১
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪
যৌন অরাজকতা
যৌন আবেগ ও যৌনপ্রবণতাকে উস্কানি দানকারী উপাদান ধর্মীয়রূপে যতটা ভারতবর্ষের প্রাচীন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে দেখতে পাওয়া যায় ততটা পৃথিবীর আর কোন দেশে পাওয়া যায় না। দেশের পবিত্র গ্রন্থসমূহ ও ধর্মীয় মহলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী এবং সৃষ্টি ও জন্মের কার্যকারণ বিশ্লেষণ, দেবতা ও দেব-দেবীদের সঙ্গম, সহবাস এবং কোন কোন সম্রান্ত পরিবারের এমন সব ঘটনা ও বর্ণনা বিবৃত করেছে যা শুনলে লজ্জায় মাথা নীচু ও কপাল ঘর্মাক্ত হয়ে। পড়ে। বড়ই নিষ্ঠা ও ভক্তিসুলভ আবেগের সাথে উল্লিখিত কাহিনীগুলো পুনরাবৃত্তিকারীর সহজ সরল ধর্মপরায়ণ লোকদের ওপর যে প্রভাব পড়ে তা সহজেই অনুমেয়। তাদের মনের অজান্তেই তাদের স্নায়ু ও আবেগের ওপর এসব বর্ণিত কাহিনীর যে প্রভাব পড়ে থাকবে তা বলাই বাহুল্য। এতদ্ভিন্ন বড় দেবতা শিবের লিঙ্গের পূজা হতো এবং শিশু-যুবা ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই এতে অংশ গ্রহণ করত। ডক্টর গুস্তাভ-লীবন-এর গুরুত্ব ও এরই সাথে ভারতবাসীদের এর প্রতি আকর্ষণ সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে বলেনঃ মূর্তি ও বাহ্যিক প্রতীকের প্রতি হিন্দুদের আকর্ষণ ও অনুরাগ সীমাহীন। তাদের ধর্ম যা-ই হোক, তার অনুষ্ঠানাদি তারা অত্যন্ত যত্ন ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে। তাদের মন্দিরগুলো আরাধ্য সামগ্রী দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। এসবের মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য হলো ‘লিঙ্গ’ ও ‘যোনী’ যা প্রজননেরই ইঙ্গিতবহ। অশোক স্তম্ভকেও সাধারণ হিন্দুরা লিঙ্গের প্রতীক বলে মনে করে থাকে। ঊর্ধ্বমুখী শঙ্কু আকৃতির বস্তু মাত্রই তাদের কাছে সম্মানার্য।২
কতক ঐতিহাসিক বর্ণনা করেন যে, একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পুরুষেরা উলঙ্গ মহিলাদের এবং মহিলারা উলঙ্গ ও নগ্ন পুরুষদের পূজা করত।৩ মন্দিরের রক্ষী ও পুরোহিতরা ছিল যাবতীয় অনাচার ও অপকর্মের হোতা এবং বহু উপাসনালয় ছিল যৌন অপরাধের আখড়া। রাজপ্রাসাদ ও শাহী দরবারগুলোতে দেদারসে মদ পান চলত এবং পাননান্মত্ত অবস্থায় নৈতিকতার সীমা লংঘিত হতো।
এরূপ দৈহিক ভোগ-বিলাস ও ইন্দ্রিয় পূজার পাশাপাশি আত্মহনন, যোগ সাধনা ও তপস্যার ধারাও অব্যাহত ছিল যার মধ্যে সীমাতিরিক্ত বাড়াবাড়ির আশ্রয় গ্রহণ করা হতো। দেশ ও রাষ্ট্র এই দুই চরম প্রান্তিকতার মাঝখানে ছিল ভারসাম্যহীন ও দোদুল্যমান। গুটি কয়েক লোক আত্মহনন ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সাধনায় মগ্ন ছিল আর সাধারণ মানুষ ইন্দ্রিয় পূজা ও ভোগবাদী স্রোতধারায় ভেসে চলছিল।
[১. হিউয়েন সাঙ-এর সফরনামা; ]
[২. তমন-ই হিন্দ, পৃ. ৪৪১; ]
[৩. দয়ানন্দ সরস্বতী, সত্যার্থ প্রকাশ, পৃ. ৩৪৪। ]
কতক ঐতিহাসিক বর্ণনা করেন যে, একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পুরুষেরা উলঙ্গ মহিলাদের এবং মহিলারা উলঙ্গ ও নগ্ন পুরুষদের পূজা করত।৩ মন্দিরের রক্ষী ও পুরোহিতরা ছিল যাবতীয় অনাচার ও অপকর্মের হোতা এবং বহু উপাসনালয় ছিল যৌন অপরাধের আখড়া। রাজপ্রাসাদ ও শাহী দরবারগুলোতে দেদারসে মদ পান চলত এবং পাননান্মত্ত অবস্থায় নৈতিকতার সীমা লংঘিত হতো।
এরূপ দৈহিক ভোগ-বিলাস ও ইন্দ্রিয় পূজার পাশাপাশি আত্মহনন, যোগ সাধনা ও তপস্যার ধারাও অব্যাহত ছিল যার মধ্যে সীমাতিরিক্ত বাড়াবাড়ির আশ্রয় গ্রহণ করা হতো। দেশ ও রাষ্ট্র এই দুই চরম প্রান্তিকতার মাঝখানে ছিল ভারসাম্যহীন ও দোদুল্যমান। গুটি কয়েক লোক আত্মহনন ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সাধনায় মগ্ন ছিল আর সাধারণ মানুষ ইন্দ্রিয় পূজা ও ভোগবাদী স্রোতধারায় ভেসে চলছিল।
[১. হিউয়েন সাঙ-এর সফরনামা; ]
[২. তমন-ই হিন্দ, পৃ. ৪৪১; ]
[৩. দয়ানন্দ সরস্বতী, সত্যার্থ প্রকাশ, পৃ. ৩৪৪। ]