hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫৬

এশীয় ও প্রাচ্যের জাতিগোষ্ঠীসমূহ

এশীয় ও প্রাচ্যের জাতিগুলো ও বিভিন্ন সাম্রাজ্য বিভিন্ন গতিতে সভ্যতা ও রাজনীতির সেই মনযিলের দিকে ধাবমান যার ওপর তারা পাশ্চাত্যের জাতিগুলোকে দূর থেকে দেখছে। তারা সভ্যতা-সংস্কৃতি, নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিকতার সেই নীতিমালা ও দর্শন এবং জীবন ও জগত সম্পর্কে সেই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে যাচ্ছে যা ঐসব পশ্চিমা জাতিগুলোর পরিচয়জ্ঞাপক, চিহ্নে পরিণত হয়েছে। তাদের লোকদের জীবনাদর্শ পশ্চিমা জাতিগোষ্ঠীগুলোর লোকদের থেকে খুব একটা বেশি ভিন্নতর নয়। কেবল এতটুকু ভিন্ন, তারা রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতিপূজার ওপর ভিত্তি করে বিদেশী হুকুমতের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব মানতে এখন আর রাজী নয় এবং তারা এটা চায় না, পাশ্চাত্য জাতিগুলোর বড় বড় সাম্রাজ্য ও শাহানশাহী কায়েম থাকুক, ঐ সব বিজয়ী জাতিগোষ্ঠীর লোকেরা তাদের সাম্রাজ্যের প্রভাব-প্রতিপত্তির দরুন বস্তুগত লাভ ও স্বার্থ দ্বারা লাভবান হোক এবং আড়ম্বর ও আঁকজমকপূর্ণ ও ভোগ-বিলাসের, আল্লাহর শোকর এবং তার অপার কুদরতের এ এক বিস্ময়কর নিদর্শন, এই লাইনগুলো লেখার কয়েক বছর পর কল্পনার বিপরীত রাশিয়ায় বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং সেখানকার মুসলমানরা অনেকখানি ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, হজ্জ গমন ও মুসলিম দেশগুলো ভ্রমণের স্বাধীনতা পেয়েছে যে সম্পর্কে কয়েক বছর আগেও ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন ছিল। আল্লাহতাআলা এ অবস্থা কায়েম রাখুন এবং এর উন্নতি ঘটুক।

জীবন যাপন করুক। ঐসব মজলুম প্রাচ্য জাতিগোষ্ঠীর স্বয়ং নিজেদের ভূখণ্ডেই এসব ফায়দা জুটুক। মূলত ঐসব পাশ্চাত্য জাতিগোষ্ঠীর জীবন-দর্শন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের মৌলিক ও নীতিগত কোন মতপার্থক্য বা বিরোধ নেই। গোটা জাতীয়তাবাদী সাহিত্যে এর প্রতি সামান্যতম ইশারা-ইঙ্গিত পর্যন্ত পাবেন না। ঐসব প্রাচ্য ও এশীয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে কেবল এ নিয়ে মতভেদ যে, এই রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাদের দেশে বিদেশীরা পরিচালনা করবে। তারা এতটুকু কাটছাট না করে এবং এর ব্যাপক ও খুঁটিনাটির মধ্যে আদৌ কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন না করে এই ব্যবস্থাই নিজেরাই নিজেদের দেশে চালাতে চায়। ব্যাপারটা যেন এরকম, তারা দাবার বোর্ড পাল্টাতে চায় না, কেবল খেলোয়াড়ের পরিবর্তন ঘটাতে চায়। অতঃপর তাদের মধ্যে বহু জাতিগোষ্ঠীর স্বয়ং নিজেদের প্রাচীন জাহিলিয়াত রয়েছে যা সহকারে তাদের ভেতরকার বহু জাতিই ফিরিঙ্গী জাহিলিয়াত এখতিয়ার করেছে এবং তারা যদি কখনো কিংবা যখনই ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত হবে ঐ দুই জাহিলিয়াতের সর্বোত্তম উপাদান ও অংশগুলোর বাস্তবায়ন করবে।