hadith book logo

সুখী ও সুন্দর পরিবার গঠন

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪০

সন্তান মানুষ করা নারীর একটি প্রধান কাজ

সন্তান মানুষ করা বাবা ও মা দু’জনেরই দায়িত্ব। এখানে মায়ের ভূমিকাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো।

প্রথম :

ছেলেমেয়েরা বড় হবার সাথে সাথে তাদের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান দানের চেষ্টা করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইসলামী না হওয়ায় এ দায়িত্ব আমাকে ঘরের ভেতরেই ব্যবস্থা করতে হবে। সন্তানের প্রথম বয়সেই আল্লাহ, রসূল, পরকাল ও আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করার একটি আন্তরিক আগ্রহ তার মনে সৃষ্টি করতে হবে। যদি বাল্য বয়সেই আমি এসব কথা তাকে যথার্থভাবে অনুধাবন করতে পারি, তাহলে সারাজীবন সে এর সুফল ভোগ করবে ইনশাআল্লাহ।

দ্বিতীয় :

ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান দান করার সাথে সাথে তার জীবনেও ইসলাম প্রতিফলিত করার চেষ্টা করে যেতে হবে। তাকে প্রথম বয়সেই সলাত, সিয়াম ও শরীয়তের অন্যান্য অনুশাসন মেনে চলার তাগিদ দিতে হবে। প্রথম বয়সে তাকে কুরআন শুদ্ধ করে তিলাওয়াতের শিক্ষা দিতে হবে এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তাকে প্রতিদিন কুরআনের তাফসীর (অর্থসহ ব্যাখ্যা) এবং কিছু কিছু করে সহীহ হাদীসও পাঠ করাতে শুরু করতে হবে। এগুলোকে তার জীবনে যথাযথ প্রতিফলিত করার জন্যে আমাকেই সচেষ্ট হতে হবে।

তৃতীয় :

আমার ছেলেমেয়েদের সত্যিকার একজন মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে আমি তাদেরকে নবী রসূলদের জীবনী, সাহাবাদের জীবনী, আখিরাতের দৃশ্যসম্বলিত কথাবার্তা, অতীত মুজাহিদদের জীবন ও কর্ম শোনাতে পারি। এসব ইতিহাসের মাধ্যমে তাদের সত্যিকার মুসলিম করে তোলার চেষ্টা করতে হবে। ইসলামী শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে তাদের বয়স, যোগ্যতা ও অনুধাবন শক্তিকে অবশ্যই সামনে রাখা দরকার। আমি যদি সাবধান ও সচেষ্ট হই তাহলে এভাবে নিয়মিত শিক্ষার মাধ্যমে তাকে ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছুই শিক্ষা দিতে পারবো, ইনশাআল্লাহ। ব্যক্তি ও সামষ্টিক জীবনে ধোঁকা, প্রতারণা, মিথ্যা, শঠতা ও প্রতিশ্রুতি ভংগ করার অশুভ প্রতিক্রিয়াও আমি তাদেরকে জানাতে পারি।

চতুর্থ :

প্রতি মুহূর্তেই আমাকে একথা মনে রাখতে হবে যে’আমার সন্তানের চিন্তা চেতনা, চরিত্র, আমার সন্তানের কাজকর্ম, আচার আচরণ, চালচলন উত্তম হওয়ার উপরই আমার নারী জনমের সবটুকু সার্থকতা নির্ভর করছে। আমি নিশ্চয়ই মহানবী 4-এর সে হাদীসটির কথা শুনেছি। তিনি বলেছেন, মানুষ মরে গেলে তার আমলনামা বন্ধ হয়ে যায়। যে তিনটি বিষয়ের সুফল তার মৃত্যুর পরও জারী থাকে তার মধ্যে একটি হচ্ছে সু-সন্তান। সু-সন্তান পৃথিবীতে রেখে গেলে মৃত্যুর পরও আমার কবরে আমার সন্তানের নেক আমলের সমপরিমাণ নেকী পেঁৗছাতে থাকবে। আমার রেখে যাওয়া সু-সন্তান যতোগুলো ভালো কাজ করবে, তাদের দেখাদেখি আরো যারা তাদের অনুসরণে ভালো। কাজ করবে তাদের সমপরিমাণ সওয়াব আমিও পাবো।

ঠিক এভাবে যদি কেউ কু-সন্তান রেখে যান তাহলে তার পরিণামও একইভাবে তাকে ভোগ করতে হবে। আমার জান্নাতে যাওয়া-আমার জাহান্নামে যাওয়া থেকে মুক্তি লাভ করা বহুলাংশে নির্ভর করছে আমার সু-সন্তান অর্থাৎ খাঁটি মুসলিম সন্তান রেখে যাওয়ার উপর। শত চেষ্টা করার পরও যদি সন্তান মানুষ না হয় সেটা আল্লাহ দেখবেন তবে আমাকে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যেতে হবে, হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না।