১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০৫
ব্যক্তিগত প্রয়াস
এই হেমন্ত কালেও ইসলামরূপ বৃক্ষে সবুজ কিশলয়ের উন্মষ ঘটেছে এবং হেমন্তেও তা এমন সব ফল-ফুলের উদ্গম ঘটিয়েছে যার দৃষ্টান্ত ইসলামের বসন্ত মৌসুমেও খুব একটা বেশি পাওয়া যায় না এবং এর উদাহরণ পেশ করতে অপরাপর জাতির ইতিহাস অক্ষম। এই যুগ জাতীয় অধঃপতন ও স্থবিরতার। কিন্তু সাথে সাথে তা কতিপয় প্রতিভাধর ব্যক্তিত্বের দৃঢ় সংকল্প, অটুট ইচ্ছা শক্তি, ব্যক্তিগত চেষ্টা-সাধনার যুগ হিসেবেও দৃষ্টিগোচর হয়। কয়েকটি দেশে এমন কয়েকজন অটুট ইচ্ছাশক্তি ও সংকল্প, অদম্য মনোবল ও জাগ্রত মস্তিষ্কের অধিকারী নেতা ও মুজাহিদের আবির্ভাব ঘটে যারা ঐসব পতনোন্মুখ ও অধমুখী জাতিগোষ্ঠী ও দেশের মাঝে কিছু কালের জন্য হলেও নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন। ভারতবর্ষে সুলতান ফতহ আলী টিপুর মত উন্নত মনোবলসম্পন্ন সমুন্নত দৃষ্টির অধিকারী সিংহহৃদয় নেতার জন্ম হয় যিনি ভারতবর্ষকে বিদেশী বিপদাশংকা থেকে প্রায় মুক্তই করে ফেলতে চলেছিলেন। অপর দিকে হযরত সাইয়েদ আহমদ শহীদের মত অটুট মনোবলসম্পন্ন ও প্রভাব সৃষ্টিকারী দাঈ ও মুজাহিদ জন্ম নেন যিনি খেলাফতে রাশেদার মূলনীতির ওপর এমন একটি ইসলামী হুকুমত কায়েম করতে চাইতেন যার গণ্ডী ভারতবর্ষ থেকে শুরু করে বুখারা অবধি। বিস্তৃত হবে। তার দাওয়াত ও প্রশিক্ষণ হাজার হাজার সংখ্যায় এমন সব সমুন্নত চরিত্রের মুজাহিদ, অটুট মনোবলসম্পন্ন ও উৎসর্গিতপ্রাণ দাঈ, মুবাল্লিগ ও সিপাহী জন্ম দেয় যারা নিজেদের ঈমান ও ইয়াকীন, লিল্লাহিয়াত ও ইখলাস এবং ধর্মীয় জোশ ও মর্যাদাবোধের সেই প্রাথমিক যুগগুলোর স্মৃতিকেই যেন জাগিয়ে তোলেন। কিন্তু জাতীয় অধঃপতন, সামাজিক বিকৃতি ও বিশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক অসচেতনতা এই পর্যায়ে গিয়ে উপনীত হয়েছিল যে, এ রকম বিশাল ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্বও মুসলমানদের অবস্থা এবং তাদের অবনতি ও অধঃপতনের গতির ভেতর কোন বড় রকমের পরিবর্তন সাধনে সক্ষম হননি এবং মুসলিম উম্মাহ সামগ্রিকভাবে ঐসব মুজাহিদসুলভ ও পুনঃজাগরণমূলক কর্মপ্রয়াস থেকে উপকৃত হতে পারেনি।