hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৪

মহিলাদের চাকুরী

ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে পুরুষের দায়িত্ব হলো সংসারের সকল খরচ বহন করা। অর্থাৎ পরিবারের ভরণ-পোষণের সমস্ত দায়দায়িত্ব স্বামীর (সহীহ বুখারী) স্ত্রী চাকুরী করতে বাধ্য না বা তাকে আয়-রোজগার করার জন্য স্বামী কোন প্রকার চাপ প্রয়োগও করতে পারবেন না। হ্যা যদি স্ত্রী চাকুরী করার কারণে সংসারে অতিরিক্ত কিছু আসে তাহলে তা আলহামদুলিল্লাহ তবে স্ত্রী অবশ্যই পর্দার মধ্যে থেকে আয়-রোজগার করবেন। এবং অতিরিক্ত আয় করতে গিয়ে যদি স্ত্রীকে বেপর্দা হতে হয় বা ঠিক মতো পর্দা করা সম্ভব না হয় তাহলে তার দায়দায়িত্ব নিজের আমলনামা ছাড়াও স্বামীর আমলনামায় এসে পরবে। অর্থাৎ এই কবীরা গুনাহর জন্য এবং ফরয হুকুম অমান্য করার জন্য আল্লাহর কাছে দু’জনকেই জবাবদিহি করতে হবে।

চিত্র ১ :

যদি পরিবারের অবস্থা এমন হয় যে স্বামী চাকুরী করতে শারীরিকভাবে অক্ষম (disable) এবং স্ত্রী-ই একমাত্র কাজের জন্য যোগ্য তাহলে তো কোন উপায়ই নেই। তবে এক্ষেত্রে ও স্ত্রীকে যতদূর সম্ভব পর্দার মধ্যে থেকে চাকুরী করতে হবে। এবং জীবন বাঁচানোর জন্য পর্দা কিছুটা ভঙ্গ হলেও আর একটি ভাল চাকুরীর সন্ধানে থাকতে হবে এবং পর্দা বজায় রেখে কাজ করা যায় এমন চাকুরীতে যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্তন করতে হবে।

চিত্র ২ :

এমন যদি হয় যে স্বামী তার প্রফেশন অনুযায়ী চাকুরী পাচ্ছেন না এবং তিনি তার এডুকেশন অনুযায়ী প্রফেশন ছাড়া চাকুরীও করবেন না বা ভাল অন্য কোন প্রফেশন ছাড়াও চাকুরী করবেন না এবং তিনি হয়তো আরো পড়াশোনা করবেন। আর তাই স্ত্রীকে যদি বেপর্দা হয়ে চাকুরী করতে হয় তাহলে এক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। স্বামীকে আল্লাহর উপর ভরসা করে যে কোন হালাল কাজ বেছে নিতে হবে একটু কষ্ট হলেও নিজ প্রফেশনে চাকুরী না পাওয়া পর্যন্ত। মহান আল্লাহ বলেন।

“যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ সম্পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।” (সূরা তালাক : ৩)

চিত্র ৩ :

আলহামদুলিল্লাহ আজকাল বেশীরভাগ মহিলারাই শিক্ষিতা, শুধু তাই নয় অনেকেই উচ্চ শিক্ষিতা। আমরা শিক্ষিতারা অনেকেই মনে করি যে এত পড়াশোনা করেছি, কিভাবে ঘরে বসে থাকি? একটা কিছু করা প্রয়োজন, শিক্ষাটাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। শিক্ষাকে অবশ্যই কাজে লাগানো প্রয়োজন, আর এই শিক্ষাকে কিভাবে কাজে লাগাবো, কোন ক্ষেত্রে কাজে লাগবো সেদিকে ভেবে চিন্তে এগুতে হবে। সবকিছুর মূলে হচ্ছে তাকওয়া (আল্লাহভীতি), কারণ আমি যত উচ্চ শিক্ষিতাই হই না কেন আমাকে একদিন আখিরাতের ময়দানে মহান বিচারকের সামনে দাঁড়াতে হবে, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর এক এক করে দিতে হবে। তাই আমরা যা কিছু করব তা অবশ্যই তাকওয়ার সীমার মধ্যে থেকে করব এবং কোন ক্ষেত্রেই সীমালঙ্ঘন করব না, আল্লাহর কোন হুকুমকেই অমান্য করব না। এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহর প্রতিটি হুকুম পালনের মধ্যেই রয়েছে আমাদের প্রকৃত কল্যাণ।

তাই কোন মহিলাকে যদি চাকুরি করতেই হয় তাহলে বাছবিচার না করে এবং অতিরিক্ত টাকার প্রতি না ঝুঁকে দেখে-শুনে এমন চাকুরী নেয়া উচিত যেন পর্দা করে চলতে পারেন। একটু কম বেতনের চাকুরি হলেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাকে অন্যদিক দিয়ে প্রচুর পরিমাণে বরকত দিয়ে দিবেন কারণ আমি মহান আল্লাহ তা'আলার ফরয নির্দেশ পালন করার চেষ্টা করছি। মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের সহায় হোন।

যেমন, মহিলাদের বেশী বেশী ডাক্তারী পেশায় যাওয়া উচিত যেন মুসলিম মহিলা রোগীরা তার কাছ থেকে সেবা পেতে পারেন, আইনবিদ হওয়া উচিত যাতে মুসলিম মহিলারা তাদের কেইস নিয়ে তাদের কাছে যেতে পারেন, সাংবাদিক হওয়া উচিত যাতে তারা মহিলাদের বিষয়গুলো মিডিয়াতে তুলে ধরতে পারেন। এমন অনেক পেশা আছে যেগুলোতে আমাদের মহিলাদের অবশ্যই যাওয়া উচিত যাতে মুসলিম মহিলারা উপকৃত হতে পারেন।