষে তার শতাংশও করা সম্ভব নয়।
আমি আমার স্বামীর চিন্তাধারা বদলানোর ব্যাপারেও যথেষ্ট সাহায্য করতে পারি। অবশ্য আল্লাহ তা'আলা না করুন, তেমন কোনো স্বামী যদি ভাগ্যে থাকে তাহলেই আমাকে এ কাজ করতে হবে। আমি আমার যুক্তি প্রমাণ ও চরিত্র দিয়ে যদি একবার স্বামীর সামনে যথার্থভাবে ইসলামী আদর্শের ছবি তুলে ধরতে পারি তাহলে আমার পক্ষে এ কাজ করা অনেকটা সহজ হবে।
অনেক সময় এমনও দেখা গেছে, স্বামী বেচারা বিয়ের আগে থেকেই ভালো, সৎ ও দ্বীনদার, বিয়ে হয়েছে হয়তো কোনো তথাকথিত আধুনিকা নারীর সাথে। অল্প দিনের মধ্যেই দেখা গেলো স্বামীর দ্বীন, ঈমান, ধর্মকর্ম সবই শেষ হয়ে গেছে। আধুনিকা স্ত্রীকে খুশী রাখার জন্যে তিনি তার দ্বীন-ধর্ম সবই বিসর্জন দিয়েছেন।
আবার এমনও দেখা গেছে যে, স্বামী বিয়ের আগে ছিলো নিতান্ত বৈষয়িক, ধর্ম বিমুখ- ক্ষেত্র বিশেষে ধর্মবিরোধীও। কিন্তু ন্যায়পরায়ণা সতী-সাধ্বী স্ত্রীর সাহায্যে অল্প দিনের মধ্যেই তার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিলো। এ সবই সম্ভব একজন নারীর সাহায্যে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নারী স্বামীকে যেমন খারাপ করতে পারে তেমনি তাকে ভালো মানুষও বানাতে পারে। তাই আমাকে প্রতি মূহুর্তেই এ মৌলিক কথাটি স্মরণ রাখতে হবে। অনেক পরিবারে দেখা যায় স্ত্রী কোন ইসলামিক প্রোগ্রামে যাক সেটা স্বামী পছন্দ করেন না। আবার স্বামী নিজেও কোন ইসলামিক প্রোগ্রামে যান না। অনেক স্বামীই আছেন অবসর পেলেই ঘরে বসে সারাক্ষণ হিন্দি মুভি আর নাটক দেখতে থাকেন। মনে রাখতে হবে সারাক্ষণ এই ধরনের আজেবাজে মুভি-নাটক দেখে ধীরে ধীরে আমাদের ব্রেইনে এক ধরনের অসুস্থতা ঢুকে যাচ্ছে যা একসময়ে গোটা পারিবারিক জীবনে নিয়ে আসবে অশান্তি। এক্ষেত্রে আমি স্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব আরো অনেক বেশী। আমাকে যে করেই হোক আস্তে আস্তে বাসায় একটা ইসলামী পরিবেশ তৈরী করতে হবে। ইবলিস (শয়তান) কে বাসা থেকে তাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে ঘরে কোন ইসলাম বিরোধী কাজ-কারবার হয় সে ঘরে আল্লাহর রহমত ও বরকত থাকতে পারে। আসুন চেষ্টা করি স্বামীকে কিভাবে নামাজী বানানো যায়, তাকে নিয়মিত মসজিদে পাঠানো যায়। আসুন মাঝে মাঝে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ঘরে জামাতের সাথে সলাত আদায় করি, নিয়মিত ইসলামিক ডিভিডি দেখি, কুরআন- হাদীসের আলোচনা করি।
মহান আল্লাহ আমাদের নিয়তের কথা জানেন। কেউ যদি এভাবে জীবনকে সাজাতে চায় তাহলে অবশ্যই আল্লাহর তরফ থেকে সাহায্য আসবে। ইনশাআল্লাহ। ঘরে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসবে।
মনে রাখতে হবে আমার স্বামীই হচ্ছেন আমার প্রথম লক্ষ্য। আমার দায়িত্ব তাকে সঠিক পথে পরিচালনা করা। তিনি যদি আগে থেকেই সঠিক পথের অনুসারী হয়ে থাকেন তবে তাকে তার পথে অবিচল থাকাতে উৎসাহ ও প্রেরণা যোগানো আমার এ মুহর্তের প্রধান কাজ। মনে রাখতে হবে, আমি চাইলে আমার স্বামীকে সহজেই সুপথে আনতে পারি কিংবা তাকে সুপথে রাখতে পারি। আমি যদি তাকে আমার বিলাস দ্রব্য, দামী শাড়ী, সোনা-গয়না ও অন্যান্য প্রসাধনীর জন্যে বাধ্য না করি, তাহলে স্বভাবতঃই আমার স্বামী হালাল রোজগারে