hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

জাহেলিয়াত ইসলামের মুকাবিলায়

জাহেলী সমাজ এই দাওয়াত এবং এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বুঝতে ভুল করেনি এবং এর ভেতর সে কোন জটিলতাও অনুভব করেনি। যেই শ্রোতাবৃন্দের কানে তার আওয়াজ পৌঁছেছে তখনই তারা বেশ ভালই বুঝেছে যে, এই আহ্বান এমন এক তীর যা জাহেলিয়াতের টার্গেটে আঘাত হানবে এবং তা এফোঁড়-ওফোড় করে দেবে। বিপদের এই অনুভূতি থেকে জাহেলিয়াতের সমুদ্রে তরঙ্গের সৃষ্টি হলো এবং তা ফুঁসে উঠল। জাহিলিয়াতের বীর পুরুষরা জাহিলিয়াতের শেষ যুদ্ধের জন্যে অস্ত্র সজ্জিত হয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়ল।

( وَٱنطَلَقَ ٱلۡمَلَأُ مِنۡهُمۡ أَنِ ٱمۡشُوا۟ وَٱصۡبِرُوا۟ عَلَىٰۤ ءَالِهَتِكُمۡۖ إِنَّ هَـٰذَا لَشَیۡء ࣱ یُرَادُ )

[Surah Sad 6]

‘ওদের প্রধানেরা সরে পড়ে এই বলে, “তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলোর পূজায় তোমরা অবিচলিত থাক। নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক।' (আল-কুরআন, ৩৮:৬)।

এই জীবনের প্রত্যেক সদস্য পরিষ্কার অনুভব করে যে, জাহেলী সভ্যতার প্রাসাদ-সৌধ টলটলায়মান এবং জীবনের গোটা ব্যবস্থাপনাই বিপদের সম্মুখীন। এই সময় শক্তি ও চাপ প্রয়োগ এবং জুলুম ও বাড়াবাড়ির সেই সব লোমহর্ষক ঘটনাবলী সংঘটিত হয় যে সব ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে সংরক্ষিত। এটা ছিল এ কথার আলামত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম জাহেলিয়াতের ওপর আঘাত হানার জন্য সঠিক টার্গেট নির্বাচন করে ছিলেন এবং তার তীরও সঠিক লক্ষ্যে আঘাত হেনেছিল। তিনি জাহেলিয়াতের শাহরগের ওপর আঘাত হানেন যারা জাহেলিয়াত টলমলিয়ে ওঠে এবং সমগ্র আরব জাহেলিয়াতের সম্ভবত সর্ববৃহৎ দুর্গ যুদ্ধের জন্য ময়দানে অবতীর্ণ হয়। রসূলুল্লাহ (স) তাঁর দাওয়াতের ওপর পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় থাকেন। বিরোধিতার তুফান শুরু হয়। ফেতনার ঝড় বন্যার বেগে আছড়ে পড়ে এবং চলেও যায়। কিন্তু তিনি আপন স্থানে থেকে এক বিন্দুও নড়েন নি। তিনি তাঁর চাচাকে পরিষ্কার বলে দেন।

“চাচাজান! আমার ডান হাতে যদি সূর্য এবং বাম হাতে চাঁদও এনে দেওয়া হয় তবুও এ কাজ আমি পরিত্যাগ করতে পারি না যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা এতে আমাকে সফলতা দান করেন কিংবা আমিই শেষ হয়ে যাই।”১

তিনি মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেন। অবিরত তৌহীদ, রিসালত ও আখিরাতের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান সুস্পষ্টভাবে জানাতে থাকেন। তিনি এজন্য এতটুকু এদিক-ওদিকের পথ অবলম্বন করেন নি কিংবা বিরোধীদের এতটুকু ছাড় দেন নি আর সময়োপযোগিতার দোহাই দিয়ে তিনি তাঁর আহ্বানের ক্ষেত্রে কোনরূপ আপোসকামিতাকেও প্রশ্রয় দেন নি। এই আহ্বান তথা এই দাওয়াতকেই তিনি সকল রোগের দাওয়াই ও সকল প্রকার বদ্ধ তালার চাবি মনে করেন এবং এক মুহুর্তের জন্যও তিনি এ সম্পর্কে সামান্যতম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কিংবা টানাপোড়েনের শিকার হন নি।

[১. আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩য় খণ্ড, ৪৩। ]