hadith book logo

মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৬

জনগণের দুঃখ-দুর্দশা

রোম ও পারস্য উভয় সাম্রাজ্যের অধিবাসীরা দু’টো পৃথক শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। এই দুই শ্রেণীর ভেতর সুস্পষ্ট পার্থক্য ছিল। এক শ্রেণীতে ছিলেন রাজা-বাদশাহ, শাহযাদাবৃন্দ, দরবারের সঙ্গে যুক্ত সভাসদ, তাদের পরিবারবর্গ, আত্মীয়-বান্ধব ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জায়গীরদার ও বিত্তশালী সম্প্রদায়। এ সমস্ত লোক চিরশ্যামল সবুজ বসন্ত উদ্যানে পুষ্প শয্যায় জীবন যাপন করত। তাদের ঘরের লোক ও শিশুরা সোনা-চাদি নিয়ে খেলা করত এবং দুধ ও গোলাপ জলের মধ্যে গোসল করত। তাদের ঘোড়ার নালগুলোও তারা জওয়াহেরাত দ্বারা। মুড়িয়ে রাখত এবং দরজা ও দেওয়ালগুলোকেও রেশম ও কিংখাব দ্বারা সজ্জিত করত।

দ্বিতীয় শ্রেণী ছিল কৃষক, শ্রমিক, শিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বণিকদের যাদের জীবন ছিল আপাদমস্তক দুঃখ-কষ্টে পরিপূর্ণ। এরা জীবনের বোঝা, নিত্য-নৈমিত্তিক ট্যাক্স ও উপহার-উপঢৌকনের ভারে নিষ্পেষিত হচ্ছিল। তাদের শরীরের প্রতিটি গ্রন্থি-উপগ্রন্থি নানারূপ দাবির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা ছিল। আর তারা এই জাল ছিন্ন করার জন্য যেই পরিমাণ চেষ্টা করত এবং যেই পরিমাণ হাত-পা ছোড়াছুঁড়ি করত সেই জাল ঢিলা হবার পরিবর্তে আরও বেশি কষে যেত। এই কঠিন ও কষ্টপূর্ণ জীবনের ওপর আরেকটি মুসীবত ছিল এই যে, তারা অনেক ব্যাপারেই উচ্চ শ্রেণীর অনুকরণ করতে গিয়ে আরো বেশি পেরেশানীর শিকার হতো জীবন যাত্রার অপরিহার্য প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে তাদের যেটুকুর সম্মুখীন হতে হতো না। ফলে তাদের জীবন ছিল অহরহ বিস্বাদ এবং আপাদমস্তক যন্ত্রণাপূর্ণ। তাদের মস্তিষ্ক সর্বদাই পেরেশান ও বিশৃংখল। থাকত। প্রকৃত শান্তি-সুখ ও চিত্তের প্রশান্তি তাদের কখনোই জুটতো না।