উৎসাহ পাবেন। যদি আমি সর্বদা এসব জিনিসের জন্যে তাকে উত্যক্ত করি তাহলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার স্বামী অন্যায় পথে পা বাড়াতে পারেন, আর এধরনের কিছু করলে তার দায়িত্ব সর্বাংশে কিন্তু আমাকেই বহন করতে হবে। সুতরাং সর্বপ্রথম আমি শপথ নেবো যে, আমি আমার স্বামীকে সুপথে রাখার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। কোনো স্বামীকে সুপথে রাখার জন্যে প্রীতি ও ভালোবাসা দিয়ে তার স্ত্রী যে কাজটুকু করতে পারে, অন্য কারো পক্ষে তার শতাংশও করা সম্ভব নয়।
আমি আমার স্বামীর চিন্তাধারা বদলানোর ব্যাপারেও যথেষ্ট সাহায্য করতে পারি। অবশ্য আল্লাহ তা'আলা না করুন, তেমন কোনো স্বামী যদি ভাগ্যে থাকে তাহলেই আমাকে এ কাজ করতে হবে। আমি আমার যুক্তি প্রমাণ ও চরিত্র দিয়ে যদি একবার স্বামীর সামনে যথার্থভাবে ইসলামী আদর্শের ছবি তুলে ধরতে পারি তাহলে আমার পক্ষে এ কাজ করা অনেকটা সহজ হবে।
অনেক সময় এমনও দেখা গেছে, স্বামী বেচারা বিয়ের আগে থেকেই ভালো, সৎ ও দ্বীনদার, বিয়ে হয়েছে হয়তো কোনো তথাকথিত আধুনিকা নারীর সাথে। অল্প দিনের মধ্যেই দেখা গেলো স্বামীর দ্বীন, ঈমান, ধর্মকর্ম সবই শেষ হয়ে গেছে। আধুনিকা স্ত্রীকে খুশী রাখার জন্যে তিনি তার দ্বীন-ধর্ম সবই বিসর্জন দিয়েছেন।
আবার এমনও দেখা গেছে যে, স্বামী বিয়ের আগে ছিলো নিতান্ত বৈষয়িক, ধর্ম বিমুখ- ক্ষেত্র বিশেষে ধর্মবিরোধীও। কিন্তু ন্যায়পরায়ণা সতী-সাধ্বী স্ত্রীর সাহায্যে অল্প দিনের মধ্যেই তার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিলো। এ সবই সম্ভব একজন নারীর সাহায্যে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নারী স্বামীকে যেমন খারাপ করতে পারে তেমনি তাকে ভালো মানুষও বানাতে পারে। তাই আমাকে প্রতি মূহুর্তেই এ মৌলিক কথাটি স্মরণ রাখতে হবে। অনেক পরিবারে দেখা যায় স্ত্রী কোন ইসলামিক প্রোগ্রামে যাক সেটা স্বামী পছন্দ করেন না। আবার স্বামী নিজেও কোন ইসলামিক প্রোগ্রামে যান না। অনেক স্বামীই আছেন অবসর পেলেই ঘরে বসে সারাক্ষণ হিন্দি মুভি আর নাটক দেখতে থাকেন। মনে রাখতে হবে সারাক্ষণ এই ধরনের আজেবাজে মুভি-নাটক দেখে ধীরে ধীরে আমাদের ব্রেইনে এক ধরনের অসুস্থতা ঢুকে যাচ্ছে যা একসময়ে গোটা পারিবারিক জীবনে নিয়ে আসবে অশান্তি। এক্ষেত্রে আমি স্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব আরো অনেক বেশী। আমাকে যে করেই হোক আস্তে আস্তে বাসায় একটা ইসলামী পরিবেশ তৈরী করতে হবে। ইবলিস (শয়তান) কে বাসা থেকে তাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে ঘরে কোন ইসলাম বিরোধী কাজ-কারবার হয় সে ঘরে আল্লাহর রহমত ও বরকত থাকতে পারে। আসুন চেষ্টা করি স্বামীকে কিভাবে নামাজী বানানো যায়, তাকে নিয়মিত মসজিদে পাঠানো যায়। আসুন মাঝে মাঝে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ঘরে জামাতের সাথে সলাত আদায় করি, নিয়মিত ইসলামিক ডিভিডি দেখি, কুরআন- হাদীসের আলোচনা করি।
মহান আল্লাহ আমাদের নিয়তের কথা জানেন। কেউ যদি এভাবে জীবনকে সাজাতে চায় তাহলে অবশ্যই আল্লাহর তরফ থেকে সাহায্য আসবে। ইনশাআল্লাহ। ঘরে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসবে।